খেলাধূলা বিশেষত ফুটবল আমার খুবই প্রিয়। ছেলেবেলা থেকেই খেলাধূলা যেমন - ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল এই খেলাগুলো খেলেছি। কিন্তু আরও কিছু খেলা ছিল যেগুলো এখন আর দেখা যায় না বললেই চলে। যেমন -কবাডি(হা ডু ডু), গোল্লাছুট, খোঁ খোঁ, কিত কিত, কানামাছি, চিচিং ফাঁক, বৌ চুড়ি ইত্যাদি। পুরোপুরি দেখা যায় না বললে ভুল হবে। গ্রামে এখনো এই খেলাগুলির চল আছে কিন্তু সেইভাবে আর হয় না।
কিন্তু এখন শহরে এইসব খেলা আর দেখা যায় না। আমি লক্ষ্য করেছি যে এখন ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা খেলাধূলা করতে আগ্রহ দেখায় না। বাবা মায়েরা তাঁদের শিশুদের মাঠে নিয়ে গেলেও শিশুরা সংগী পায় না যা আমাদের সময় ভাবাই যেত না। অনেকে ভাবতে পারেন যে আমার হয়তো অনেক বয়স কিন্তু না সবে ২৭।
আমাদের একটি ছোট শহর যা কোচবিহার জেলার অন্তর্গত। নাম মাথাভাঙ্গা। নামটা একটু অন্যরকম। যাই হোক তা ছোটোবেলায় আমরা যখন বিকেলে মাঠে খেলতে যেতাম মাঠে এতটাই ভীড় হত যে আমাদের সুযোগ পাওয়া সম্ভব হত না যদি বা সম্ভব হত তাহলে আমাদেরকে দুধভাত, মাংসভাত এভাবে নেওয়া হত। টিমে জায়গা পেলেও আমাদের কোন কাজ ছিল না শুধু বলের পেছনে দোউড়তে হত। কেউ আমাদের বল পাস দিত না। ক্রিকেটে ব্যাট করতে, খোঁ খোঁ, গোল্লাছুটে দম দিতে, ভলিবলে সার্ভিস করতে দিত না পাড়ার দাদারা। তবে তার মধ্য দিয়ে আমরা আনন্দ উপভোগ করতাম। আরেকটু বড় হয়ে আমরা বিশেষ করে আমি সুযোগ পেয়েছি এবং ধীরে ধীরে স্কুল লেভেল, মহকুমা লেভেল এবং জেলা স্তরে খেলেছি। ফুটবল খেলার সুবাদে আমি উত্তরবঙ্গের বহু জায়গায় খেলেছি।
খেলাধুলা খুব ভালবাসি বলেই এখন খুব খারাপ লাগে। কারন এখন বিকেলে মাঠের সামনে গেলে আর ছেলেদের খেলতে দেখা যায় না। মহকুমা ক্রীড়া সংস্থা অনেক চেষ্টা চালিয়েও মাঠে খেলোয়াড় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। ছেলেরা এখন মোবাইল এ গেম, এস এম এস, গান নিয়ে ব্যস্ত। খেলার সময় নেই তাদের কাছে। পড়াশোনার চাপ দেখে মনে হ্য় তাড়াই শুধু পড়ে। তারা এখন পিঠে ব্যাগ নিয়ে সাইকেলে/মোটর বাইকে চেপে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে অথবা বিশেষ কারো সাথে কথা বলতে বলতে প্রাইভেটে যায়। খারাপ লাগে ভাবতে যে আজ থেকে মোটামুটি পনের বছর আগেও আমরা খেলার মাঠে জায়গা পেতাম না। মাঠে প্রতিনিয়ত ৬০-৬৫ জন খেলোয়াড় উপস্থিত হত। যার ফলে চান্স পাওয়া কষ্টকর ছিল। এটা শুধু আমাদের শহরে নয় কর্মসূত্রে উত্তর দিনাজপুরে এসে এখানকার বেশ কিছু মাঠেও লক্ষ্য করেছি খেলোয়াড়দের অভাব।
আমার ধারনা আপনাদের ওখানেও একই অবস্থা! অবশ্য যারা খেলাধূলা ভালবাসেন। এই বিষয়টি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এবং আপনাদের অভিমত জানতে চাই ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


