চারবছর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় যখন অনেকেই চাকুরীর বাজার ঘেটে ফেলেছে , ভাবিই নি চাকুরী নিয়ে কোনদিন। কি করব , কি হবে............কখনই জানতাম না। বাবার গুতোয় গুতোয় প্রবল অনিচ্ছার আড়ালে ইনিঞ্জনিয়ার হবার কাগজীয় প্রমানপত্র প্রাপ্তির কদিন পরেই শেষ ডেট এর সুফল পেয়ে 24তম বিসিএস এর ফর্ম ফিলাপ করতে হলো। এর পর সেই মুক্ত বিহঙ্গের জীবন। ছোট বেলা থেকেই কষ্টকর একাডেমিক লেখাপড়ার অনিচ্ছুক কিন্তু সত্য টেনশন নিয়ে মাথা জঞ্জাল বানিয়ে ঘুরার কালে যে মুক্ত ফ্রি জীবন খুজতাম। ............ কিন্তু আমি কি আর ভেবেছিলাম চাকুরী বলে কিছু কথা কানে বাজবে চরপাশ থেকে।
দেয়াল ছুয়ে গেল ....................................কত কত চাকুরী ...জুটে গেল...কিন্তু ঐ যে দেয়ালে পিঠ ঠেকলেই ভেঙ্গে ফেলতে পারদর্শী । খালি ছেড়ে ছেড়ে দেই।পাওয়া আর চাওয়ার মধ্যে চাকরীতে অসামঞ্জস্য পৃথুল পরিমান। কি যে আমি আর কি যে চাই।
দৃষ্টি ক্ষীণ, মন ও বাইরে মনে হতো ভীষণ দেয়াল বাড়তে বাড়তে আমাকে কাহিল করে ফেলে.....................
ভাবি দেশ ছেড়ে দেব কি? মন চুপ করে থাকে কোন দিন কিছু বললই না... আড়াইবছর কখনও মুক্ত পাখি কখনও 2300 বছর পূর্বের দাস , কখনও পথিক কবি আবর কথনও ভন্ড শয়তান হয়ে কাটালাম। কেমনে জানি পাস করে গেলাম অজান্তে বিসিএস এর সবগুলো পর্বের দীর্ঘসূত্রিতা। ............................ভালই হয়েছে ৃদেয়ালে পিঠ ঠেকার বৈশিষ্ঠ কখনও ঠকায়নি চরম ভাবে ...বরং শিখিয়েছে........................মাটির তলাতেও জন্মে গাছ আগাছা .................
... কক্সবাজার থাকার ভীষণ বাসনা .সেই ছোট বেলা থেকেই ...তবে সেই ডিশিসন .নিতে কক্সবাজার আসার চয়েস সেচ্ছায় বরণ করতেও দেয়ালে ধাক্কা খেলাম শতবার................শেষে মন এর কাছে হেরে গেল বাস্তবতা.............. চাকুরীতে বন্দী দাস হয়েও আজ তাই মুক্ত মনে সাগরের জলে দিতে পারছি অঙ্গুলীর ঘোটা।
মনে পড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ একটা বিষয় ভীষণ জটিল লাগত। বিষয়টা ইলেকট্রিক্যাল মেশিন। কত কত যে কবিতা লিখেছি যে ওই বিষয়ের প্রতি পত্রের ক্লাশ গুলোতে বসে। ধন্য কিছু সুন্দর কবিতা সৃষ্টির সহায়ক ও বিষয়ের প্রতি। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন (আমাদের আইইউটিতে এক দুদিনের বেশী ছুটি থাকত না প্রতি বিষয়ের পরীক্ষার আগে) দেয়ালে পিঠ...............পাস তো করতে হবে। জীবনে ফেল এর রেকর্ড নেই মনের পাতায়..... রুমে রুমমেটAwf পড়ছে ...পাশের রুমে বন্ধূ ফয়সাল আর শাহরিয়ার পড়ছে ...অন্য বিষয়ে আমি ওদেও চেয়ে বেশীই পড়তে পাড়ি .....................
কিন্ন্তু মেশিন দুলাই পড়লেই তিনলাইন কবিতা এসে চেপে ধরে কষ্টের হাত থেকে মুক্তি দানের আশায়।
বারান্দায় পেয়ে গেলাম একটা পেপসির খোলা বোতল ( ফেলে রেখে দিলে দোকানের ছেলেটা এসে নিয়ে যেত) ভাঙলাম। কেন জানিনা। অতি উদ্ভ্রান্ত হতো মেশিন পড়তে গেলেই। যতবার ও বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হয়েছে কত কি যে ভেঙেছি...অভি জানে ...খুব ভালো করে... কিন্তু দেয়াল ভাঙতে পেরেছিলাম ।রাত বাড়তো যখন দুটো কবিতা মনে আনত ঝর্নার শীতল পরশ। তারপর নাক মুখ চেপে পরীক্ষাার হলে দেয়াল ভাঙার স্বপ্ন নিয়ে একটানা পড়ে যাওয়া সারা রাত... ............নির্ঘুম প্রায়
এক সেমিষ্টারে ও বিষয়ে এ + ও পেয়েছিলাম।
মনে রাখবেন , দেয়ালের সব জায়গায় আঘাত করে লাভ নেই , সঠিক জায়গা খুঁজে একটা আঘাতেই দেয়াল ভাঙা যায়। যদিও সময় লাগে আমার শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত।
দেয়ালে পিঠ ঠেকলেই হুশ হয় আজও আমার , মাঝে মাঝ চেহারায় প্রবল ছাপ পড়ে তাই নিঘর্ুম জোড় জবরদস্তির।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


