সময়টা ছিল অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শুরু প্রথম দিকে ক্লাসের চাপ কিছুটা কম থাকার কারণে ঠিক করি বাংলার বাঘ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এর স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমন করার ব্যাপারে। ক্লাসে বিষয়টা তুলে আমাদের ক্লাসে খুবই এ্যকটিভ ছেলে ফরহাদ সে নানা রকম এর পোস্ট নিতে থাকে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে। বরিশাল থেকে খুবই কাছে এবং সকালো যাবে সন্ধ্যায় আসা যাবে বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভাল লাগল। আমি খুবই একঘরে প্রকৃতির ছেলে তেমন কারো সাথে এতটা ভালো খাতির করতে পারি না, আর করলেও তেমন একটা খোজখবর নেই না যার কারণে আমার বাবা-মা এবং আত্বীয় স্বজন ছাড়া কেও খবর নেই না। পুড়ানো কিছু বন্ধু আছে তাদের সাথে বাসায় আসলে কথা হয়। বরিশালে এসেছি একবছর হয়ে গেছে, কিন্তু আমি ইউনিভার্সিটি এবং বাসা আশেপাশের এলাকা ছাড়া আর তেমন কিছু চিনি না। তাই হঠাৎ করে আমার এই ভ্রমনটি করার ব্যাপারে আগ্রহ করাটা আমার কাছেই কেমন যেন লাগছে, চিন্তা করছি আমি যাব ট্যুরে বিষয়টা আমিও ভাবলাম গেলে কি হবে গেলে একটা দিন নষ্ট হবে বাসায় বসে থাকতেই তো ভালো হবে নানা প্রশ্ন মনে জাগে। কিন্তু আমার বন্ধু ইয়ামিন জোর করে আমার যাবার ব্যাপারে। শেষমেষ আমিই নাম লিখি ট্যুরে যাবার লিস্টে। প্রায় অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করি ট্যুরে যাবার ব্যাপারে, বিশেষ করে মেয়েরা কেননা তারা সকালে যাবে সন্ধ্যা আসবে তাই তারাও বেশ রাজি হয় যাবার জন্য। যা হোক আমাদের সবার মধ্যেই ট্যুার নিয়ে অনেক আলোচনা শুরু হয় কি করব না করব। এর পরের শুক্রবার ঠিক আমাদের ভ্রমনের দিন। তারিখ টা ঠিক মনে নেই তবুও শুরু করি ...
যেদিন যাব আবহওয়াটা ছিল একটু শীত শীত ভালোই লাগছিল শীতকালে ভ্রমন করার মজাই আলাদা। বেশি সকালে যাত্রা করায় আমাদের সবাই শীতের পোষাক পরিধান করেই এসেছিলাম। নথুল্লাবাদ থেকে অটো ভাড়া করি আমরা। নথুল্লাবাদ হচ্ছে বরিশালের সড়ক পথের যোগাযোগ এর প্রাণ কেন্দ্র, এখান থেকে প্রায় সকল রুটের সড়ক পথে যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে দুটো অটো লাগে আমাদের সবাই প্রায় সুন্দর ভাবে বসতে পারি। একটা মজার ব্যাপার এখনো বলা হয়নি, যে বন্ধুর কারণে আজকে আমি যাচ্ছি ইয়ামিন সে আর আসতে পারল না। তাকে অনেক বার ফোন দেয়া হয়েছে কিন্তু সে ফোন ধরল না । অটো ছাড়ার কিছুক্ষন পরে সে ফোন দিয়ে বলে মাত্র নাকি সে ঘুম থেকে উঠেছে। যাক তার পরেও আমার খুব ভালো লাগছিল। আমাদের অটোতে আমরা সবাই ছেলেই ছিলাম অন্য অটোতে দুজন ছেলে ছাড়া সবাই মেয়ে ছিল। তাদের রাখা হয়েছিল মেয়েদের সিকিউরিটি কথা চিন্তা করে। আমাদের অটোতে সবাই ছেলে হওয়াতে আমরা ইচ্ছে মতো কথা বলতে পারলাম। আসলে আমাদের কথায় বেশির ভাগই খারাপ ভাষার ব্যবহার যার জন্য মেয়েরা থাকলে কথা বলতে অসুবিধা হয়। আমাদের অটো ছিল আমাদের ক্লাস এর একমাত্র ছেলে গায়ক