নাক শিংটাকনোর প্রকুষ্ট কারন আমি আমার শৈশবে কিঞ্চিৎ অনুধাবন করতে পেরেছিলাম যেদিন আমার বাসায় থাকা কয়েকজন কাজিন আর মামা মিলে গভীর রাতে চুপিচাপে যাত্রা দেখতে গিয়েছিল কমলাপুর স্টেশনে । গোপন অভিসার সন্দেহ জাগাবেই আমার মতো আধা ইচড়ে পাকার মনে। তখন কমলাপুরের মাঠ ছিল বিশাল। কন্টেইনার ডিপো তখনও চালু হয়নি। আর ঢাকা শহরে তখন প্রায়ই যাত্রা টাত্রা হতো , খবর দেখতাম ইত্তেফাকের এ্যাডোর বহরের মাঝে। কিন্তু তখনও পষ্ট জানা হয়নিই যাতাের প্রতি কেনো যুবক দের উঠতি আকর্ষন।
অনেকদনি পরে যখন গাজীপুর বোর্ডবাজারে থাকি, পড়ি আইইউটিতে তখন এক দিন শখ করে নিকটে অনুষ্ঠিত এক যাত্রায় যাবার দুর্ভাগ্য হয়েছিল। সেদিনই বুঝেছিলাম। যাতাের আড়ালে আরও কত কিছু হয়। সন্ধ্যায় চত্বরে জুয়ার জানা অজানা কত কত আয়োজন আর কলাকৌশলীদের থাকার ছোট ছোট ঘরে এলাকার ক্যাডার যুবকদের চুপি পদক্ষেপে আসা যাওয়া বুঝিয়ে দিয়েছিল নটিরা পার্টটাইমও অন্য কিছূ করে বাড়তি ইনকামের জন্যে। এ ধরন যে নতুন নয় তা কিন্তু আমরা তারাশঙ্করের বিখ্যাত 'কবি' বইটিতে স্পষ্ট দেখতে পাই। রাতে যাত্রার গলাফাটানো অভিনয়ের মাঝে মাঝে অদ্ভূদ অদ্ভুত ড্রেস পরিহিত নটি মেয়ে গুলোর উদ্ভ্রান্ত নর্তন কুর্দন দেখে মন না জুড়ালেও চোখ ঠিকই জুড়িয়েছিল কাম বোধের কিঞ্চিত।
যাত্রা তারপরও আমাদের জাতিগত বিশেষ ঐতিহ্যর ধারক ...এর যথার্থ সংরক্ষণ আসলেই দরকার।
যাত্রা নিয়ে কিছু টুকরো কথা বলার উদ্দেশ্য আসলে অন্য খানে।
এই তো মাত্র কয়েকদিন পূর্বে ঢাকা থেকে কঙ্বাজারে এসছিল কোন এক ওয়ার্কশপে গ্রামীণ ফোনের শ দেড়েক এমপ্লয়ি। তৎমধ্যস্থ এক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু হবার সুবাধে এবং তার ইনভাইটেশনে রাতে হোটেলের সুইমিংপুলে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের ভাগ্য হয়েছিল। রন্টি দাসের কণ্ঠে হিন্দি গান গুলো মর মর হয়ে ফুটে উঠলেও গানে আজ বাজনায় ছেলে মেয়ে উদ্দাম নৃত্যে মেতেছিল বেশ। কয়েকটা মেয়ে দেখলাম বেশ ভাল নাচছেও। তারুন্য উচ্চল সব।
কিন্তু গানের পরেই স্টেজে নর্তন কুর্দন করতে বা শৃংখলিত খেমটা নাচ দিতে এল ছয়জনের এক ড্যান্স ট্রুপ। দেশি সবাই। তিন জর ছেলে আর তিনজর সুন্দরী মেয়ে। হিন্দি নাচের তালে তালে তালিম সিদ্ধ তাদের সেই নাচ দেখতে দেখতে যাত্রার সেই খেমটা নাচের কথা মনে পড়ছিল।
যাত্রার নাচে মানুষ নাক শিটকায়। আর এই ভদ্র সমাজের নাচে গর্বিত হয়।
যাত্রায় বাংলা গানে র সাথে হয় তাল আর এখানে হাই ভলিউমে কাই মিউজিকের হিন্দি গান।
যাত্রায় ওদের কাপড় গুলো থাকে উত্তেজক কিন্তু স্বল্প্দামের আর এখানে উত্তেজক এবং জাকজকম পুর্ন , দামী।
যাত্রার সেই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি মনে কাম বোধে খোচা মারে আর এখানে ছন্দবদ্ধ অঙ্গভঙ্গিও সেই বোধ যে জাগ্রত করে তা বোঝা যায় দর্শককূলের বড় বড় চোখের দৃষ্টিতে। বলা বাহুল্য এদের অঙ্গভঙ্গি এবং পোষাক বিশেষ বিশেষ অঙ্গের নগাচড়া এবং লুকোচুরি খেলায় কম ঢং এ পারদর্শী নয়।
শুনি আমদের বড় বড় স্টার ওয়ালা হোটেলে এসব ড্যান্সের আয়োজন হরহামেশাই হয়।
ভাবতেই ভাল লাগার কথা- সংস্ক্রতি আর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নাক শিটকানো বন্দের জন্যে আমরা একইজিনিসের সুন্দর আধুনিক সংস্করন করেছি। দিয়েছি গর্ব ময় এবং জাতে উঠার লিগালিটি।
---------------
ছবি সূত্রঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



