somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হবু ব্যাংকারদের জন্য আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

৩০ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চাকুরি প্রস্তুতিপর্বে ক্যাম্পাসে একটা আওয়াজ শুনতাম চাকরিতে হয় র‌্যাংক, না হয় ব্যাংক। সম্ভবত একদিকে সমাজে জলপাই রঙের ব্যাপক প্রভাব প্রতিপত্তি, অন্যদিকে নির্বিবাদি জীবনে অসদুপায় অবলম্বন না করেই নিপাট ভদ্রলোক সেজে মাসকাবারি ভালো মাইনে আর বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বেকার সমাজই এই প্রবাদ চালু করেছিল।

র‌্যাংকওয়ালাদের ভেতরের অবস্থা কি, আমি বলতে পারবো না। তবে ব্যাংকের ব্যাপারে ওই প্রবাদের মত স্বপ্ন দেখতে থাকলে সে আশার গুড়ে বালি, শুধু বালি কেন; বরং কক্সবাজারের কয়েকটি পাহাড়সহ ১২০ কিলোমিটারের লংগেস্ট আনব্রোকেন স্যান্ডি বিচের পুরোটাই ওই গুড়ের ভেতর এখন ডুব সাতার দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো, দুই হাত-দুই পা ওয়ালা যে প্রাণীটা পৃথিবীতে চড়ে বেড়ায়, তা যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, এক ভাগ হলো মানুষ আর অন্যভাগ হলো ব্যাংকার। অর্থ্যাৎ হয় তুমি মানুষ হও, না হয় ব্যাংকার!

দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, ইমিগ্রেশন, চিকিৎসা, যোগাযোগ, সাংবাদিক সমাজসহ প্রশাসনের কিছু বিভাগ এবং আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের জব ন্যাচারটাই এমন যে, উৎসব আনন্দের দিনও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। যারা এ সব জবে জয়েন করে, তারা এই ক্রাইটেরিয়াগুলো জেনে বুঝেই জবগুলোতে জয়েন করেন।

কিন্তু, কবে, কখন, কিভাবে কোন খিড়কি দরজা দিয়ে ব্যাংকিং পেশাটা এই তালিকায় প্রবেশ করলো, সে বিষয়ে মহামতি হেরোডটাস বা অগাস্ট কোৎ এর অনুসারীরা কিছুই বলেননি অদ্যাবধি। যেহেতু তারা কিছু বলেননি, আমিও জানি না। আমি শুধু এটুকুই জানি যে এখন আমাকেও প্রতি ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অফিস করতে হয়, এমনকি ঈদের দুদিন পর আজ এই শুক্রবারেও অফিস করতে হচ্ছে।

মনে হচ্ছে ফোন অপারেটরদের হিডেন চার্জের মত কিছু হিডেন ক্রাইটেরিয়া ব্যাংকিং জবেও আছে। সামনের দিনে হয়ত দেখা যাবে রিক্রুটমেন্ট অ্যাডের নিচের দিকে কোণায় তারকা চিহ্ন দিয়ে লেখা থাকছে “হিডেন জব ক্রাইটেরিয়া অ্যাপ্লিকেবল!!”

প্রেসিডেন্ট এরশাদের অনেক কল্যাণকর কাজের মধ্যে একটা ছিল প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেয়া। সরকারি ব্যাংকের অত্যাচার থেকে মুক্ত করে জনগণের কাছে ব্যাংকিংসুবিধা পৌঁছে দিতে এটা ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ১৯৮৩ সালে এই প্রজন্মের প্রথম ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আরব বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময়ের অন্যতম আরেকটি ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক। এই পর্বে ১২টির মত ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময়ে শিক্ষিতদেরকে ডেকে ডেকে এনে বেসরকারি ব্যাংকগুলো চাকুরি দিয়েছে। তারাই এখন বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাত পরিচালনা করছেন।