শুভ। ছেলেটা লেখা পড়ার পাশাপাশি খুব ভাল গান গাইত বিশেষ করে হিন্দি গান। সে প্রথম গান গাওয়া শুরু করল। এরপর একে একে আমরা সবাই তার তালে তালে গান গাওয়া শুরু করলাম। সবাই তার পছন্দ এর গান গাওয়া শুরু করল। একমাত্র আমিই যে এখনো কোনো গান গাইনি, আসলে আমার ভান্ডারে তেমন গান নেই। তাও সকলের গানের সুরে সুরে গাইতে থাকলাম আর প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে লাগলাম। বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে পদে পদে মুগ্ধ করে। এরকম এক গ্রামীণ পরিবেশ আমাকে সবসময় আর্কষণ করে, মনে যেন গ্রামেই চিরকাল থেকে যাই। এর চেয়ে শান্তির যায়গা আর কোথাও নেই। মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই আমরা চলে আসি সেই ঐতিহ্যবাহি চাখার যেখানে বাংলার বাঘ শেরে এ বাংলা একে ফজলুল হক এর স্মৃতি জাদুঘরে।
খুব সকালে বের হওয়ার কারণে আমরা কেউই নাস্তা করিনি, তাই নেমে চিন্তা করলাম সবাই আগে খেয়ে নিই। তারপর ঘুরা যাবে জাদুঘরটি । চাখার বাজার একটু সামনেই ছিল তার সাথে ছিল অনেক গুলো হোটেল, যেগুলো খুবই স্বাভাবিক মানের তাই, আমরা বাজার টা বেশ ঘুরে একটি ভালো হোটেল পাই। যা সেই বাজারের তুলনায় খুব ভালো মানের ছিল। টেবিল গুলো খুব সুন্দরভাবে সুসজ্জিত এবং ভিতরের পরিবেশ ছিল বেশ শান্ত। প্রায় সিংহভাগ যায়গা আমরাই দখল করি। সেখানে সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল পরোটা, ডাল-ভাজি এবং তুন্দল রুটি। আমাদের মধ্যে বেশির ভাগই তুন্দল রুটি অর্ডার করল। আমিও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে তুন্দল রুটি অর্ডার করলাম। কিন্তু পরে মনে হল পরোটাই অর্ডার করলে ভালো হত। তুন্দল রুটি মান তেমন ভালো ছিল না। যাক বেশ সুন্দরভাবেই খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফেলি আমরা। একমজার বিষয় ঘটল আমাদের কয়েক বন্ধুর মধ্যে খাওয়া হঠাৎ করে প্রতিযোগিতার লিপ্ত হল , কে কত বেশি খেতে পারবে। তারা একের পর এক খেতে থাকল কিন্তু কেউ হার মানতে রাজি নয়। পেট এর অবস্থা বারোটা কিন্তু তারা খেয়েই যাচ্ছে কেননা মানসম্মান এর ব্যাপার তার পর আমরা বলি এমনিতেই দেরি হয়ে যাচ্ছে আর তোরা এখনো খেয়েই যাচ্ছিস। এর পর একজন থামল তার পরই প্রতিযোগিতা শেষ। যে বেশি খেল তার পেট নিয়ে সে এখন উঠতে পারছেনা। আমি বললাম তুই বসে থাক তোর আর দেখতে হবে না।
এরপর আমরা তাকে ধরে সবাই উঠাই কিছুক্ষন পর সে স্বাভাবিক মনে করল এবং আমরা আমাদের সকালের নাস্তা পর্ব শেষ করে বাংলার বাঘের বাড়ি দর্শনের জন্য বের। হই কিন্তু পথি মধ্যে আমি বাজার টা দেখতে লাগলাম এখানকার মানুষ বেশ স্বাভাবিক তাদের বাজার টাও ছিল একেবারেই গ্রামীন। এইরকম বাজার আমার খুব ভালো লাগে তাদের সুন্দর স্বাভাবিক জীবন কোনো চিন্তা নেই প্রতিদিনের বাজার প্রতিদিন করে নিয়ে যায় আমাদের মতো তারা একসাথে একমাসের বাজার করে না। আমাদের মতো এত চিন্তাও তাদের মাঝে নেই। যাই এইসব চিন্তা করতে করতে আমরা চলে আসি শেরে বাংলা এক ফজলুল হক এর বাড়ির সামনে।
