জীবনে সবাইকেই পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আসতে হয়েছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর লেখা প্রধান কাজ হলেও নানাজনের মনে আসে বিচিত্র সব ভাবনা। উত্তরপত্রে লেখার পাশাপাশি মাথায় ঘোরে সেসব চিন্তা। দেখে নেওয়া যাক কেমন সেই চিন্তাগুলো—
ফার্স্ট বয়ের ভাবনা
আরে ছি ছি, সব প্রশ্নই তো কমন, কোনটা ছেড়ে কোনটা লিখব? উফফ, প্রশ্নের উত্তরগুলো আরও বড় করে লিখতে পারছি না, আবার ফার্স্ট তো হতেই হবে। না হলে আম্মু-আব্বু বকবে। আরে মাথায় কী আবোল-তাবোল চিন্তা আসছে এগুলো? সবাই তো দেখছি জোরসে লিখছে, কেউ যদি বেশি নম্বর পেয়ে যায়, তা হলে আমার ইজ্জত থাকবে না। ধুত্তোর স্যাররা কেন যে এত সহজ প্রশ্ন করে?
সেকেন্ড বয়ের ভাবনা
কী হবে এবার আমার? কত দিন আর সেকেন্ড থাকব? এটা কি অবিচার না? তখন থেকে দেখছি ফার্স্ট বয় কী যেন ভাবছে আর ভাবছে, এই ছেলে কী খায়? এত নম্বর পায় কী করে? ব্যাটা দেখতে ভালো বলে স্যাররা মনে হয় বেশি নম্বর দেন। আমি না হয়ে এই মুখস্থ করা পাবলিক যত দিন ফার্স্ট হবে, দেশের কোনো উন্নতি হবে না বলে দিলাম।
আঁতেল ছাত্রের ভাবনা
একজন শিক্ষক কী করে এ ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন? প্রশ্নে সৃজনশীলতার কোনো ছোঁয়াই নেই। গুটিকয়েক ছাত্রের জন্য প্রশ্ন করে কী লাভ! স্পষ্ট বুঝতে পারছি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কোন জায়গায় চলে গেছে। আজ যদি আমি আমেরিকায় পড়াশোনা করতাম এ অবস্থা হতো না। এভাবে পরীক্ষা দিয়ে আমার জ্ঞান কোনোভাবে বিকশিত হতে পারবে না।
ফাঁকিবাজের ভাবনা
স্যারদের মনে কি কোনো দয়া-মায়া নেই? প্রশ্ন তো দেখে মনে হচ্ছে হিব্রু ভাষায় করা। হতে পারে আমি পড়াশোনা করি না, কিন্তু তাই বলে কি আমার পাস দরকার নেই? আমারও তো স্বপ্ন আছে। বাদ দিই এসব চিন্তা, কী করে এই তিন ঘণ্টা কাটাব? খাতায় কিছু লেখা মানে তো অযথা কাগজ নষ্ট। এর চেয়ে কীভাবে টাইম পাস করা যায় তা-ই ভাবি!
ফেসবুক আসক্ত ছাত্রীর ভাবনা
এত কষ্ট পরীক্ষা দিতে। ঘেমে তো হালকা মেকআপটাও নষ্ট হয়ে যাবে। এমনি পরীক্ষার চিন্তায় শরীর খারাপ হয়ে গেছে। ধুত্তোর এত লেখা যায়? পরীক্ষা নিয়ে বাসায় গিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিতে হবে। যা পারি তা-ই লিখি, আব্বু বলেছে পাস করতে পারলেই ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবে। পাস আমাকে করতেই হবে।
রাজনৈতিক কর্মীর ভাবনা
আমার সরকার ক্ষমতায়, তাও কী করে এই শিক্ষকের সাহস হয় প্রশ্ন কঠিন করার? আরে আমাদের জন্য এত কিছুতে ছাড় দেওয়া হয় আর পরীক্ষায় দেওয়া হবে না! ব্যাটাকে এত করে বললাম প্রশ্ন সহজ করতে, না হয় সাজেশন দিতে, কিছুই দিল না। ছাইপাঁশ কিছু একটা লিখে বের হই তো হল থেকে, জায়গামতো ফোন দিলে ঠিকই পাস করে যাব এবার!
শিক্ষকের ভাবনা
আহা বাছারা, ক্লাসে খুব বীরদর্পে চলো, এখন একেকটার এ অবস্থা কেন? প্রশ্ন যা করেছি তিন তিন ছয় ঘণ্টা পরীক্ষা দিলেও পার পাবা না। আর আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার, দেখি কে কার সঙ্গে কথা বলে। একটাও যদি ঘাড় ঘোরায়, ঘাড় ভাঙতে না পারলেও খাতা ঠিকই কেড়ে নিতে পারব।
আলোচিত ব্লগ
কিছু ছবি কিছু কথা-----------
-----------------
ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন
শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।