somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষতাঃ তৃতীয় মাত্রার জিল্লুর রহমানের মুচকি হাসি

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদিন হঠাৎ তৃতীয় মাত্রা দেখতে দেখতে জিল্লুর রহমানকে তাঁর নির্বাচিত অথিতিকে একটা প্রশ্ন করতে দেখি। তিনি খুব নির্দোষ ভাবে জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা, আমার ঠিক জানা নেই “ধর্মনিরপেক্ষতা” এই শব্দটা মুক্তিযুদ্ধের আগে কোন ঐতিহাসিক ডকুমেন্টে উল্লেখিত হয়েছিলো কিনা? যদি এ বিষয়ে বলতেন? যাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি বেশ জোরের সাথেই বলেন, হ্যাঁ ছিল, অবশ্যই ছিল। তখন জিল্লুর রহমান খুব বোকার মত বলেন, ও, তাই ছিল, আচ্ছা বলবেন, কোন ডকুমেন্টে ছিল, ছয় দফা নাকি ১১ দফায়? এবার যাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি ঘামতে থাকেন, আর জিল্লুর রহমানের ঠোঁটে মৃদু হাসির রেখা দেখা যায়। যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি তখন বলেন, আচ্ছা, আমার এখন মনে পড়ছে না, আমি আপনাকে পরে জানাবো।

এরপর, আরেকদিন; তৃতীয় মাত্রা দেখছি, আবার সেই প্রশ্ন, আচ্ছা, আমার ঠিক জানা নেই “ধর্মনিরপেক্ষতা” এই শব্দটা মুক্তিযুদ্ধের আগে কোন ঐতিহাসিক ডকুমেন্টে উল্লেখিত হয়েছিলো......। সেই একই প্রশ্ন, একই ধরণের উত্তর আর জিল্লুর রহমানের মুচকি হাসি।

সঙ্গত কারনেই প্রশ্ন জাগে জিল্লুর রহমান সাহেব কেন এটা দেখে নিলেন না? একই প্রশ্ন বারবার করতে হচ্ছে কেন? আসল উত্তর হচ্ছে উনি খুব ভালো করে দেখেছেন এবং নিশ্চিত হয়েছেন “ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দটি মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী কোন ডকুমেন্টে ছিল না। উনার এই প্রাজ্ঞতা দিয়ে উনি উনার মেধাহীন অতিথিদের ন্যাংটা করে দিয়ে মজা নেন আর মুচকি মুচকি হাসেন। উনার অতিথিদের জ্ঞানের বহর এমন যে এতদিনেও কেউ উনার মজা নেয়াটা বন্ধ করতে পারলো না। বন্ধুবর মাসুদ রানার সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আলোচনার একটা পর্যায়ে, এই বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনা মাসুদ রানার অসাম্প্রদায়িকতা শিরোনামের একটি লেখায় গ্রথিত ছিল। এবার সেই লেখা থেকেই জবাবটা দিচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়টি ব্যাখ্যার জন্যে ‘প্রিন্সিপল অফ ইনভেলিডেশন এ্যাণ্ড জাস্টিফিকেশন' - অর্থাৎ বাতিলায়ণ ও ন্যায্যায়ণ নীতির দ্বান্দ্বিক ক্রিয়া বুঝা প্রয়োজন।

ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ‘আণ্ডারপিনিং' বা টিকিয়ে রাখার সমর্থনে ক্রিয়াশীল থাকে একটি আদর্শবাদ। প্রতিষ্ঠিত সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন হয় তার পক্ষের আদর্শবাদটির ‘ইনভেলিডেশন' বা বাতিলায়ণ। কিন্তু এই বাতিলায়ণ সম্ভব হয় না, যদি-না একটি বিকল্প প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ‘জাস্টিফিকেশন' বা ন্যায্যায়ণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো হিন্দু-মুসলিম দ্বিজাতি তত্ত্বের দ্বারা অভিন্ন ভারতীয় জাতি তত্ত্বের বাতিলায়ণের মাধ্যমে। মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ্‌র দ্বিজাতি তত্ত্ব অভিন্ন ভারত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধতাকে বাতিল করে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্যতা এনে দিয়েছিলো। দ্বিজাতি তত্ত্বের আদর্শ ছাড়া ভারত বিভাগ সম্ভব ছিলো না।