আসুন জেনে আসি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পর্কে। তার পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শেরেবাংলা এবং ’হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠান করেছেন, তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫),পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম (তথ্য সূত্র : উকিপিডিয়া)। তার সম্পর্কে পড়ে বোঝাই যাচ্ছে সে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ প্রভাবশালী ব্যাক্তি ছিলেন। তার স্মৃতি জাদুঘরের প্রথমেই পরবে একটি ফলক যেটাতে লেখা আছে ”চাখার শেরে-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর”। ঢুকতেই প্রথমেই রয়েছে শেরে-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পর্কে সব কিছু লেখা আছে। যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কিভাবে তিনি বাংলায় তার রাজনৈতিক জীবন এবং তার ব্যাক্তিগত জীবন সমন্ধে জানতে পারি। কিন্তু সবাই এগুলো না পড়ে ছবি তোলার জন্য ব্যাস্ত হয়ে গেছে তাদের ছবি তোলার বিভিন্ন পোজ দেখে সত্যিই খুব হাসতে ইচ্ছা করছিল।
আরেকটি বিষয় যেটা বলতেই হয় সেখানো গিয়ে আবার গ্রুপিং শুরু হয়। কয়েকজন মিলে তারা একেকটি গ্রুপ করে ঘুরতে থাকে। তাদের মধ্যে কোনে গ্রুপেই আমি ছিলাম না। কিন্তু আমি জাদুঘর দেখার সময় ফরহাদ এবং আর কয়েকজন মিলে ঘুরে দেখতে থাকি। বাকিরা তাদের মতো ছবি এবং জাদুঘর দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। বেশি বড় নয় তাই আমাদের ঘুরে সব কিছু দেখতে বেশি সময় লাগেনি। ঘুরে দেখা শেষ করতেই সবার ছবি তোলার ধুম শুরু হয়। আমিও তাদের তালে নিজেকে হারিয়ে ফেলি এবং ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে যাই। আমি তেমন কোন পোজ জানি না এবং আমার কোনো সানগ্লাসও নেই। যার ফলে অন্যের সানগ্লাস এবং অন্যের পোজ কপি করেই চলছিল আমার ছবি তোলা। রোদ থাকার কারণে প্রায় ছবিতেই আমার গায়ের রং বেশ ফর্সাই দেখাচ্ছিল। রোদে ছবি তোলার এই এক সুবিধা। বর্তমানে ফেসবুকেও ঠিক একই প্রবণতা দেখা যায় কার গায়ের সত্যিকার গায়ের রং কি তা বোঝার কোনো চান্স নেই। অনেকেই ছবির প্রেমে পড়ে দেখা করতে গিয়ে ধোকা খেয়েছে এরকম আমার অনেক বন্ধু সাথেই হয়েছে। ছবি তোলার মধ্যেই হঠাৎ করেই আমাদের ফাহিম কিবরিয়া সাহেব তার অত্যন্ত সুন্দর কিছু ছবি তোলার টেকনিক দিয়ে সবাইকে ছবি তোলায় সহায়তা করছে। তার নানান ধরনের পোজ সবাই পছন্দ করতে থাকে। এর সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করে তাসলিমা এবং বুলবুল। তারা সবাইকে বলে যে তারা খুব ভাল বন্ধু কিন্তু সবসময় একসাথে থাকায় সবাই তা মানতে চায় না। তাদের কাপল ছবি তোলায় তাদের প্রতি সন্ধেহ আর বেড়েই চলছে। এখানে এই সব করতে করতে আযান এর সময় হয়ে গেল। শুক্রবার ছেলেরা যারা আছে তারা সবাই জুম্বার নামাজ আদায় করতে চলে গেল। আমি এবং আমার সাথে সব হিন্দু বন্ধুরা বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম তাদের জন্য, মেয়েরাও ছিল আমাদের সাথে। অনেক কথাবার্তা বলতে থাকি। তাদের নামাজ পড়া শেষ হলে আমরা চলে যাই আমাদের দুপুরের খাবার খেতে।
