-হুঁ , ভাল , তুমি?
হেসে বললাম ভাল । ভাইয়াটার মুখেও হাসি। কথা বলছে আমার সাথে কিন্তু একি চোখ আমকে ছেড়ে আরও উপের কেনো? একটু অবাক হই।
বুঝতে বেশী ক্ষণ দেরী হয়না। আমি তো তিনতলার জানালায় দাড়িয়ে । তিন তলায় তাকতে মুখ যতটা উধর্্বমুখী করা দরকার ভাইয়টার মুখ তারচেয়েও একটু বেশী উঁচুতে চেয়ে যেন।
পড়াশুনার খবর নিচ্ছিল আমার। দৃষ্টি কিন্তু তবুও আমার দিকে নয়। বয়স কম হতে পারে কিন্তু দৃষ্টি আর কথার বিসমতা না বোঝার কথা নয়। বুঝছিলাম।
সেই বোঝাটা সম্পূর্ণতা পায় যখন উপর থেকে নেমে আসে একটা কাগজের ভারি টুকরো । নিশ্চয় ইট মুড়ে ছেড়েছে উপর থেকে যাতে উড়ে ন া যায়। কিন্তু কি ওটা ?
আরে তাইতো উপরে না বিপাশা আপু থাকে। ভাইয়া কে পাঠাল তবে কি আপু প্রেম পত্র টত্র কিছু।
ভাইয়া আমার সামনে হাতে উঠাতে ইতস্ত করছিল। ইঁচড়ে পাকা আমার সেটাও বুঝতে দেরী হয়না। সরে পড়ি জানালার পাশ থেকে।
পাঁচ মিনিট পড়ে উঁকি মেরে দেখি ভাইয়াও নেই , নেই সেই কাগজের দোলামোলা টুকরো।
হঠাৎ উপর থেকে নেমে এল এক পশলা পানি । নিচে একটা কুকুর যাচ্ছিল ।গায়ে পানি পরতেই --কেউ কেউ করে দিল দৌড়।
সামনের বাড়ীর জানালায় চোখ পড়ল তখনই । মিষ্টি মিষ্টি হাসছে মেয়েটা। চিনিতো । এক ক্লাশ নিচে পড়ে। নাম সঞ্চিতা। হাত দিয়ে সেও যেনো ছুড়ে মারল কিছু একটা বাইরে । চোখের ইশারায় কিছু বলল আমাকে। আমি ঘরের ভেতরে আড়ালে এসে তাকিয়ে থাকি সেই কাগজের টুকরোয় ।
সঞ্চিতা সরে পড়তেই সিড়ি বেয়ে এক দৌড়ে নিচে। রাস্তা দিয়ে দোকানে হেঁটে যাচ্ছি এমন এক ভাবে এক ফাঁকে তুলে নেই। তোলার আগে দেখে নেই জানালায় সঞ্চিতা দাঁড়িয়ে নেই।
দোকান পর্যন্ত এগিয়ে আবার ফিরে আসি। সিড়িতে ঢুকেই কাগজটি খুলি---লেখা
" ওরে শিমুল ভাই । কি আসা করেছিলেন -প্রেম পত্র? অন্যর প্রেমে বিরক্তির উদ্রেগ করল কি উপর থেকে প্রেম পত্র পড়বে, কেবল জানালার আড়ালে লুকিয়েই তাকিয়ে থাকতে হবে। কারন আপনি একটা ভোদাই।"
দ্রুত পেছনে তাকাই। সঞ্চিতার মুখে তখন বাধ না মানা মিষ্টি হাসি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