আমরা পরবর্তীতে দেখি, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য পূর্ব-বাংলার প্রয়োজন ছিলো দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবিকৃত তথাকথিত মুসলিম সাম্যের বৈধতার বাতিলায়ণ। বাঙালীকে তাই পাকিস্তানের আদর্শিক ভিত্তিমূলে - অর্থাৎ, ধর্মবাদের উপর -আঘাত করতে হয়েছিলো ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ দিয়ে। সেখানে ‘ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দটি উচ্চারিত হয়েছিলো কি-না সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আমাদের বুঝার জন্য প্রয়োজন যে, পূর্ব-বাংলার মানুষ তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়কে রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে বাতিল করে জনজাতিক পরিচয়ের ন্যায্যতাদায়ী যে-আদর্শবাদের জন্ম দিয়েছিলেন, তা ছিলো ধর্মনিরপেক্ষ। যেহেতু ২৪ বছর আগে ধর্মীয় পক্ষপাতের ভিত্তিতে বাঙালী পাকিস্তান গড়েছিলো, তাই পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার জন্ম ছিলো অনিবার্য। ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা ছাড়া পাকিস্তান ভাঙ্গা সম্ভব ছিলো না।

আশা করি মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অবিচ্ছিন্নতার বিষয়টি এরপর কেউ জিল্লুর রহমান সাহেবকে বুঝিয়ে দেবেন এবং উনার স্যাডিস্টিক মুচকি হাসা বন্ধ হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:২৮
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিটেকটিভ, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার: মধ্য বৃত্ত

লিখেছেন রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ), ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৭


প্রফেসর সাজিদ এলাহী, বয়স সাতান্ন। ইংরেজি বিষয়ের প্রফেসর। লম্বা চওড়া শরীর, গায়ের রং হালকা তামাটে। প্রতিদিন সকালে উঠে এক ঘণ্টা করে হাঁটাহাঁটির কারণে এখনও শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট নয়। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোষ্ট প্রকাশের পর, আপনি কি কিছুক্ষণ সামুতে থাকেন?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৫০



আমি পোষ্ট দেয়ার পর, বেশ কিছু সময় সামুতে থাকি; ঘর থেকে বের হওয়ার আগে, আমি প্রায়ই পোষ্ট দিই না সামুতে। অবশ্য আজকাল, আমি আমার নিজের নিয়মও খুব একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত ইবাদত এবং হালুয়া রুটি খাওয়ার উৎসবের ঘনঘটা

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২২

BVNEWS24 ||



আলোকসজ্জা করা যাবে কি?
শবে বরাত রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আলোকসজ্জা করেছেন। এর মাধ্যমে একটি উৎসবের আমেজ তৈরি করা হয়। এই উৎসব করা কিসের ভুল? উৎসব মাধ্যমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র লাইলাতুল বরাত রজনীতে মডারেট মুসলিম হওয়া উদাত্ত আহ্বান জানাই।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪


শবে বরাতের সাথে খানাদানার একটু সম্পর্ক আছে। তাই শুরুতেই হালাল খাবার।

ব্লগে ঢুকে দেখি শবই বরাত নিয়ে দুইটা পোস্ট আসছে।এই ব্লগ সকল ব্লগারের মত প্রকাশের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। ব্লগটিমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ জাতিসংঘেও পাঠাতে পারবো একটা স্মারক চিঠি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২৬



হৃদয়ে আবার কাঁপন - একটা ঠিকানার কি এক তৃষ্ণায়
মনে হয় আবার এসেছে ফিরে আরেক শীতকাল;
পশ্চিম আফ্রিকার সব তাপমাত্রা নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আমি কি এক প্রাণপণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×