এবারের হোটেল টা তে ভালোই যায়গা আছে সবাই ভালো ভাবে বসতে পারলাম। তো এখন বিষয় টা হচ্ছে এই দোকানের মোরগ পোলাও এর দাম ৫০ টাকা। শুনে কিছুটা অবাক হলাম এত কম দামে কেউ কি মোরগ-পোলাও দিতে পারে। তারপর আমরা দোকানদার মামা কে বললাম আসলেই কি মোরগ পোলাও থাকবে না অন্য কিছু সে বলল ’মামা টেনশন নিও না আমাদের এখানে দাম একটু কম এবং আমরা মোরগ-পোলাও ই দেব’। দাম টা শুনে সবাই বেশ খুশি আমরা এর চেয়ে অনেক বেশি বাজেট রেখেছিলা দুপুরের খাবারে কিন্তু এত কমে হয়ে যাচ্ছে বলে সবাই বেশ সস্তি পেল।
প্লেটে করে যখন খাবার সব টেবিলে দিতে থাক , তখন খাবার প্লেট পাওয়ার পর দেখি শুধু পোলাও কোনো ধরনের মোরগ দেখতে পাচ্ছি না। তখন মামা কে বললাম মামা মাংস কই, মামা বলে পোলাও এর ভেতর খুজেন পেয়ে যাবেন। পোলাও ভিতর দেখলাম একটা ছোট মাংস এবং একটা হাড় তাও আবার ব্রয়লার মুরগির। প্রায় সবার প্লেটেই একই অবস্থা। প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলাম যে এখানে এত কমে মোরগ-পোলাও এর মান কি হতে পারে। তাও খেতে খুব ভালো লাগছিল, আসলে একটা কথা আছে ক্ষুদার্থ পেটে সব খাবারই ভালো লাগে। সবারই ক্ষুদা লেগেছিল তাই সবার কাছেই ভালো লাগল খাবারটা।
খাবার শেষ হলে আমরা সবাই কোমল পানীয় পান করি। তারপর আমরা চিন্তা করি কিছুক্ষন বিশ্রাম করে নিই, এখন কথা হচ্ছে কোথায় নেয়া বিশ্রাম এতগুলো মানুষ ঠিক তখনই আমরা খেয়াল করলাম সরকারি ফজলুল হক কলেজ, চাখার আমরা সবাই ঠিক করি নেই যে কলেজটা একটু ঘুরে দেখব। যার ফলে আমরা এর ভেতরে প্রবেশ করি। অত্যন্ত সুন্দর এবং পরিপাটি চারপাশ নির্জন এতটা নির্জন ছিল যে খুব ভালোই লাগছিল জায়গাটা আমার তো প্রচুর ঘুম এসে যাচ্ছিল। তালাবদ্ধ ছিল বলে আমরা ভবনের ভিতর ঢুকতে পারিনি। কিন্তু বাইরে থেকে বেশ লাগছিল। কলেজটি শেরে-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৪০ সালে নিজে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরবর্তিতে এটি
সরকারি করন করা হয়। এটি ছিল একসময় কার দক্ষিনবঙ্গের অন্যতম বিদ্যাপীঠ। সর্বোপরি এই অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার জন্য কলেজটি ছিল এক আর্শিবাদ সরূপ। আমরা এর ভিতরে বসার কিছু জায়গা ছিল সবাই বসে অনেক আড্ডা দিচ্ছিলাম খুব ভালোই সময় কাটছিল। বিশ্রাম নিয়ে আমরা দেখি যে আমাদের হাতে এখনও অনেক সময় আছে। এখান থেকে কিছু দুরেই গুঠিয়া মসজিদ সবাই ঠিক করি গুঠিয়া মসজিদ থেকে ঘুরে আমরা বরিশাল এর উদ্দেশ্যে রওনা হব। আবার চলে আসি চাখার বাজারে সেখান থেকে আমরা ভ্যান ঠিক করি যে এখান থেকে গুঠিয়া মসজিদ যাবার জন্য। অনেক দামাদামি করে কিছুটা কমের মধ্যে আমরা তিনটা ভ্যান ঠিক করি এবং রওনা হই গুঠিয়া মসজিদ এর উদ্দেশ্যে। মুহূর্তটা বেশ ভাল লাগছিল আমার কাছে ভ্যান এ আমরা সব বন্ধুরা একসাথে এবং গান গেতে গেতে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে করতে আমরা যাচ্ছি গুঠিয়া মসজিদ এর উদ্দেশ্যে যা আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন গুলোর মধ্যে একটি ছিল। কিছুক্ষন এর মধ্যে চলে আসি আমরা গুঠিয়া মসজিদ এ। