somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফটোগ্রাফী বিষয়ে আত্মকথা (১)

১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার ঝোক সীমা মেন চলেনি কখনও , চলেও না । ওখানেই বড় দোষ আমার। সাধ্যের বাইরেও সাধ আমার হয়েছে , আজও হয়। ইচ্ছে বা সাধের বা শখের কোন মাপকাঠি ছিলনা কখনও জীবনে। তাইতো মহাশূন্যে ঘুরে বেড়ানোর অসম্ভব , ক্ষমতাতীত সাধ আজও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে মনের কোন বন্ধ কারাগারে, থাকবে চিরকাল । হাস্যকর সব সাধ আমার এমন কত। তবুও দৌড়েছি হাতের স্পর্শ সীমায় এসছে যে সব সাধ তাদের পিঁছু পিঁছু। কিন্তু পথ যে ছাড়েনি , তাই দৌড়েছি আর দৌড়েছিই , থিতু হতে পারি নি কোন সাধের চারদেয়ালের ঘরে। তাই এ এক অসম্পূর্ণ জীবন আমার ...গিয়েছে অনেকদূর , জমেনি ঘটে তেমন বেশী, কেবল বৈচিত্রের ধূলো ছাড়া।

....ভূমিকা ডেভিয়েট করে দিচ্ছিল মূল বিষয় হতে আরেকটু হলেই...যাক মূল কথায় আসি...
আমার অনেক শখের মধ্যে একটি অন্যতম শখের কথা বলার সাধই মূল বিষয় আজকের এই পোষ্টে।
ছবি, সুন্দর সুন্দর আলোকচিত্র সেই ছোট বেলা থেকেই আকর্ষন করত। কিন্তু ঐ আকর্ষন পর্যন্তই। ক্যামেরা বা ফটো গ্রাফী সম্পর্কে তেমন কোন ধারনাাই ছিলনা অনন্ত এইচ এস সি তে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত।
নটরডেম এ ভর্তি হওয়ার পরে ও কলেজের এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিস দেখে হালে জেনো পানি পেলাম। এই তো শখ পূরণের কত কত পথ। টানছিল এডভেঞ্চর ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, নেচার স্টাডি ক্লাব, হিস্ট্রি ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, ডিবেট ক্লাব...সবই। সময় তো শত্রু সদাই। এত পড়াশুনা তার উপর হুদাই দৌড়াদৌড়ি স্যার দের বাসায় সন্ধ্যায় , বিকালে( যদিও মাস তিনে পড়েই স্যার দের বাসায় দৌড়ানো বন্ধই করেদিয়েছিলাম প্রায়, মূল পরীক্ষার আগে আগে আবার একটু আধটু দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়েছিল যদিও।) চাইলেই তো তাই সব আর করা সম্ভব নয়। তার উপর আমি চুপচাপ থাকা মানুষ ..কিছুদিন পরই বুঝলাম ও সব ক্লাবে জায়গা করে নেয়াটা একএকা বেশ কঠিন কাজও বটে।
যা হোক বেশ ক্থটা ক্লাবের সদস্য হয়েই গেলাম। মনে আছে কম্পিউটার ক্লাবে ভর্তি হয়েছিলাম বন্ধু রাসেলের হাত ধরে। ক্লাবের কম্পিউটারে রাসেলের মাধ্যমেই প্রথম হাতেখড়ি জীবনে কম্পিউটারের। সেদিন প্রথম ওয়ার্ডপার্ফেক্ট এ লিখতে পেরে কিযে আনন্দ জেগেছিল প্রাণে বলে বিশ্বাস করানো যাবেনা।
যা হোক কিভাবে নেচার স্টাডি ক্লাবে যোগ দিয়েছিলাম পুরো মনে নেই। তবে এই একটা ক্লাবই আতড়ে ছিলাম এইচ এস সি পাস করার বছর দুয়েক পরেও । আজও মন চায় যেতে ... কোন এক কারনে যাওয়া হয়না আর।
নেচার স্টাডি ক্লাবে এতদিন টিকে থাকার পেছেনে মূর কার ন ছিল সম্ভবত শখের অনেক কিছুই এখানে একসাথে এবং অনেকটা নিজস্ব ঢং এ দেখতে পাওয়ায়। গাছ , পাখী , প্রকৃতির মাঝে ঘূরে বেড়ানোর সাধতো সেই বহুদিনের ....এ বের মাঝেই আটকে ফেলেছিল নেচার স্টাডি ক্লাব।
নেচার স্টাডি ক্লাবের কর্নধার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া স্যার এর কথা মনে পড়ে যায় বারবার । প্রথম ফটোগ্রাফীর ধারনা পাই ওনার কাছেই। আমার জীবনের কাছাকাছি মানুষ গুলোর মধ্যে যদি ৫ জন প্রিয় মানুষগুলোর নাম কেউ জিজ্ঞেস করে। আমি তার মধ্যে ওনার নাম ও রাখব নিসন্দেহে । সাপ্তাহীক মিটিং এ পুরানো নতুন সকল ছাত্রদরে মিটিং হতো নেচার স্টাডি ক্লাবের , ওখানেই শুনতে শুনতে আর সিনিয়র ভাইদের ( বিশেষ করে শেখর দা) ছবি দেখতে দেখতে ফটোগ্রাফীর প্রতি নিবারনীয় ঝোক এর শুরু।
ক্লাবের মধ্যেই স্যার আমাদের জন্যে আয়োজন করলেন এক দীর্ঘ ফটোগ্রাফী কোর্সের । স্যার এবং ওনার সাথে সিনিয়র ভাই য়েরা ক্লাস নিতেন। হাতে কলমেও শেখানো চলছিল। ....শেখাও শেষ হলো একদিন। কিন্তু কোন ম্যানুয়াল ক্যামেরা নেই । খুব আফসোস লাগত সেই সময়। বনে বাদারে পাখি আর গাছ দেখতে ফিল্ড ট্রিপ যাওয়া হতো প্রায় প্রতি শুক্রবারই। ছবি তুলতে পারতাম না। খুব দরকার ছিল একটা ম্যানুয়াল ক্যামরার। বাসায় দামী কোন জিনিসের আবদার আমার খুব একটা ছিলনা কখনই। তবুও চেয়ে বসলাম একট ভাল ক্যামরা আব্বুর কাছে। আবদার গ্রান্ড হয়েছিল। কিন্তু...এখান থেকে নয় , এক দূর সম্পর্কের মামা থাকতেন তখন জাপানে, তিনি জাপানের সম্ভবত একাডেমিক কাউন্সিলার ছিলেণ সে সময়, ওনার কাছে আমার থেকে প্রয়োজনীয় স্পেসিফিকেশন নিয়ে পাঠানো হলো ।
ততদিনে ক্যামেরার নাম জেনেসি অনেক।
প্রাথমিক হাতে খড়ির জন্যে সস্তায় ক্যামেরা হিসাবে জেনিথ বেশ ভাল। রাসেল একটা জেনিথ যোগার করেফেলেছিল। ওটা দিয়ে কিছু ছবিও তুলেছিলাম। রাসেল অবশ্য অনেক ভাল ছবি তুলত। তাতে এবং আরও কিছু ঘটনায় বুঝেছিলাম , ঐ শেখা পর্যন্তই , আমার দ্বারা ছবিতোলার কর্ম বেশী দূর এগোবেনা। তবুও শখ।
সেরা ক্যামেরার নাম বলতে তখন নিকন, পেনটেক্স এবং ক্যানোন এর সাথে ভালই পরিচিতি হয়েছিল। সিনিয়র ভাইয়াদের কাছে অনেক ক্যামরো দেখতাম। ক্লাবে ঢাকা ভার্সিট থেকে একজন ভাইয়া আসত। কেমেস্টির স্টুডেন্ট যতদূর মনেপড়ে। তার ছবি দেখেও মুগ্ধ হতাম শেখর দার অসাধারন ছবিগুলোর সাথে। ঢাকা ভার্সিটির সেই ভাইয়ার নাম আজ ভুলে গেছি। রাসেলের কাছে একদিন শুনেছিলাম, ক্যান্সারে উনি মারা গেছেন ( সম্ভবত ২০০০ কি ২০০১ সালে)।

