somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মন কাঁদানো এক বৃষ্টি।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনটা খারাপ হয়ে আছে।কেন জানি খারাপ লাগাটা যখন খুব পেয়ে বসে,তখন কি কারনে মন খারাপ তা আর খুঁজে পেতে ইচ্ছে করে না।ছাদে যেতে পারলে হয়ত ভাল লাগত।বিকালের বৃষ্টি শেষে রাতের আকাশের তারাগুলো আজ ভালই আলো ছড়াবে।তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে হয়ত কিছুক্ষণ মন খারাপও কমে যেতে পারে।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রাতে আম্মু যেতে দেয় না ছাদে।হয়ত যাওয়ার অনুমতি চাওয়ার কথা শেষ না হতেই মানা করে দিবে।কি যে করি!এই সময়ে মায়ের ডাক শুনতে পেলাম। আমাকে ডাকছে।"শিউলি, এই শিউলি, শুনে যা তো মা। ফ্রিজ থেকে মসলার বাটিটা আমাকে দিয়ে যা।" বাইরের কেউ শুনলেই ভাববে এই বাড়িতে যে মেয়েটি থাকে তার মা তাঁকে ডাকছে আর তার নাম বুঝি শিউলি। নাহ্‌,শুরুটা ঠিক বুঝলেও শেষটা ভুলই।আমার নাম শিউলি না।যদিও মায়ের কাছে আমার নিজের নামটা বিলুপ্তির পথে।তিনি কখনো আমার নামে ডাকেন না,ডাকেন বিভিন্ন ফুলের নামে।আজ শিউলি,কাল ডেইজি,পরশু করবী, তারপরদিন মালতী এরপর হয়ত অন্য কোন ফুল। কারণটা খুবই মজার বটে!খালারা বলেন,ছোট বেলা থেকেই মায়ের নাকি ইচ্ছা ছিল তার মেয়ে হলে মেয়ের নাম রাখবেন ফুলের নামে।কিন্তু যখন নিজের মেয়ে হল তখন দাদার রাগের ভয়ে তা আর হয়নি।মাও কম যান না। চুপি চুপি আমাকে ফুলের নামই ডাকতেন।আর সময়ের সাথে পরিবারে নিজের প্রতিপত্তি স্থাপনের পর থেকেই প্রতিদিন আমার নাম বদল শুরু হল।নতুন অপরিচিত কেউ আসলেই প্রথম দিন যে নামে আমাকে চিনেন পরের দিন তা আর শুনতে পান না মায়ের মুখ থেকে।আমিও অভ্যাস মত উত্তরে জবাব দিলাম,আসছি মা"।কারণ এই বাড়িতে যে ফুলের নামে ডাকা মানেই আমার নাম।বাবাও অনেকবার নাকি বাধা দিয়েও এই নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটাতে না পেরে নিজেও এই নিয়মে বন্দী হয়ে গেছেন।তবে তা কতটা নিজের ইচ্ছায় আর কতটা মায়ের রাগের ভয়ে তা আমার ও মায়ের দুইজনেরই জানা আছে।


ফ্রিজ থেকে মসলার বাটি হাতে নিয়ে রান্নাঘরে যাওয়ার আগেই মায়ের হাতের বিরানীর সেই চেনা পরিচিত গন্ধটা নাকে গেঁথে গেল।রান্নাঘরে ঢুকে মায়ের কাছে মসলার বাটি দিতেই উনি বললেন,"কিরে কি হয়েছে?"আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না।কি বলব খুঁজে না পেয়ে হঠাৎ বলে ফেলি,"মা ছাদে যাব"।বলার সময় বুঝনি কি বলছি কিন্তু বলে বুঝলাম।মা হয়ত মানাই করে দিবে।তাতে আরও মন খারাপ হবে।কিছু চেয়ে না পাওয়ার ব্যাথাটা অনেক ভারী হয়। তার চেয়ে না চাওয়াই ভাল।