somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিওঃ Jules and Jim (১৯৬২)

৩১ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মুভিঃ Jules and Jim (1962)
জেনারঃ রোমান্টিক ড্রামা
দেশঃ ফ্রান্স
ডিরেক্টরঃ François Truffaut

French New Wave এর উদাহরন টানতে গেলে যে কয়েকটি মুভির নাম না চাইলেও চলে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ট্রুফোর জুলস এন্ড জিম । প্রায় ৩০ বছর সময় ধরে ব্যাপ্ত এই ছবির কাহিনী শুরু হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে, শেষ হয়েছে হিটলারের উঠতি সময়ে এসে। ১৯১২ সালে প্যারিসে দেখা হয় দুই যুবকের, একজন ফ্রান্সের (জিম) আরেকজন অস্ট্রিয়ার (জুলস), তারা একজন আরেকজনকে নিজেদের ভাষা শেখায়, সাহিত্যে আগ্রহী এক জন আরেকজনকে করে দেয় কবিতার অনুবাদ আর সারা জীবনের জন্য আটকা পরে বন্ধুত্বের বাধনে ।

যদিও ছবির নাম জুলস এন্ড জিম, কিন্তু ছবির প্রধান চরিত্র বলতে হবে ক্যাথরিনকে। Jeanne Moreau ক্যাথরিন চরিত্রে তার অসাধারন অভিনয় দিয়ে পুরো ছবিটাতেই দর্শকদের বেধে রাখেন। তার সাবলীল অভিনয় দিয়ে চরিত্রের সাথে নিজেকে এতোটাই মানিয়ে নিয়েছেন যে দর্শক চিন্তা করতে বাধ্য হবেন ক্যাথরিন কোন সাধারন চরিত্র নয় এবং যারা তার সান্নিধ্যে এসেছে (জুলস এবং জিম) তারা তার প্রতি আকৃষ্ট হতে বাধ্য, এবং সম্ভবত ক্যাথরিন-ই হচ্ছে নিউ ওয়েভ যুগের কোন নারী চরিত্রের সবচেয়ে নিখুত চিত্রায়ন।স্বাধীনচেতা এবং unpredictable এই চরিত্রটি একটু পাগলাটেও বটে। এতোটাই পাগলাটে যে দুই বন্ধু ক্যাথরিনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের মাঝে আলাপে ব্যস্ত বলে সে নিজেকে নদীতে ছুড়ে দিতে পারে। জুলসকে সে সন্তান দিতে চায়, কিন্তু সনাতন স্ত্রী কিংবা মা হবার কোন ইচ্ছাই তার নেই। দুই বন্ধুই তাকে পছন্দ করে জেনেও সে একজনকে দেখিয়ে আরেকজনের সাথে চুটিয়ে প্রেম করে চলে, আর এ ক্ষেত্রে তার বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে, “one is never completely in love for more than a moment”।

ট্রুফোর ছবির একটা অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস ব্যাবহার করা, জুলস এন্ড জিম ছবিতে শুরু থেকেই ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস ব্যাবহার করা হয়েছে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে তাই বলা হয়েছে যা দেখানোর মতো সময় পর্দায় নেই, এবং এই ব্যাকগ্রাউন্ড বয়েসের কারনেই ১.৪৫ ঘন্টার ছবিতে ২৫/৩০ বছরের কাহিনী দেখানো হলেও কখনোই মনে হবেনা কোনকিছুর কমতি রয়ে গেল। ভয়েস ন্যারাশন ছাড়াও কিছু প্যানিং শট, ফ্রিজ ফ্রেম, ট্রেকিং শটের এমন অসাধারন কিছু ব্যাবহার “জুলস এন্ড জিম”-এ করা হয়েছে যে এই ছবিকে বলা হচ্ছে, “An inventive encyclopedia of the language of cinema that incorporates newsreel footage, photographic stills, freeze frames, panning shots, wipes, masking, dolly shots, and voiceover narration.”

জুলস এন্ড জিম সেই বিরল ছবিগুলোর একটি যা কিনা দর্শকদের খুব দ্রুত চিন্তা করতে বাধ্য করবে, জুলস, জিম এবং ক্যাথরিনকে দেখে কোন ব্যাখ্যায় যেতে পারবেন না কিন্তু তাদেরকে অনুভব করতে পারবেন। কমেডি এবং ট্রাজেডীর নিখুত মেলবন্ধনের এই মুভিকে মানা হচ্ছে নিউ ওয়েভের আদর্শ উদাহরন আর আমার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বলতে পারি ট্রুফোর সেরা ছবিগুলোর মাঝে সবার চাইতে এগিয়ে থাকবে “জুলস এন্ড জিম”।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু ছবি ‍কিছু কথা-----------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

-----------------



ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×