আমাদের দৃষ্ট সমাজের মনুষ্য প্রজতির রমরমা এবং উচ্চ আলোচনার বিষয়বন্তুর অভাব যেমন হচ্ছেনা পত্রপত্রিকার আজকাল তেমনি পশু পাখিদের খবরাখবর যেন আসছে বেশ মাথা উঁচিয়ে নিত্যই। ...
মানুষ রূপী পশু দের পাশাপাশি প্রকৃত পশুদের চিত্রও বেশ স্থান করে নিচ্ছে।
সতত্য যাচাই এর জন্যে সেই যেদিন সুন্দরী [গাঢ়]বাঘ মামা[/গাঢ়] খাঁচা ছেড়ে মানুষের মতো চিড়িয়াখার দর্শক হলো সেদিনের কথা দিয়েই তথ্য প্রমাণের উঙ্গিত দেয়া যাচ্ছে । এই তো মাস খানেকের বেশী সময় অতিক্রম হয়নি বোধহয় বাঘের উন্মুক্ত ঘোরাফেরার ঘটনার দিনক্ষণের পরে।
তারপরই আমরা পত্রিকায় ছবি দেখলাম এক পাল [গাঢ়]চিত্রা হরিণ[/গাঢ়] চরে বেড়াচ্ছে ওয়াস্টার্ন স্টাইলের বাগান বাড়ীতে , বাড়ীটি বিশিষ্ট (!) ব্যক্তিত্ব ফালু সাহেবের। সেখানেই সুদৃশ্য খালের পাশে স্বাস্থ্যবতী লালচে [গাঢ়]ঘোড়ার[/গাঢ়] উজ্জ্বল কেশর কিন্তু দৃষ্টিতে মেদুরতা এনেছিল।
ভীষন অবাক হয়েছিলাম আরও যখন দেখলাম ছবিতে- পুরান ঢাকার ছোট কাটারায় এক পুকুরে সাঁতার কাটছে আস্ত এক জ্যান্ত [গাঢ়]কুমির[/গাঢ়]।
প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী সাহেবার হরিণ উপহারের বিলাসী শখ তো খবরের পাতার শোভা বর্ধন করেছিলই মাত্র কয়েকদিন আগেই।
গুলশানের বিলাস বহুল এক বাড়ীতে হারিছ সাহেব নামে আরেকজন বিশিষ্ট(!) ব্যক্তি পালত মনকাড়া বর্ন শোভিত কয়েকটা [গাঢ়]ময়ূর[/গাঢ়]। গতকালের পত্রিকাতেই ছিল সে খবর।
আর আজ পত্রিকায় শোভা বর্ধন করছে বিশাল আকৃতির দীর্ঘ [গাঢ়]অজগর[/গাঢ়]। পড়ে জানলাম। একটা দুটো না , পাঁচ পাঁচটা অজগর ঘুরে বেড়াচ্ছিল গতকাল বানিজ্য শহর চট্টগ্রামের রাজপথে। হয়তো অন্য কোন বিশিষ্ট(!) ব্যক্তি পত্রিকায় দেখতে চায়নি লেখা হবে , 'অজগর পালছেন ঘরে ' টাইপের কোন খবর। তাই আগে ফাঁকেই ছেড়ে দিয়ে যৌথ বাহিনীর কু নজর হতে বেচ গেছেন। পত্রিকার নিউজে ওমনই লিখেছে । বাস্তবে হতে পারে বন থেকেও এসছে অজগর মশাই রা।
এই ইট বালির শহর গুলাও তো আজকাল বন বাদারই। না হলে এত এত বন্য প্রাণী কেনো গুরুত্বপূর্ণ খবর হবে নিত্য। আর মানুষ রূপী পশু তো আমরা অনেকেই।
=======
ছবি সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো , শেষ পাতা , 6/3/07ইং
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