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা মসজিদ গুলোর মধ্যে এটি, এস. গরফুদ্দিন আহম্মেদ গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ- এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন (১৬ ডিসেম্বর ২০০৩)। মসজিদটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় (২০০৬)। এবং গুঠিয়ার নামেই ৮ গুম্বজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি পরিচিতি লাভ করে। ১৪ একর জমির উপর স্থাপিত এই মসজিদটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্œতমানের কাঁচ, ফ্্েরম, বোস স্পিকার। এছাড়া মসজিদটির সীমানার মধ্যে ঈদগাহ ময়দান, দিঘি, এতিমখানা, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক, পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান রয়েছে। একটি হ্যালিপেডও রয়েছে। তথ্যসূত্র: উকিপিডিয়া। এতসুন্দর মসজিদ আমি কখনো সামনাসামনি দেখিনি। সবসময় টিভিতে বা ছবিতেই এগুলো দেখতাম এখন সামনে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখানে এসেও আবার সবাই ছবি তোলায় ব্যাস্ত হয়ে গেল। হাতে সময় কম ছিল কেননা গেট বন্ধ করে দিবে তাই অল্প কিছু সময়ের মধ্যে পুরোটা ঘুরে দেখলাম। আমার কাছে বিশেষ করে বাগান টা বেশ ভালো লাগল আমার এত প্রকারের ফুল একসাথে যা দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিল। সব দেখা শেষ করে অতিদ্্রুত আমরা বের হয়ে যাই। সামনেই বরিশাল যাওয়ার বাস পেয়ে গেলাম। সবাই একে একে উঠে গেলাম বাসে। আমার কাছে যাত্রাপথ টাই বেশ চমৎকার লাগে। কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে চলে আসছি বরিশাল এর দিকে মনে হচ্ছে গ্রাম গুলো কেমন যেন মিলিয়ে যাচ্ছে শহরের বাতাস লাগা শুরু করল। দেখতে দেখতে চলে বরিশাল এ যেখান থেকে আমরা আমাদের আজকের যাত্রা শুরু করলাম। সন্ধ্যার কিছুটা সময় আগে আমরা এসে পৌছালাম। এদিক থেকে আজকে বারাকাত এর জন্মদিন ছিল এবং আমাদের টাকা থেকে এখনো বেশ কিছু টাকা রয়েছে। সবাই বারাকাত এর জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কিনে ফেলি। পাশেই রয়েছে সরকারি বি এম কলেজ। সবাই চিন্তা করি সেখানেই জন্মদিনের কেকটা কাটি। চলে যাই বি এম কলেজে সেখানে গিয়ে আমরা কেক কেটে বারাকাত এর জন্মদিন উদযাপন করি এবং বেশ কিছু ছবি তোলা হয় সেখানে গিয়ে। আমাদের সবাই বারাকাত সন্ধ্যা বেলা ট্রিট দেয় যেটা ছিল বেশ চমৎকার। যাহোক সেই দিনটা বেশ কাটল আমার, এর পর আমরা সবাই চলে যাই যার যার বাসায়। আমিও চলে আসি আমার মেস এ। দিনটা এতটা ভালো লেগেছিল যে এটা নিয়ে না লেখে পারলাম না। যাহোক আশাকরি সবাই এই ভ্রমন কাহিনি বেশ উপভোগ করেছেন ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০২১ রাত ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




