লৌহজং নদী। নদীর পাড় ঘেঁষে বড় বড় কড়ই আর বাবলা গাছ। রিকশাচালক গোপাল বণিক আর আবু বকর পাশাপাশি ক্লান্ত হয়ে বসে ছিলো সেই গাছের ছায়ায়, রোজকার মতই। একটু জিরিয়ে রোজ তারা কিছুক্ষন সুখদু:খের গল্প করে। আজ দু'জনেই চুপচাপ। কিন্তু দু'জনের মনেই বয়ে যাচ্ছে একই কষ্টের বন্যা। কিছুক্ষন পর শ্যালোঘাটের টিকেট মাস্টারও এসে যোগ দিলো তাদের সাথে। একই রকম হাড়ি মুখ করে।
এই গাছের নিচে আজই তাদের শেষ দিন। কতগুলো বছর পেরিয়ে গেছে, সেই প্রায় কিছু না বুঝার বয়স থেকে শুরু করে আজ অবধি--প্রায় 40 টা বছর! নিজের জীবনের সুখদুখের আর পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে মিলাতে এই ছায়াদানকারী গাছ নিয়ে কে কবে ভাবতে গেছে তাদের মধ্যে। জানেই তো, ভীষণ ক্লান্তি শেষে আর কিছু না হোক, এইটুকু মমতাময়ী ছায়া তো মাথার ওপরে থাকবেই, তাকে নিয়ে আলাদা করে ভাববার কিইবা আছে?
কিন্তু আজ মনের মধ্যে ভীড় করছে এত বছরের কৃতজ্ঞতা। আগামীকালই এই গাছগুলো কেটে ফেলা হবে যে! কেন? এই পোড়া দেশে "কেন" প্রশ্নটা বড় অবান্তর। কেন'র উত্তর সবাই জানে। জেনে গোপাল, আবুবকরের মত মুখভার করে বসে থাকে। যেমন আমিও মুখভার করে বসে এইখানে এইটুকু লিখছি আর ভাবছি এর পরের বার যখন গ্রামের বাড়ি যাব তখন নদীর পাড়ের গাছগুলো দেখে কি মনে হবে, ওদের ক'জন সংগী নেই?
[গাঢ়]খবর:[/গাঢ়]
প্রধানমন্ত্রী আজ টাংগাইলের মির্জাপুরে ডিজিটাল টেলিফোনের লাইন উদ্্বোধন করতে গিয়েছেন। মির্জাপুরের বিখ্যাত কুমুদিনী হাসপাতালের মাঠে তাকে নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য দুটি হেলিপ্যাড বানানো হয়েছে, যেখানে এই কদিনে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন উঠানামা করেছে অনায়াসে। তবুও প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে ঐ এলাকার 40 বছরের পুরনো 10টি এবং আশেপাশের আরো 20টি বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
কেন?
কি বোকা রে! আবার প্রশ্ন করে !!
[গাঢ়]পাদটীকা :-[/গাঢ়] সরকারের পরামর্শ গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান। সবুজে সবুজে ভরিয়ে দিন আপনার আমার প্রিয় জন্মভূমি। শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনে সেই গাছ কাটতে একটুও যেন দ্্বিধা করবেন না! [/রং]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







