শোনিত ধারায় খোদাই করা একটি নাম মার্চ। বাংলাদেশ নামক প্রিয় জন্মভুমির জন্ম ইতিহাস যাকে অমর করে রেখেছে। সময়ের সাথে সাথে মার্চ আসে, মার্চ যায় আবার আসে। আমাদের আত্নত্যাগ, সাধনা, উদ্দীপনার সামৃতিচারনের পাশাপাশি আত্নপর্যালোচনা, আত্নোপলব্ধি জাগ্রত করুক সুপ্ত বিবেক।
গত হয়ে যাওয়া মার্চকে তাই নিস্ঠার সাথে স্মরন করি। আমাদের আহবানে যারা সাড়া দিয়েছেন, যাদের লেখায় মার্চ মাসের প্রবাল গ্রুপ অলংকৃত হয়েছে তাদের জন্য অভিনন্দন। ধন্যবাদ অন্য গ্রুপ সদস্য এবং পাঠকদেরকেও।
এক মধ্যবয়সী নারী এখনও রয়েছে হাত বাড়িয়ে__বিবেক সত্যি
যুদ্ধকালীন একটি সরল বর্ণনা। বর্ণনা সরল হলেও সেই সময়কার বাস্তব চিত্রটা ফুটে উঠেছে জীবন্ত হয়ে।
....কানফাটানো গর্জন শোনা যায় উত্তরের দিক থেকে..... বুকসমান উচু মাটির ভিত্তির আড়ালে বসে দোয়া-ইউনুস পড়তে থাকে , কেউ মনে মনে , কেউবা শব্দ করে .... আচামকা দুম শব্দে কলিজা উড়ে যায় বেনুর ..... থুরথুরে বুড়া সেকান্দার রাস্তার পাশে বসে হুক্কা টানছিলো । বয়রাটা খেয়াল করতে পারেনি । পিছনে ধুম লাথি খেয়ে ছিটকে পড়ে ডোবার মধ্যে । প্রত্যেকটি সময়ের বর্ণনা প্রেক্ষাপট বিচারে নিখুত ভাব প্রকাশ করে চলেছে।
ছোট আব্দুর রহিমের ভাবনাটাও কোনভাবে অস্বাভাবিক ঠেকেনি। বেনুর কান্না কবে শেষ হবে সে প্রশ্নের উততর আজো দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
বিবেক সত্যি একটি চমৎকারলেখা উপহার দিতে পেরেছেন। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য একটি চিরন্তন সত্য। আমাদের প্রানের সাথে জড়িয়ে থাকা আবেগ। একজন সাধারন মানুষের দৃস্টিতে এর প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ দল বোঝেনা, রাজনীতি বোঝেনা, কেবল পেয়েছি কি হারিয়েছি তার সমীকরন মেলাতে জীবনের সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।
পুরো লেখাটিই প্রশংসা পাবার মত। মধ্য বয়সের হিসাব দিয়ে বোধ হয় কিছু একটা বোঝাতে চেয়েছেন। সেটা কি বেনুর নাকি লেখকের ভাবনায় ঠিক ধরা যায়নি।
বিবেক সত্যি লিখুন। ভালো ভালো লেখা আশা করছি।
ইঁদুর ও সুদর্শন মানুষটি একই জায়গায় মৃত পড়েছিলো __সারওয়ারচৌধুরী
কল্পনার অনুভুতিকে বাস্তবতার আবহ দিতে কেউ কেউ বেশ পারদর্শী হয়ে থাকেন। কল্পনা খারাপ কিছু নয় বরং উপমার সজ্জায় সুস্বাদু পরিবেশনা পাঠককে ভিন্ন আমেজে কিছু আনন্দ উপহার দেয়। কখনো টক কখনো মিস্টি ( ক্ষেত্র বিশেষে তিতাও হতে পারে অনিচ্ছা সত্বেও।)
সারওয়ারচৌধুরী মিস্টিমুখের দলে। সামান্য একটা ঘটনাকে, কিংবা বলতে হয় কল্পনাকে অথবা প্রয়োজনীয় ভাবনাকে তুলে আনেন সুস্বাদু করে। কখনো আবেগী হৃদয় ছুয়ে যায়, কখনো আনন্দে দুলে ওঠে, কখনো গভীর ভাবনায় ডুবে যায় মন।
একটি তুচ্ছ ইদুরকে দিয়ে তিনি কথা বলিয়েছেন। ইদুরকে শুনাতে গিয়ে তিনি পৃথিবীকে শুনিয়ে দিয়েছেন মুল্যবান সত্য ...তুই কি জানিস পৃথিবীতে লাখো লাখো মানুষ তোদের মতই জীবন যাপন করে?.....
