somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুলেন ব্যারী সিনড্রোম (জি.বি.এস.)

১৭ ই জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হঠাৎ করেই ছােট ভাইয়ের পায়ের পাতা দুটোই দূর্বল হওয়া শুরু করে । আস্তে আস্তে পা থকে কােমর পর্যন্ত অবশ হয়ে যায় এবং হাত ও দূর্বল হওয়া শুরু করে। সাধারনত এভাবেই শুরু হয় গুলেন ব্যারী সিনড্রোম বা জি.বি.এস.।

যদি আপনার কােন আত্বীয় এই রােগে আক্রান্ত হয়, তাহলে ভয় পাওয়ার কােন কারন নেই। কেননা সময়মত ও সঠিক চিকিৎসায় এই রােগ সম্পুর্ণরুপে নির্মূল করা যায়।

গুলেন ব্যারী সিনড্রোম (জি.বি.এস.) কি ?:
জি.বি.এস. হল এমন একটি মারাত্বক রােগ যা শরীরের একাধিক স্নায়ুতে প্রদাহের ফলে মাংশপেশীকে দূর্বল করে ও ধীরে ধীরে বােধশক্তি কমিয়ে দেয়। পৃথিবীতে প্রতিবছর ১ লক্ষ মানুষের মাঝে ৩ জন জি.বি.এস. রােগে আক্রান্ত হয়। যেকোন বয়সেই জি.বি.এস. হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ৩০-৩৫ বছর বয়সী এবং পুরুষদের এই রাগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই রােগ কেন হয় ?:
যদিও এই রােগ আক্রান্ত হওয়ার সঠিক কােন কারন এখন পর্যন্ত জানা যায়নি তবুও নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে এই রােগের উৎস হিসেবে ভাবা হয়:
১. কিছু ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এই রােগ হতে পারে, যেমন- এইডস, হারপেস সিমপ্লেক্স, ম্যাগনিওক্লিওসিস ইত্যদি।
২. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে এই রােগ হতে পারে।
৩. অনেক সময় সার্জারীর পরও এই রােগ হতে পারে।

এই রােগের চিহ্নসমুহ:
খুব দ্রূত খারাপ অবস্থার দিকে যেতে পারে এই রােগ। কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিনের মাঝে রােগীর হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। দুর্বলতা সাধারনত পা থেকে শুরু হয় এবং দুইপা সমানভাবেই আক্রান্ত হয়। আস্তে আস্তে পুরো পা থেকে কােমর পর্যন্ত অবশ হয়ে যায় এবং হাতও আক্রান্ত হওয়া শুরু করে। যেসব চিহ্নসমুহ দেখে জি.বি.এস. রােগ চেনা যায় সেগুলোর কয়েকটি নিম্নে দেয়া হল:
১. দুই পা এমনকি অনেকসময় দুই হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাওয়া।
২. হাত ও পায়ের বােধশক্তি কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া।
৩. মাংশপেশীতে ব্যাথা হওয়া।
৪. শরীরে স্বাভাবিক রিফ্লেক্স প্রক্রিয়া কমে যাওয়া।

যেসব অবস্থা দেখে বুঝবেন রােগটি মারাত্বক আকার ধারন করেছে:
১. শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়া।
২. দীর্ঘশ্বাস না নিতে পারা।
৩. হঠাৎ নিশ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৪. খাবার চিবাতে ও গিলতে সমস্যা হওয়া।
৫. মুখ দিয়ে লালা পড়া।

জি.বি.এস. রোগ নির্নয়ের উপায়:
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রােগীর রােগ বর্ণনা শুনে ও বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে জি.বি.এস রােগ নির্নয় করে থাকেন। সাধারনত এই রোগের জন্য যেসব প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানো হয় সেগুলো হল:
১. সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড টেস্ট
২. ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
৩. ইলেকট্রোমায়োগ্রাফী
৪. নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি টেস্ট
৫. পালমোনারী ফাংশন টেস্ট
৬. রিফ্লেক্স টেস্ট

রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি:
জি.বি.এস. এর চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারী টিম একসাথে কাজ করতে হয়। এই টিমে থাকেন:
১. নিউরোলজিস্ট
২. জেনারেল ফিজিশিয়ান
৩. ফিজিওথেরাপিস্ট
৪. অকুপেশনাল থেরাপিস্ট
৫. রোগীর অভিভাবক
প্রাথমিকভাবে রােগ নির্নয়ের পর রােগীর স্নায়ুর প্রদাহ বন্ধ করার জন্য এবং পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও ভাইরাল ইনফেকশন বন্ধ করার জন্য ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু রােগীর মাংশপেশীর শক্তি বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঔষধ প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রূত ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা। সময়মত সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় এই রােগ সম্পূর্নরুপে নির্মূল করা যায়।

জি.বি.এস. এর চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা:
একজন নিওরোলজিকাল ফিজিওথেরাপিস্ট এসেসমেন্ট এর মাধ্যমে রােগীর রােগ নির্নয় করেন এবং তার শারীরিক সমস্যা খুঁজে বের করেন। এসব সমস্যা চিহ্নিতকরণসহ রোগীর পুনর্বাসন পরিকল্পনা করে থাকেন ফিজিওথেরাপিস্ট ।
একজন নিওরোলজিকাল ফিজিওথেরাপিস্ট যেসব সমস্যা নিয়ে কাজ করে থাকেন সেগুলো হল:
১. ব্যাথা কমাতে সাহায্য করা।
২. মাংশপেশীর শক্তি বৃদ্ধি করা।
৩. বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়ানোর ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা।
৪. বসা, দাঁড়ানো এবং হাঁটার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা।
৫. বসা বা দাড়াানো অবস্থার ব্যালেন্স বাড়াতে সাহায্য করা।
৬. রোগীকে সঠিকভাবে হাঁটা শেখানো।
৭. রোগীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা।
৮. হাঁটার জন্য সহায়ক উপকরন প্রেসক্রাইব করা
৯. রোগী ও রােগীর আত্বীয়স্বজনদের জি.বি.এস. এর পরবর্তী জটিলতা সম্পর্কে জানানো এবং এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় জানানো।

জি.বি.এস. আক্রান্ত রােগীর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা শুরু করা উচিত। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়ই এই চিকিৎসা শুরু করতে হয়। একমাত্র সঠিক ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার মাধ্যমেই একজন জি.বি.এস. রােগীকে সঠিক পুনর্বাসন করে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব।

নুরজাহান আক্তার শাপলা
ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিষ্ট,
সি. আর. পি.
সাভার, ঢাকা।
ই-মেইল: [email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:৫৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×