somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটোরের রানী ভবানীর রাজবাড়ী ভ্রমন

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রবেশমুখে জীবনানন্দ দাশ তার শান্তিদায়িনীর কথা স্মরন করে আপনাদেরও বর্তমান/ভাবী শান্তিদায়িনীর কথা স্মরনে রেখে সম্ভাষন জানাবেন। :D


বেশ কিছুদিন আগে নাটোরের রানী ভবানীর রাজবাটি পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিলো। রানী ভবানী সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা ছিলনা। ওখানে গিয়ে জানলাম।
কামদেব মিত্র নাটোর রাজপরিবারের পূর্বপুরুষ । তার তিন ছেলের একজন রামজীবন একজন রঘুনন্দন এবং আরেকজন বিষ্ণু প্রসাদ। মেঝো পুত্র রঘুনন্দন ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ তিন ভাইকে বাবা পুটিয়ায় পাঠান পারশিয়ান ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে দক্ষতার জন্য পুটিয়ার রাজা দর্পনারায়ন তাকে নিজের প্রতিনিধি এবং উকিল হিসাবে ঢাকার নবাবের কোর্টে নিয়োগ দেন। সেখানেই তিনি নবাব মুর্শিদ কুলী খাঁর নজরে পড়েন এবং একপর্যায়ে তিনি নবাবকে একটি ভীষন বিপদ থেকে উত্তরনে সাহায্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এক সময় নবাব তাকে দেওয়ান নিযুক্ত করেন এবং রয়-এ-রয়ান খেতাবে ভূষিত করেন। সেই সময় খাজনা দিতে না পারা জমিদার বা খাজনা দিতে অস্বীকার করা জমিদারদের জমিদারী নবাব দখলে নিয়ে অকশনে নুতন জমিদার নিয়োগ দিতেন।
এরকম সময়ে ১৭০৭ সালে খাজনা দিতে না পেরে বিখ্যাত জমিদার ভগতচরন চৌধুরী এবং গনেশরামের জমিদারী অকশনে উঠলে অতি বুদ্ধিমান রঘু তার বড়ভাই রামজীবনের নামে কিনে নেন এবং এভাবে আশেপাশের আরো অনেক জমিদারী কিনে নিয়ে রাজ পরিবারের পত্তন করেন। রামজীবনও পরে স্বয়ং আরও জমিদারী কিনে ১৩৯টি পরগনার (বিরাট এলাকা বা গ্রাম সমষ্টি বা জেলার অংশ। শব্দটি ফার্সি থেকে এসেছে) মালিক হন।
রামজীবনের দত্তক পুত্র রমাকান্ত রানী ভবানীকে বিয়ে করেন। তিনি খুব বুদ্ধীমতি এবং তেজস্বি নারী ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর নবাব আলিবর্দী খাঁ রানী ভবানীকে জমিদারীর ভার অর্পন করেন তিনিও রাজ্য বিস্তার করে অর্ধেক বঙ্গ করায়ত্ব করেন তাই তাকে অর্ধবঙ্গেশ্বরীও বলা হত।
কিছু তথ্য গুগল মামা দিয়েছেন কিছু তথ্য ওখানেই লিপিবদ্ধ আছে।
এবার চলুন ভিতরে প্রবেশ করা যাক ।


হনুমান জ্বী তার সমস্ত বীরত্ব নিয়ে হাজির হয়েছেন।


মনসা দেবীর কাজ কি জানিনা তবে আমার মনে হয় পাপী এবং অত্যাচারীদের প্রতি তিনি একটা মহা হুমকী।


কোন মানত পূর্ন করার জন্য বা কোন দেবীকে খুশী করার জন্য এমন বেদী মনে হয় বানানো হয়েছে।


একজন বাউল সাধক।


ক্ষুদে মন্দির


শিব মন্দিরে প্রবেশ পথ।


পূজায় ব্যবহৃত কোন ঘট।


কোন একজন দেব/ দেবী।


শিব মন্দির।


রাজবাড়ীটি বড় তরফ ও ছোট তরফ এই দুই ভাগে বিভক্ত।


বৈঠকখানার একাংশ।


আর্চের উপর কারুকার্য আমাকে দারুন মোহিত করে। ঐ সময়কার শিল্পীদের শিল্পকলা এখানে ভীষন অযত্নে পড়ে আছে অথচ এগুলো মেরামত ও রং করে সংরক্ষন করলে এবং সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনলে লাখো পর্যটকের পদচারনায় এ জায়গাটি মূখরিত হয়ে উঠতো আমরা প্রচুর ডলার আয় করতে পারতাম । দেখেছি ব্যাঙ্ককের বিভিন্ন মন্দির বিশেষতঃ স্বর্ণমন্দির কি সুন্দর চত্তর কি ব্যবস্থাপনা কেমন পর্যটকের ভীড় হয়। :D


কিছু দৃশ্য যেগুলো তৈরীতে ভাস্কর্য্য জ্ঞান প্রয়োজন।


শিব এবং কৃষ্ণ সম্ভবত।


বাধাঁনো পুকুরের ওয়ালে অঙ্কিত চিত্র প্রত্যেকের কাধে কর্মের এবং জীবনের বোঝা আর পুকুর রয়েছে আবর্জনায় ভরা।




বৈঠকখানা।


বড় তরফের রাজবাড়ী।


এখানে শ্যামা মন্দির হলেও সব পূজাই হয় বলে শুনেছি।


পিলারের কারুকার্যের মধ্যে মানুষের মূর্তি।






রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ফাটল ধরেছে দেয়ালে, ছাতা পড়েছে শিল্পে, ময়লা জমছে চিত্তে।


ছাদের কার্নিশে কারুময় চিত্রাঙ্কন। বলা হয় রানী ভবানীর মূর্তি।


রাজবাটিতে অনেকগুলি পুকুর আছে। পুকুরের আশে পাশে কিছু ঝোপঝাড় কিছু পরিত্যাক্ত স্থাপনা আছে যা নির্জনতা প্রত্যাশীদের জন্য আদর্শ স্থান। তেমন কিছু দৃশ্য চোখে পড়ায় মায়া লাগলো আহা বেচারা বেচারীদের জন্য আসলে কোন জায়গাই নেই তাই জোক সাপ খোপের ভয় উপেক্ষা করতে হচ্ছে।


পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে। আয়টি দেবোত্তোর সম্পত্তির তাই রক্ষনাবেক্ষনে তা ব্যয় হওয়ার কথা আসলে তা হয় কিনা তা একটা বিরাট প্রশ্ন ।


বিরাট পুকুর এবং পুকুরের পাশে ঝোপঝাড় ও পরিত্যাক্ত স্থাপনা।




পুকুরের স্বচ্ছ টলটলে জলে ঝাপিয়ে পড়ে সাতার কাটতে ইচ্ছে করে।


পাঁচটি মাথা বিশিষ্ট আরেকটা মনসা দেবীর মূর্তি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:১৮
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×