somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্যাগান, সর্ব প্রাচীন

০৮ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানব সভ্যতার শুরুতে এই গ্রহের সব মানুষই প্যাগান ছিল । তারা ছিল প্রকৃতি পুজারী । পৌত্তলিক টার্মস টা প্রতিপক্ষ দের দেয়া, নিজেদের সাথে পার্থক্য বোঝাতে । কিন্তু প্রকৃত পক্ষে প্রকৃতি পুজাই পাগানিজম এর অন্তর্নিহিত অর্থ । প্যাগানদের পাপ পুন্যের কোন কনসেপ্ট ছিল না । তাদের মাঝে অপরাধ বোধ ছিল অবান্তর। কাজে কাজেই স্বর্গ নরক বা শাস্তি পুরস্কারও ছিল অবান্তর । মানুষের উপর জ্ঞানের বোঝা ছিল না । যে মুহূর্তে রিজন বা যুক্তি বা হেতু র ততপরতা শুরু হল ,সেই মুহূর্তেই মানুষ খন্ডিত হতে থাকল । মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য গুলো বিপরীত এবং নেতিবাচক রূপে পরিবেশিত হতে শুরু করলো। সময়ের তারতম্যে বিশ্বজুড়ে প্যাগান জনগোষ্টির উপর শুরু হল সংগঠিত হামলা । সূচনা করলো কাউকে বড় আবার কাউকে ছোট করার । ফলে কেউ এদিকে, কেউ ওদিকে যেতে বাধ্য হল । কোনটাকে উন্নততর, কোনটাকে অধপতিত হিসেবে ঠিক করা হল। সবই পরিকল্পিত । যুক্তি জ্ঞান এর মর্মার্থই হল পরিকল্পিত বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ খাটিয়ে প্রতিপক্ষকে বশে আনা। ফলে মানব সভ্যতা ভারসাম্যহীন হতে শুরু করলো । যেহেতু প্যাগান রা যুক্তি হেতু এসবে সমর্পণ করেনি কখনো, তাই প্রয়োজন পড়েছিল যুদ্ধ এবং দাঙ্গা দিয়ে জোর খাটানোর । যখন একটি শিশু জন্ম নেয়, তখন সে প্যাগান । প্রত্যেক টা শিশুই প্যাগান হিসেবে জন্ম নেয়। কোনটা ভালো কোনটা মন্দ তা সে জানে না। তার সামনে কোন আদর্শ মতবাদ কিছুই থাকে না। ক্ষুধা পেলে সে খায়,ঘুম পেলে ঘুম যায়। সে নিজের উপর হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু অচিরেই সে তার এই সরলতা হারিয়ে বসে। যদিও এটাই অনিবার্য এবং অনতিক্রম্য। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিনত হবার সুযোগ কেউ পায় না। তার সরলতার মাঝে বাইরে থেকে, যা তার সহজাত নয়, সেরকম সব কিছুকে প্রবিষ্ট করানো হয় । মানুষ সরল হতে চায়। কিন্তু তার জীবনে সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায় সেই সরলতাকে আবার ফিরে পাওয়া। সে বুঝতে পারে এর চেয়ে কঠিন এবং আয়ত্বের বাইরে আর কিছুই নেই । তাই মানুষ সে চেষ্টা থেকে বিরত থাকে। তার পরিবর্তে সে নাস্তিক হয় । নাস্তিক হওয়ার ইতিহাস দুর্গম হলেও, হালে তা যত সোজা, প্যাগান হওয়া তত কঠিন। নাস্তিকতা একটা ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া মাত্র এবং সেটাও অনিবার্য । অথচ মানুষ একদিন প্যাগান ছিল । প্যাগান দের থেকে অনেক কিছু ধার নিয়েছে ইশ্বরের প্রতিনিধিরা কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় ঋণ স্বীকার করেনি কোন কালে। অশ্রদ্ধা, ঘৃণা এবং অহংবোধ হচ্ছে তার মূল উপাদান ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৫৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×