somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘর হারা এক নারীর কথা!

২৯ শে জুন, ২০০৬ ভোর ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তসলিমা নাসরিন, সন্দেহ নেই এটি একটি আলোচিত এবং সমালোচিত চরিত্র বা নাম। নানা কারণে তিনি হয়েছেন সমালোচিত, তার লিখা কখনো হয়েছে রাষ্ট্র কতর্ৃক নিষিদ্ধ। জানিনা এই লেখিকার মূল্যায়ন কার কাছে কেমন! তবে আমি বরাবরই তাকে একজন অধিকার সচেতন, বঞ্চিত, এবং আত্মবিশ্বাসী লেখিকা হিসেবেই দেখি। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারীরা অবহেলিত, নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তে, বিভিন্ন সময়ে তার বিভিন্ন লিখায় সেই কথাগুলো এসেছে বার বার। সমাজের ধনী থেকে গরীব, উচ্চ বংশ থেকে শুরু করে এদেশের চাষা-মজুরের সংসারেও নারীরা প্রতিনিয়িত নির্যাতিত হচ্ছে, এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। হয়তো নির্যাতনের পরিমাণ আগের থেকে অনেকটাই কমে এসেছে, তবে পুরোপুরি যে বন্ধ হয়ে যায়নি তা আমি নিশ্চিত।

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে তার ব্যক্তিগত একটা জীবন, যেখানে আনন্দ-বেদনা, ভালোলাগা-ভালোবাসা, বঞ্চনার মতো অনেকগুলো বিষয় জড়িত থাকে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় লেখকই তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ঘটনাই তাদের জীবনীতে তুলে ধরেছেন। ফরাসি লেখক জঁ্য জ্যাক রুশো ছাড়াও বেঞ্জামিন ফ্যাঙ্কলিন, বার্ট্রান্ড রাসেল-এর মতো বহু লেখক তাদের জীবনীতে, তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক লুকায়িত বিষয়গুলো মেলে ধরেছেন। সেখানে যৌনতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কলম চালানো হয়েছে অবাধে, সে জন্যে তাদেরকে নিজ দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু যখন তসলিমা নাসরিন তার আত্মজীবনীতে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজের কিছু সত্য প্রকাশ করলেন তখন তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্যে লাখো মানুষের স্লোগান আর মিছিলে প্রকম্পিত হয় আকাশ-বাতাস, রাজপথ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে মিছিল আর মিটিংএ।

তসলিমা নাসরিন তার এক কলামে উল্লেখ করেছেন "বাঙালি পুরুষ লেখকদের অনেকেই গোপনে গোপনে বহু নারীর সঙ্গে প্রেম প্রেম শরীরী খেলা খেলতে কুণ্ঠিত নন, নিজেদের জীবন কাহিনীতে সেসব ঘটনা আলগোছে বাদ দিয়ে গেলেও উপন্যাসের চরিত্রদের দিয়ে সেসব ঘটাতে মোটেও সংকোচ বোধ করেন না"। তাহলে তিনি যখন তার জীবনে ঘটে যাওয়া সেইসব ঘটনা আত্মজীবনীতে প্রকাশ করেন, তখন কেন এত প্রশ্নের তীর তার দিতে তেঁড়ে আসে? আমাদের পুরুষ শাসিত এই সমাজে নারীরা কেবলই ভোগের আর প্রজননের একটা যন্ত্র এর চেয়ে বেশী কিছু নয়, অনেকে নারীদের এর চেয়ে ভালো কোন অবস্থানে দেখতেও নারাজ।

