১৭ ঘন্টা পার হয়ে গেল খেলা শেষ হবার পর। আশা করি এই সময়ের মধ্যে আপনাদের শোকের মাত্রা কিছূটা কমে এসেছে। সময় এসেছে সবকিছু চুলচেরা বিশ্লেষন করার। আসুন দেখি বাংলাদেশের চটজলদি হারার কারনে দেশের কোন কোন সেক্টরে কি কি প্রভাব পড়লো....
১. সবচেয়ে বড় উপকার হয়েছে মনে হয় বিদ্যুৎ সেক্টরে। ডে-নাইট ম্যাচ সুর্যের আলোয় শেষ হওয়া মনে হয় দক্ষিন মেরুতেই শুধু সম্ভব ছিল। গতকাল সেখানে বাংলাদেশের নামও যুক্ত হলো। সেইসাথে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন হাফ ছেড়ে বাচলো। খেলায় সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে যে পাথরগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের উপরে পড়ার কথা ছিল সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম বাসের উপরে পড়ার কারনে দেশের ভাবমুর্তি (?) কিন্চিৎ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও নতুন কিছু ঘটলো এই ভেবে বিদ্যুৎ সেক্টরের মানুষজন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য আগে খাওয়া কিছু পাথর গিফট দিতে পারে।
২. সংবাদপত্র পাঠকেরা.. যারা ছবি নয় সংবাদ পড়তে ভালবাসেন তারা নিজেদের যথেস্ট ভাগ্যবান মনে করতে পারেন। গোহারা (এইরকম হারাকে গো-হারা বলা হয় কেন, কেও কি বলতে পারেন ?) হারার ফলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ৩২ পাটি দাত কোলানো হাসি সমৃদ্ধ বিশাল বিশাল ছবি দিয়ে দিনের পর দিন পত্রিকার পাতা ভরা দেখতে হবে না। এই বাংলাদেশ দল মঙ্গল গ্রহ জয় করবে জাতীয় উৎকট মন্ত্যব্যে নিখীল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র নির্মান শ্রমিক সমিতির সহকারি সাধারন সম্পাদক জাতীয় বিশিস্ট ব্যাক্তিবর্গের মন্তব্য দিয়ে ভরা পত্রিকার পাতা দেখতে হবেনা।
৩. সরকারি টাকায় বাড়ি গাড়ি প্লট দান করে দাতা হাজি মহাসিন সাজা এদেশের সরকারপ্রধানদের একটা বাড়তি রোগ বলা যায়। লুডু খেলায় এদেশের কেও উগান্ডার জঙ্গলের কোন একজনকে হারিয়ে আসলে তাকে বরন করার জন্য সরকারপ্রধানরা পর্যন্ত বিমানবন্দরে দাড়িয়ে থাকে হাতে প্লটের দলিল, গাড়ির চাবি ইত্যাদি নিয়ে। চিন্তা করে দেখেন এমনিতে ঢাকার রাস্তায় যেরকম গাড়ির চাপ এর সাথে যদি খয়রাত হিসাবে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের পাওয়া আরও ৫০ টা গাড়ি যোগ হতো তাহলে .....
৪. অবিভাবকরা হাফ ছেড়ে বাচতে পেরেছেন। বাংলাদেশ দিনের আলোয় পরাজয় বরন করে নেবার কারনে বাচ্চাদের পড়াশোনার কোন ক্ষতি হয়নি। ইস্কুল থেকে ফিরে রাত ১২ টা পর্যন্ত খেলা দেখা এবং সম্মানজনক পরাজয় হবার আনন্দেসারারাত ধরে আনন্দমিছিল করে পরদিন ইস্কুল কামাই দেওয়াটা অবিভাবক হিসাবে সহ্য করা শক্ত। অন্তত এই শক্ত কাজটা আপনাকে করতে হয়নি। অফিস আদালতে কাজ কাম বাদ দিয়ে খেলার গল্প অনেকটা নিয়ন্ত্রনে আছে এই ভেবে বসেরা স্বস্তির ঢেকুর তুলতে পারেন।
আরও অনেক ফায়দা আছে । আর লিখতে ইচ্ছা করছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


