somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইইউটির প্রথম রি ইউনিয়নের ম্যাগাজিনে এক্স স্টুডেন্ট ,আমার লেখা

০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

( উল্লেখ্য যে, বাংলা লেখাটি ছাপানো হয়নি , ইংলিশ অনুবাদ টি ছাপানো হয়েছিল)

মনে পড়ে সেই আইইউটির দিনগুলো
------------------------------
মামুন মঞ্জুরুল আজিজ

মনে পড়ে সেই রাত গভীরে মাঝে মাঝে হাসি হাসি মুখে কত হেঁটে চলেছি লাল ইটের রাস্তা পেরিয়ে হাইওয়ের পথ ধরে ধরে। মনে পড়ে হঠাৎ দু একটা বাস ট্রাক চলে যেত কালো পিচের পথের ধারে ভীষণ কাঁপন ধরিয়ে। রাত 1 টা-2 টা, কতদিন চায়ের দোকানে বসে পথের সে কম্পনে চায়ের তরলে ভীষণ কাঁপন মনকে নাড়া দিত।
মনে পড়ে সারাদিন ক্লাশে সহপাঠী বন্ধুদের সমারোহ। সন্ধ্যার পর কখনও কখনও সময়কাটানো তাসের আসরে। নতুন কোন মুভির দিকে মুগ্ধতা কিংবা ব্যপক বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে থাকা বন্ধুপ্রতীম অনেকগুলো দৃষ্টির সাথে কারও রুমে কম্পিউটারের পর্দায়। রাতের পর রাত ডুবে থাকা কোন বই এর পাতায় কিংবা আমার কবিতা লেখার খাতায়।
মনে পড়ে আজও পরীক্ষার সেই দিন গুলাতে ঘুমকে গলা টিপে হত্যা করে কালো কালো অক্ষরগুলোর সাথে নিবিড় সখ্যতা। ডরমেটরির লাল ইটের আড়ালে বদ্ধ রুমে ধোঁয়া তখন জাগাত পড়ার প্রতি নিবিড় ভালবাসা। ভাগাভাগি করে কিনতাম সিগারেট আমি আর আমার চারবছরের অবিচ্ছিন্ন রুমমেট Awf, বিনিদ্র রাত পার করার মহৌষোধ যেন। রাত গভীর থেকে গভীরতর হতো, ধোঁয়ার রাজ্যে লেখাপড়ায় ব্যস্ত হতো দুটি যুবক। আর চলত একটু পরপর শেয়ারে শেয়ারে ধোঁয়া উড়ানোর খেলা পড়াশোনার মাঝে মাঝে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম মুহূর্তগুলোতে। কার কতদূর পড়া শেষ হলো জানতে হঠাৎ হঠাৎ ছুটে আসত পাশের রুম থেকে ফয়সাল ও শাহরিয়ার। হঠাৎ হঠাৎ কিছুক্ষণ কেটে যেত মুক্ত আড্ডায় পরীক্ষার রাতেও।
মনে পড়ে পরীক্ষার সেই দিনগুলোতে সহপাঠীদের চেহারাগুলো হতো ভীষন দেখার মতো। উজাগর রাতের ছাপ চোখে মুখে। বিকেলে প্রিন্স রেস্তোরায় খেতে বসেও মন সব যেন পড়ে থাকত বই এর পাতায়। দ্রুতই- মাত্র কয়েকদিনে শেষ হতো পরীক্ষার সে বিরহকাল। প্রিয় আইইউটির নয়নাভিরাম দৃশ্য নতুন করে চঞ্চল করত মন প্রাণ । হাফ ছেড়ে বাঁচত সবাই। কি প্রশান্তি! কেউ ব্যস্ত হতো খেলাধূলায় কেউ হয়তো ফিরে যেতে আপন আপন নীরে।
মনে পড়ে কত অজানা ছোটখাট কত শত ঘটনা। জেনারেটরের হঠাৎ অপমৃত্যুতে কখনও অাঁধার আর আঁধার এসে জড়ো হলে শুরু হতো ডরমেটরির এ ব্লক আর ও ব্লক এর মাঝে চেঁচামেচির যুদ্ধ। কত মজার স্মৃতি সব!
মনে পড়ে বাংলাদেশ যেদিন জিতল জিতল বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাথে, সে কি উল্লাস রাত ভর পুরাতন ডরমেটরি আর ক্যাফেটেরিয়ারের সেই মধ্যপরিসরে লাল ইটের উপর। এমনই সে উদ্দামতা, আনন্দে যোগ না দিয়ে পারেনি পাকিস্তানী সহপাঠীরাও।
মনে পড়ে টুকরো টুকরো কত ঘটনা, প্রেম বিয়োগের কথা কারও, কারও প্রেমের শুরু। কারও চোখে মুখে অশান্তি , কারও সুখ সুখ ঝর্ণায় ভেজার কাল্পনিক দৃশ্য। কারও ফোনের সাথেই কেটে যেত দেখতাম- দিনের অর্ধেকাংশ সময়ই। মনে পড়ে কখনও কারও কারও তাল বেতাল বাস্তব স্বপ্ন উদযাপন স্বপ্রনোদনেই। র্যাগ ডের দিনগুলোতে সেই বর্ণালী রঙ মেখে সং সাজার এবং সকলকে সাজানোর রঙিন বিকেল। নোংরা লেকের পানিতে দাপাদাপি কারও কারও। মনে পড়ে সে উদ্দাম আনন্দ উদযাপন , কারও মনে বিদায়ের সুরে আবার কারও কারও বিদায় দানের সহাস্য বদনে। মনে পড়ে যেদিন এল 2002 সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের বিদায়ের ক্ষণ। র্যাগ ডেতে উদ্দামতা ছড়িয়েছিল আমাদের প্রাণে প্রাণন্ত এবং সুশ্রী হয়ে। সন্ধ্যায় গানের আসরে নেচেছিলাম মন প্রাণ খুলে তাল মাতালে।
মনে পড়ে দীর্ঘ চার বছরে ঘটে যাওয়া অনেক অঘটনও । সেই 1999 এর ফেব্রূযারীতে ঘটে যাওয়া হাঙ্গামা। আমি মিস করেছিলাম সেদিন ভিন্ন দুই কমিউনিটির মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত বিশৃংখলা। ঢাকায় গিয়েছিলাম কোন কাজে। পরবর্তী দিন সকালে এসে তান্ডবের স্মৃতি চি
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:৪০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×