হঠাৎ এসব চিন্তার জাল মায়ের কন্ঠ শুনে ছিঁড়ে গেল।"কিরে,এরকম বট গাছের মত ঠায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ছাদে গেলে যা,তবে ১০ মিনিট এর বেশি না।১০ মিনিট পর নেমে আসবি।" নিজেই অবাক হলাম।মা এত সহজে যেতে বলে দিলেন!!আর ১০ মিনিটের অনুমতিতে আধা ঘণ্টা পার করে দিলে মায়ের নারাজ হওয়ার শতকরা হার অনেক কম।আকাশে চাঁদ হাতে পাওয়ার মত করেই চাঁদ ছুঁতে ছাদের সিঁড়িতে পা রাখলাম।ধারণা মত চাঁদকে তারাদের ভীড়েই খুঁজে পেলাম।আকাশে মেঘ নেই বললেই চলে।পুরোটা জুড়েই তারার চাদর আজ।দেখে মনটা কিছুটা ভাল হয়ে গেল।ভেবে ভাল লাগে একটা রাত এমন চাদরে জড়িয়ে কাটাতে পারলে স্বপ্ন বলে ভুল ভাবতাম।মোবাইলটা বন্ধ করা ছিল।খুলে আবার হাতের মুঠোয় নিলাম।একটি খুদে বার্তা এসে জানিয়ে দিল কাল কপিল স্যার তার ক্লাসটা নিবেন না।এ বিষয় খুব একটা গায়ে লাগেনি,স্যারের ক্লাস কালে ভদ্রেই সপ্তাহে একদিন হয়ে থাকে।এ সপ্তাহেরটা আর হবে না মনে হচ্ছে।আকাশে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় চোখের কোণাটা জ্বলতে আরম্ভ করল;লোনা পানি গাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ল।এই পানি কেন এতক্ষণ নিজেকে ধরে থাকল জানা আছে ;তবে সে জানে কিনা তা জানতে ইচ্ছে করে।নাহ্‌ ,মায়ের চোখে ধরা খেলে অনেক কঠিন প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।নিজেকে শান্ত করলাম।তারাদের কাছে কান্না জমা দিয়ে নিজের ঘরে ফিরে আসলাম।কাল ক্লাশের জন্য ব্যাগ গুছিয়ে রাখছি এমন সময় মা এসে বলল,"বলতে ভুলে গেছি বিকালে ফাহাদ এসেছিল।তোকে এই বইটা দিতে বলল।"কখন এসেছিল জানতে চাইলে মা বলল,"বিকেলে খুব বৃষ্টির মাঝে কাকভেজা হয়ে আসল।কতবার বললাম ঘরে ঢুকে তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নিতে,শুনলোই না কথা।এই ঝুম বৃষ্টির মাঝেই আবার বের হয়ে গেল।" শুনে বললাম,”কি বল?!ফাহাদ তো বৃষ্টি পছন্দ করে না।বৃষ্টি নিয়ে তার অভিযোগের শেষ নেই।বৃষ্টি হলে সে ঘর থেকে বের হয় না আর যদি বের হতেই হয় তবে বৃষ্টিতে না ভেজার সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই তবে বের হয়”।মা বলল,”কি জানি,হয়ত আজ ব্যবস্থা করতে পারেনি”।মা ঘর থেকে গেলে আমি পলিথিনে মোড়া বইটা হাতে নিলাম।পলিথিন খুলে বইটা নিতেই একটা নীল কাগজের খাম মেঝেতে পড়ল।খামের ভিতর একটা চিঠি, সাথে একটা চ্যাপ্টা হওয়া কৃষ্ণচূড়া। চিঠিতে লেখা,"তোমার মত করে আজ বৃষ্টিতে ভিজতে শিখলাম , তবে খুব মন কাঁদানো এক বৃষ্টি ছিল "।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×