somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভু টু ক চা নে র ডা য় রি ✍ রাতের ট্রেনে পিকাসো ও বাঙালি যুবক এবং আমার হ্যালোসিনেশন।

১৮ ই জুলাই, ২০১৩ ভোর ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোনো এক আশ্চর্য কারণে সামনের যুবক আমাকে বাঙালি ভাবছে না। আমি নিজের চেহারাটা একবার মনে করার চেষ্ঠা করলাম। নাহ সবই তো ঠিক আছে! তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা আসলে আমার না, যুবকের। সে হয়তো এমন পরিস্থিতিতে আছে যে কাউকেই ভাবনায় নিতে পারছে না। আমি এই রাতের ট্রেনে যুবকের মুখোমুখি বসে আছি, তবে একটু দূরত্বে। দূরে হলেও তার সকল ফোনালাপ আমার কানে আসছে। মেট্রো’র বিভিন্ন চেহারার মানুষের ভিন্ন ভাষার ভীড়ে স্বদেশী ভাষা ঠিকই বুঝতে পারছি।
- ‘দ্যাখো, চার বছরে আমি ৩টা দেশে বৈধ্যতার জন্য চেষ্ঠা করেছি। সবাই রিজেক্ট করলে আমি কি-ই-বা করতে পারি বলো?’
রাতের ঘরে ফেরা ক্লান্ত মানুষগুলোকে বয়ে চলা মেট্রোর পরিবেশটা যেনো আরো ভারি হয়ে যাচ্ছে যুবকের কথার আকুলতায়।
- ‘আমি বুঝতে পারছি তোমার বয়স হচ্ছে কিন্তু কি করি বলো? কাগজের আশায় জমানো সবকিছুই তো শেষ। দেশে ফিরলে তো আগের চেয়ে নিঃস্ব হয়ে ফিরতে হবে। তখন তো তোমাকে পাওয়ার শেষ সম্ভাবনাও ফুরিয়ে যাবে।’

আমি চেষ্ঠা করছি যুবকের কথাগুলোর দিকে মনোযোগ না দেয়ার। কিন্তু হচ্ছে না। কথাগুলো যে খুবই পরিচিত আর ধেয়ে আসে মস্তিস্কের দিকে। অনেক কথার পর তার শেষ কথাগুলো ছিলো, ‘তুমি যদি মনে করো এখনকার প্রস্তাবটা ফেরাতে অসম্ভব, তাহলে তাই করো।’
যুবকটি ফোন কেটে দিলো। আমি অপ্রস্তুতের মতো তার দিকে তাকাতে গিয়ে তার চোখে চোখ পড়ে গেলো। তখন কিছু আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো! আমার মনে হলো মেট্রো’র দৃশ্যটা খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখানে আমি আর সেই বাঙালি যুবক ছাড়া অন্যরা সরে যাচ্ছে, ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাতের ট্রেনটা। এবং হঠাৎ আমার মনে হলো সেই যুবকটা ফ্রেমে বাঁধানো কোনো ছবি হয়ে হঠাৎ খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়লো!

মেট্রোতে আমি আর সেই যুবকের ছড়িয়ে পড়া টুকরোগুলো ছাড়া আর কাউকে চোখে পড়ছে না। এখানে সেখানে তার বিভিন্ন অঙ্গ ছবি হয়ে ভাসছে। কোথাও চোখ, কোথাও মস্তক কোথাও বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গগুলো হাওয়ায় ভাসছে। আমি কোনো ভাবেই এর মানে বুঝতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিলো মাথা যেনো আমার ঘাড়ের উপরে নেই। এবং আমি তখন বুঝতে পারলাম আমার হ্যালোসিনেশন হচ্ছে!

সেই অদ্ভুত ট্রেনে আমি যেনো এক কাল্পনিক জগতে চলে গেলাম। তখন আরো অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ডাব্বার শেষ মাথায় কেউ একজন বসে আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসছে। আমার বিষ্ময় দেখে সেই ভদ্রলোক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন তাকে চিনতে পেরেছি কি না। আমি তার হাসি দেখে চিনতে না পারলেও মাথার টাক দেখে চিনতে পারলাম। বল্লাম, মঁসিও (জনাব) আপনি? আরে এই মেট্রো-টা তো আপনার নামে যে স্টেশন আছে প্যারিসে সেখান থেকেই এলো, ববিনি পাবলো পিকাসো।
তিনি হাসলেন। তাকে দেখে তাড়াতাড়ি আমার মাথায় চলে আসলো যে, এই যে যুবকের অদ্ভুত ছবি আমি দেখতে পাচ্ছি, সেই প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করা দরকার। কারণ তিনি তো বিমূর্ত চিত্রকলার প্রবর্তক। অদ্ভুত সব ছবি এঁকে পৃথিবীকে তাঁক লাগিয়ে সেই যে গেছেন এখনও তা থেকে মানুষ বের হতে পারেনি। তার ছবিগুলোতে মানুষের অঙ্গ-প্রতঙ্গ যথাস্থানে থাকতো না। চোখের যায়গায় নাক, নাকের জায়গায় কান এমন অদ্ভুত ক্রিয়াকলাপ থাকতো পাবলো পিকাসোর ছবিতে! এই ট্রেনে যে যুবক ভাস্যমান তার সাথে বেশ মিল আছে পিকাসো সাহেবের চিত্রের। অবাক ব্যাপার তিনি আমার মনের কথা বুঝতে পারলেন! বল্লেন শোন, মানুষ ভেতরে বাহিরে বিদ্বস্থ হয়। যদি তার ভেতরের রূপটা ধরা যেতো তাহলে এই যুবকের ভাস্যমান দৃশ্যের মতো হতো! তোরা এসব বুঝবি না।

আমার আর ভালো লাগছিলো না। পেটের ভেতরে যে চুরমার প্রক্রিয়া চলছিলো সে এতোক্ষণে নাড়াছড়া দিয়ে উঠলো। তাই মনে মনে বল্লাম, পিকাসো বাবা তুমি বিদায় হও! আমার মাথা এমনিতেই আওলায়া গেছে আর আওলানো ঠিক হবে না। পিকাসো মুছকি হাসি দিয়ে ধূসর হতে থাকা ট্রেনটায় মিশে গেলেন।
আর তখন খেয়াল করলাম মেট্রোটা তার গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। আমাকে নেমে যেতে হবে। কিন্তু এখনও আমার সেই আলো-আধারী ভাব কাটেনি। ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার সময় দেখলাম সিটের উপর সেই বাঙালি যুবকের একটা চোখ পড়ে আছে। আমি সেই চোখের দিকে তাকাতে দেখলাম সেও তাকিয়ে আছে। নেমে যেতে যেতে মনে হচ্ছিলো এই চোখটাকে আমি চিনি। কোথায় যেনো দেখেছি। এ যে অনেক দিনের চেনা কোনো মানুষের চোখ! আমি ভাবতে ভাবতে অবাক হয়ে আবিস্কার করলাম, এই চোখটাই তো আমি প্রতিদিন আয়নায় দেখি!

লেখাটি প্রবাসি ফেসবুকের এই পেজেও প্রকাশিত।
Click This Link
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×