এরপর খালেদা জিয়ার প্রথম পর্বে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক আসে বাংলাদেশে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এ সময়ে আটটির মত ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অর্ধেকের বেশি ছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। শেখ হাসিনার প্রথম টার্মে এসে আবারো রাজনৈতিক বিবেচনায় তেরটির মত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আমাদের দেশের ছোট্ট অর্থনীতির জন্য এ পর্যন্তই যথেষ্ঠ ছিল। বিএনপি দ্বিতীয় আমলের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান তাই প্রবল দলীয় চাপ উপেক্ষা করে নতুন ব্যাংক দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

কিন্তু দেশের ব্যাংকিংখাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয় বর্তমান সরকারের সময়ে যখন সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরো ১১টা ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়। এতগুলো ব্যাংকের কারণে কর্মসংস্থান বাড়লেও কর্মপরিবেশের বারোটা বেজে গেছে রীতিমত হাইড্রোলিক হুইসেল বাজিয়ে। এখন ব্যাংক তো আর সেই নিপাট ভদ্রলোকের অফিস না, ব্যাংক এখন মুদি দোকান। এখন পাড়ায় পাড়ায় ব্যাংক। গলির এ মাথায় একটা ব্যাংক, ও মাথায় আরেকটা ব্যাংক। ব্যাংক না থাকলে সেবাঘর, ফাস্ট ট্রাক-সেকেন্ড ট্রাক, কত্ত কি। অনেক সময় ট্রাকের উপর চলন্ত ব্যাংকও দেখি।

ফলাফলও হাতে নাতে পাচ্ছি। ক্ষুদ্র অর্থনীতির এই দেশে প্রয়োজন-অতিরিক্ত ব্যাংকের মুনাফা ক্ষুধা মিটাতে গিয়ে ব্যাংকারদের অবস্থা শোচনীয়। ব্যাংকাররা এখন আর ব্যাংকার নয়, তারা আজব এক চিড়িয়া-
ঈদের আগের দিন পর্যন্ত গরুর হাটে ফেইক নোট চেক করবে কে? কেন ব্যাংকার;
আপন জুয়েলার্সের মত দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স জমা নেয়ার জন্য ছুটির দিনে অফিস করবে কে? কেন ব্যাংকার;
কোন উৎসব, দুর্যোগে, প্রয়োজনে অফিসে থাকতে হবে কাকে? কেন ব্যাংকারকে;
অতিরিক্ত আমানত সংগ্রহে সন্ধ্যার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীর দাওয়ায় গিয়ে ম্লানবদনে সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকবে কে? কেন ব্যাংকার;
ক্লায়েন্টের অন্যায্য কুৎসিৎ গালি খেয়েও হাসি হাসি মুখে সেবা দিতে হবে কাকে? নিশ্চিতভাবেই ব্যাংকারকে;
আন্ডারওয়্যারের ভেতর থেকে বের করে দেওয়া নোংরা ঘামে ভেজা টাকাটা প্রতিক্রিয়াহীনভাবে গ্রহণ করে দুহাতে গুণবে কে? সেও তো ব্যাংকারই;
অপরিসীম চাপ সামলে স্বল্পতম সময়ে শতভাগ নির্ভূল সেবা দিলেও কোন একটা ভূলের সাথে সাথেই শাস্তির আশংকায় কে থাকবে? অবশ্যই সে একজন ব্যাংকার;


তারপরও সময় মত প্রমোশন পেতে কর্তৃপক্ষের দিকে করুণভাবে চেয়ে থাকতে হবে সেই ব্যাংকারকেই!!!

তবুও হতাশ হবেন না। আমরা বৃটিশ কলোনিয়াল ডগ; চাকুরি আমাদের করতেই হবে। সে যে চাকুরিই হোক। জানেন তো; জীবন মানেই জি-বাংলা আর চাকুরি মানেই চাকর। সে ব্যাংকেই হোক আর র‌্যাংকেই হোক।

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত

ব্যাংকিং জেনারেশন এর সূত্র


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×