যাই হোক ক্যামেরা আমার এসছিল। এসেছিল সাথে মামার গিফট হিসেবে একটি অসাধারন বাইনোকুলার ও । ততদিন অনেক সময় পার হয়ে গেছে। এইচ এসসি পাস করে উদ্ভ্রান্ত ভর্তির যুদ্ধে যোদ্ধা তখন। আর অকারন ব্যস্ত সদ্য কেনা পিসি নিয়ে।
ফিল্ড ট্রিপেও যাওয়ার সময় আর হয়না। ক্লাব এ খুব রেয়ারলি যাওয়া হয়।(যদিও একসময় পুরোই বন্ধ হয়ে যায়।) পাখি দেখার শখ পুরনে বাইনোকুলার কাজেই লাগলোনা। অবশ্য ছুব তুলতে শুরু করলাম। ফটোগ্রাফী শেখার ডায়েরী আর কেনা কিছু বই পুরোদমে ঘাটতে লাগলাম।

আমার অতি শখের সেই ক্যামরার নাম ুনিকন এফএম ১০চ্। সেই সময়ের প্রেক্ষিতে অতি ভাল একটি ক্যামেরা। সম্পূর্ণ ম্যানুয়েল ক্যামরা। ৫২ মিমি ল্যান্স(জুম ) তো ছিলই এর সাথে একটি টেলি ফটো ল্যান্সের শখ হচ্ছিল। শখ মনে ঘুরতে ঘুরেই ভর্তি হয়ে গেলাম আইইউটিতে। মনে তখন নতুন আলোড়ন। ছবি তোলার শখ থমকে গেল ...টুকটাক কিছু ছবি তোলা হতো মাঝে মাঝে। তাও ওয়াস আর করা হতো না টাকার অভাবে। ...
..........................................(চলবে)

ছবিঃ আমার প্রথম ম্যানুয়েল ক্যামরা র অনুরূপ


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×