প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে ছিন্নমূল মানুষ। গতকাল বুধবার সারাদিনেও সূর্য্যরে মূখ দেখা যায়নি। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে শীত প্রকোট ধারন করায় ঠান্ডায় বৃদ্ধ ও শিশুরা সর্দ্দিজ্বর, আমাশয়, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এজমা সহ শীতজনিত রোগে ভূগছেন। এদিকে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের মানুষ শীত ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় জড়োসড়ো হয়ে দিনাতিপাত করছে। সারাদিন শীতের কারণে বিশেষ কোন কাজ ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তাঘাটে স্বল্প পরিমানে যানবাহন চলাচল করছে। গতকাল বুধবার রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাক্তার কৃষ্ণ কুমার পাল জানান, গত কয়েকদিনের ঠান্ডায় শীত জনিত ৩শতাধিক রোগী চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়েছে। এদের মধ্যে ১৩জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া তিনি বেশী বেশী করে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পান করাতে, বাসি-ঠান্ডা খাবার না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন(৭০) বলেন, এবার যে ভাবে ঠান্ডা নামতেছে, তাতে পৌষ মাসে ঘরত থাকি বের হওয়া যাবার নয়। তিস্তা পাড়ের কছিরন(৭৫) জানান, গত বছর একনা কম্বল পাছনু তাও নাতনী কোনা নিয়্যা গেইছে। অন্যের বাড়ীতে কাজ করে খাং, গরমের কাপড় ন্যাং কিদিয়া। ৭০ বছরের বৃদ্ধ ভ্যানচালক মন্ত্রি বলেন, নজিমখান থেকে ভ্যান চলে প্রতিবন্ধী মেয়েদের নিয়ে সংসার চালাং। কায়ো মোক একখান কম্বল দ্যায় নাই। ভাত খাবার টাকাই নাই কম্বল কিনিম কিদিয়া। উপজেলা ত্রান ও পূর্নবাসন অফিসার মাইনুল ইসলাম জানান, সরকারীভাবে ১হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। এসব কম্বল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজেদুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে যা এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আরও কম্বলের চাহিদা পাঠনো হয়েছে।#

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