নারীকে যখন ভোগ করা হয়, তখন তাকে নিয়ে দু'চার লাইন কবিতা লিখা, বা গল্প-উপন্যাসে তাদেরকে সেভাবে উপস্থাপন করে, নানা উপমা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই কার্পণ্য করেননি, কিন্তু ভোগের পরই তাদেরকে নিয়ে আর মাথা ঘামানোর সময় থাকেনা। আর নারীরা সে বিষয়ে মুখ খুলতে গেলেই সে হয়ে যায় সমাজের চোখে দুশ্চরিত্রা বা নষ্টা, এটা আমাদেরই নিচু মন-মানসিকতার পরিচয়। যৌনতা লুকানোর মতো কোন বিষয় নয়, প্রত্যেকের জীবনেই যে এর শক্ত ভিত গড়া সেটা আমরা সবাই জানি, সেটা আমরা স্বীকার করি বা না করি, সে ভিন্ন বিষয়।

আমি জানি হয়তো এ নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেকের তোপের মুখেই আমাকে পড়তে হবে, তবুও তাকে নিয়ে কিছু কথা আমার বলার আছে। আমি চেষ্টা করেছি তার কিছু লিখা পড়তে, চেষ্টা করেছি তাকে নিয়ে কিছুটা জানতে। তবে তার ব্যাপারে পুরোপুরি জানাটা বেশ কঠিন, কারণ তাকে নিয়ে তেমন কোন বই, বা সমালোচনা গ্রন্থ এখনো আমার চোখে পড়েনি।

তার আত্মজীবনী মূলক বই "আমার মেয়েবেলা" পড়ার সুযোগ আমার হয়েছিলো। বইটিতে তিনি তার জীবনের অনেক আলোচিত ঘটনা তুলে ধরেছেন। তার জীবনে অনেক পুরুষের আসা-যাওয়া ছিলো সেটাও তিনি বলতে দ্বিধা করেননি। যা সত্য সেটা চিরকালই সত্য। হতে পারে আমাদের সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে, তার অনেক কথা মেনে নেয়া কঠিন, কিন্তু অস্বীকার করার মতোও কোন উপায় নেই। তার বইগুলোকে যদি আপনি যৌন সুরসুরিদায়ক বলে মনে করেন, তাতে কারো বলার কিছু নেই, কিন্তু আমি লিখাগুলোকে একটা সাহিত্যিক কর্ম হিসেবেই মনে করি। বইগুলো তার লিখা এটা তার সাফল্য, ভেতরের কথাগুলোতে যদি যৌন সুরসুরি দেয়া মতো কোন বিষয় লিখে একটা সত্যিকে উপস্থাপন করতে চান সেক্ষেত্রে সেটাকে নিষিদ্ধ করার মতো কারণ আমি দেখিনা। আমাদের সমাজকে এই কুপমুন্ডুকতা, ভন্ডামি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। বাজারে প্রচলিত যৌনতা সম্পর্কিত বই বা চলচ্চিত্রগুলো যখন নিষিদ্ধ করা হয়নি, বা করা হলেও তা প্রকৃত অর্থে সমাজ তাকে বাদ দিতে পারেনি, তখন তসলিমা নাসরিনে'র আত্মজীবনী নিষিদ্ধ করার মতো কি কারণ থাকতে পারে তা আমার জানা নেই।

শেষ করার আগে বলবো আমি কারো পক্ষে বা বিপক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্যে কথাগুলো লিখিনি, বরং সমাজে নারীদের ভূমিকা বা অবস্থান সম্পর্কে একটা ক্ষুদ্র ছবি তুলে ধরতে চেয়েছি। আমাদের সমাজকে এই সব সংঙ্কর্ীনতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। নারীদের চলার পথকে আরো সুগম করে দেয়া উচিত, যাতে তারা পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান করে একটা সমাজে তাদের অবদানকে নিশ্চিত করে যেতে পারেন।

বিঃদ্রঃ স্বল্প পরিসরে যে কোন লিখা শেষ করা সত্যিই কঠিন, তবুও চেষ্টা করেছি যতটুকু সম্ভব। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে আমার এই লিখা সম্পর্কে আপনাদের যে কোন মন্তব্য সাদরে গৃহীত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×