অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম "মা"-কে নিয়ে একটা লিখা ব্লগে পোস্ট করবো। কিন্তু হয়ে উঠেনি। যতবারই লিখতে বসেছি, চোখে জল এসেছে। ঝাপসা চোখে মনিটরে কেবল মা'র মুখখানিই ভেসে উঠেছে। এলোমেলো হয়েগেছে আমার সব কথা। চোখের জলে ভেসে গেছে সব। আজ যখন লিখতে বসলাম, তখনও আমার দু'চোখে অশ্রুধারা, কি লিখবো জানিনা! শুধু জানি মা'কে খুব মনে পড়ে, অসম্ভব রকম মনে পড়ে। প্রতিটিদিন, প্রতিটিক্ষণ।
আমার মা খুব সাধারণ একজন বাঙালী নারী। আমাদের বাঙালী সমাজে আর দশটা মা যেমন হয়, উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু না থাকলেও, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে আমার "মা", আমার জন্মদাত্রী। জানিনা, কি একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে বার বার কেবলই মা'র স্মৃতিগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। আজ খুব মনে পড়ে, মা'র অনেক অনেক স্মৃতি। ছোট্ট বেলায় সেই যে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিত ঘুম পাড়ানি গান গেয়ে, স্কুলে যাওয়ার সময় হলে কত যতন করেইনা আমাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে দিত, দুপুরের ঘুম বাদ দিয়ে পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলতে যাওয়ার কারণে বিকেলে মা'র বকুনি, অসুস্থ হলে মা মুখে তুলে খাইয়ে দিত! কি করে ভুলে থাকবো এসব? খুব মনে পড়ে মা'র চোখে অশ্রু দেখে কিভাবে কেঁদেছিলাম! আমেরিকাতে আসার জন্যে যেদিন রওনা হচ্ছিলাম, সেদিন পুরোটা পথ মা আমাকে ধরে শুধু কেঁদেছিলেন। কোন ভাষাতেই কিছু বলতে পারিনি, বোঝাতেও পারিনি। অথচ মা সেদিনও অসুস্থ ছিলেন, নিজের দিকে এতটুকুও খেয়াল ছিলোনা। একেই কি বলে "মা"?
দেশে যতদিন ছিলাম, কখনোই মা'কে এভাবে অনুভব করিনি, আজ বুকের ভেতর কেবল হাহাকার, একটা বিশাল শূণ্যতা, বলে দেয় আমার মা কেবলই আমার মা। প্রবাসে আসার পর যার কথা আমার সবচেয়ে বেশী মনে পড়েছে, সে হলো আমার "মা"।
কি লিখবো? কিছুই গুছিয়ে বলতে পারছিনা। শুধু বলতো ইচ্ছে করছো,"মাগো, তোমাকে খুব মনে পড়ে, খুব খুব মনে পড়ে, তুমি ভালো থেকো।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