.......ইদুঁরটি যে জায়গায় মৃত পড়ে আছে ঠিক একই জায়গায় দু'বছর আগে একজন সুদর্শন প্রবাসী সাত তলা থেকে সিঁড়ির বেস্টনি ভেঙ্গে নীচে পড়ে মৃত্যু বরণ করেছিলো।........... একটা রহস্যপূর্ন লাইন তুলে দিয়ে আস্তে করে সামনে এগিয়ে গেছেন লেখক।
....তোর মৃত্যুতে খুশি সেই মানুষগুলোও যারা তোদের মতো জীবন যাপন করে!..... শেষ করার আগে আরেকবার।
সারওয়ারচৌধুরীকে ধন্যবাদ। শুভাকাংখীর শুভ কামনা আর নিন্দুকের নিন্দাকে সাথী করে এগিয়ে যান।
গল্প লেখার চেষ্টাঃ ইয়াসির ফাজাগার প্রতি কৃতজ্ঞতা__মাহমুদ রহমান
গল্পটা লেখার চেস্টা করতে গিয়ে লিখেই ফেলেছেন মাহমুদ রহমান। গল্পের মুল বক্তব্য সুন্দর এবং শিক্ষনীয়। প্রকাশভঙ্গিও আকর্ষনীয়।
মানুষের মন বিচিত্র অনুভুতির আধার। সময়ের সাথে সাথে এর পরিবর্তন চোখে পড়ার মত। ......স্ত্রী অন্যদিকে ব্যস্ত .....মেয়ে পিতাকে স্যার সম্বোধন করছে.....। একটা সময়ের বিরতীতে মানুষের আবেগ অনুভুতিতে অনেক পরিবর্তনআসে। গল্পে সেটা স্পস্ট।
ভদ্রলোকের আচরনে আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে। সন্দেহপ্রবনতা মানবীয় ত্রুটি হিসেবে অনেক বড় বিপদের কারন হতে পারে।
গল্পের সারমর্ম চিন্তা করার মত। মাহমুদ রহমান ফাজাগারের কাছে শুনে গল্পটি লিখেছেন। তবে চাইলে আরো পুর্নাঙ্গ উপস্থাপনা করা যেতো বলেই মনে হয়। খুব দ্রুত শুরু হয়েই শেষ হয়ে গিয়েছে। সময় দিলে আরো কিছুক্ষন পাঠককে আটকে রাখা যেত তাতে লেখার আকর্ষন নস্ট হতো না।
স্ত্রীকে ধাক্কা দেয়ার আগে তার মানসিক অবস্থার বিবরন আরো নিখুতভাবে উঠে আসতে পারতো।
তবে মাহমুদ রহমান চাইলে লিখতে পারেন এটা স্পস্ট। সামনে ভাল গল্প লিখবেন এ আশা রাখি।
সত্যিকারের স্বাধীন হবো __প্রজ্ঞা
স্বাধীনতা অমুল্য ধন। স্বাধীনতা কিছু দ্বায়িত্ববোধের জন্ম দেবে এটাই বিবেকের প্রত্যাশা। সুস্থ, সচেতন মন নিজেকে সুস্থ চেতনার অধীন করে পরিচালিত করবে স্বাধীনতার অর্থ এমনই হওয়া উচিত কিন্তু হয়না। স্বাধীনতাকে অবাধ যা কিছু করার সুযোগ বলে আমরা অনেক সময় ভুল করে থাকি।
সত্যিকারের স্বাধীন হওয়া তাই কস্টসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ। দৈনন্দিন ঘটে যাওয়া একটি ছোট মুহুর্তকে তুলে এনে প্রজ্ঞা স্বাধীনতার সারমর্ম খোজার চেস্টা করেছেন। পেরেছেনও বলতে হবে। শব্দের গাথুনি সরল, ঝরঝরে। সাধারন ঘটনাকে সাধারনভাবে উপস্থাপনের প্রয়াস। আর ফাঁকে ফাঁকে পাঠকের চিন্তায় কিছু তুলে দেয়ার চেস্টা।
অল্প সময়েই প্রজ্ঞা ভাল করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। লেখার বিষয়বস্ত প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ। সূচনা, সমাপ্তি পাঠককে ধরে রাখার মত। এখন বেশী বেশী পড়তে হবে, চোখ রাখতে হবে চারপাশে। বৈচিত্র লেখালেখিতে সমৃদ্ধ হবেন আশা করা যায়।
স্বাধীনতা দিবসের sms গুলো এবং কিছু মুল্যায়ণ __সুমাইয়া সরোয়ার,
ডিজিটাল যুগে মনের ভাব প্রকাশ এবং বিনিময়ের সবচেয়ে সহজলভ্য মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এসএমএস। বিভিন্ন উৎসবে, দিবসে এর ব্যবহার চোখে পড়ার মত। সর্বস্তরের মানুষই একে গ্রহন করেছে।
সুমাইয়া সরোয়ারের লেখার বিষয়বস্তু এসএমএসের সূত্র ধরে এসেছে।
...এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবনা...''
......''প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ...
এসএমএসর কথাগুলো যাই হোক স্বাধীনতা দিবস আমাদের হৃদয়ে যে অনুভুতির দ্যেতনা তৈরী করে তার প্রধান দাবীই হচ্ছে আমাদের আত্নপর্যালোচনাবোধ।
.........আজ পর্যন্ত অনেক সমাবেশ হয়েছে, অনেক মিছিল মিটিং হয়েছে। অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছে। মঞ্চে উঠে গান কবিতা আর বিশাল বিশাল ভাষণে সারা দেশে আলোড়ণ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু দেশ কি পেয়েছে? ....... একটা প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।
লেখার জন্য ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। পাশাপাশি লেখাকে কিভাবে আরো গ্রহনযোগ্য, পাঠকের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তুলে ধরা যায় সেদিকে দৃস্টি দিলে আরো ভালো লেখা পাওয়া যাবে আশা করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


