somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাওয়া ভ্রমণ

০১ লা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকার যেকোন স্থান থেকে যাত্রাবাড়ী পৌছে ফুটঅভার ব্রীজের দক্ষিণ দিকের পোস্তাগোলাগামী রাস্তা দিয়ে একটু সামনে এগুলেই পাওয়া যাবে মাওয়া বাসষ্ট্যান্ড। এখান থেকে প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর অন্তর বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস ছেড়ে যায় মাওয়ার উদ্দেশ্যে। আনন্দ, ইঁলিশ, গুন-গুন ইত্যাদি পরিবহনে মাওয়া যেতে বাস ভাড়া লাগবে কম-বেশী ৫০ টাকা । ৫০ টাকার বিনিময়ে প্রায় ৩৫ কি.মি. পারি দিয়ে মাওয়া ফেরী ঘাটে পৌছতে সময় লাগবে ঘন্টাখানেক।



নিশ্চিন্তে চড়ে বসুন যে কোন একটা বাসে। ইচ্ছে করলে সকাল কিংবা দুপুরে রওনা হয়ে বিকেলটা মাওয়ার পদ্মা পাড়ে কাটিয়ে সন্ধ্যার পরপরই ফিরে আসা যায় ঢাকাতে। যাত্রাবাড়ি ছাড়া গুলিস্থান থেকেও মাওয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়। এখান থেকেও ভাড়া একই পরিমান লাগলেও সময় একটু বেশী লাগ।




বাস শহরের কোলাহল পার হয়ে কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার দুপাশে দিগন্ত বৃস্তিত ধূঁধূঁ সাদা বালির মাঠ। কিছুদিন আগেই এই বালির মাঠগুলি ছিলো সবুজ ধান খেত। বর্ষায় এই ধান খেত হয়ে যেত স্বচ্ছ জলের বিল। কিন্তু জমিখেঁকো কিছু কোম্পানির আবাসন প্রকল্পের চাপে আজ আর সেই বিলের চিহ্ন মাত্র নেই। আজও এই বালির মাঠের ঠাঁসবুনটের চাঁপ উপ্যো করে কিছু কিছু ফসলের মাঠ টিকে আছে ধুঁকতে ধুঁকতে। এখনো টিকে আছে কিছু গ্রাম বাংলার চিরায়ত প্রাকৃতিক পরিবেশ। বাসের জানলার পাশে বসে এই সব দেখতে দেখতেই পৌছে যাবেন মাওয়া ফেরিঘাট।

বাস থেকে নামতেই রাস্তার পাশে দেখা যাবে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট যারা ভাতের হোটেল নামেই বেশি পরিচিত। উপরে টিনের চালা আর তিনদিকে টিনের দেয়াল দেয়া এই সব রেস্টুরেন্ট দেখতে যেমনই মনে হোকনা কেন, এখানকার গরম ভাত আর গরম গরম ভাঁজা পদ্মার টাটকা ইঁলিশের স্বাদই আলাদা। পরিবেশটি যেমন আলাদা তেমনি এই ভোজনের আনন্দ আর স্বাদও আবশ্যই আলাদা।




মাওয়া ফেরিঘাটের উত্তর দিকে নদীর পাড়দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় অনেক দূরে। নদীর পাড় দিয়ে হাঁটার সময় একপাশে থাকবে রূপালী পদ্মা আর অন্যপাশে থাকবে সবুজে ঘেঁড়া গ্রাম। ইচ্ছে করলেই ঢুকে পরা যায় গ্রামের ভেতরে। ছায়া সুনিভির গাছগাছালিতে ঢাকা চমৎকার একটি গ্রাম দেখে নেয়া যাবে ঘন্টাখানেক পাঁয়ে হেঁটেই। নিশ্চয়াতা দিয়ে বলতে পারি গ্রামকে গ্রাম হিসেবেই পাবেন এখানে। শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিকতা মুক্ত এই গ্রাম অবশ্যই সবার ভালো লাগবে।





দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত নদীতে থাকবে সূর্যের রূপালী ঝিলিক। মৃদু বাতাসে নদীর জলে ছোট ছোট রূপালী ঢেউ ঝলকে দেয় চোখ। নদীর ঘাটে দেখা যাবে অসংখ্য স্পিডবোড। ইচ্ছে করলেই ১৫০টাকার বিনিময়ে ১৫-২০মিনিটে ¯স্পিডবোডে চড়ে পার হয়ে যাওয়া যায় নদী। ফেরী ঘাটে আরো দেখা যায় ফেরীর আনাগোনা আর তাতে করে গাড়ীদের নদী পারাপার। মন চাইলে এই ফেরিতেও চড়ে বসা যায়, তবে ফেরী ছেড়েদেবার আগে আগেই নেমে পরতে হবে।




নদীপারের গ্রামের মানুষ আর ছোট ছেলে-মেয়েরা দুপুরে স্নান সেরে নেয় এই নদীরই বুকে। তাদের দেখলে নিজেরই ইচ্ছে করে নদীতে ঝাপিয়ে পরে তাদের সঙ্গী হয়ে যেতে। দেখা যাবে অসংখ্য জেলে নৌকো বাঁধা আছে পদ্মা পারে, হয়তো রাতের বেলা এই নৌকোই ছেড়ে যাবে রূপলী ইঁলিশ ধরতে। নদীতে দেখা যাবে ছোট্ট ছোট্ট নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে।




দেখতে পাবেন আপনার সামনে দিয়েই নৌকো থেকে নামানো হচ্ছে সদ্য ধরে আনা পদ্মার হরেকরকম টাটকা মাছ আর সেই সাথে রূপালী ইঁলিশ। ইচ্ছে করলে একটু দামাদামি করে কিনে নিতে পারেন এই টাটকা মাছগুলী থেকে আপনার পছন্দমতো যে কোনো পারিমান।


দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন পাটে বসতে চলে তখন ম্লান সূর্যের সোনালী ছায়া পরে নদীর বুকে। চমৎকার সেই মূহুর্ত। নদীর জলে যেন তরল সোনা মিশিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। নদীর উপর দিয়ে একলা নিঃসঙ্গ কোনা বক বা এক ঝাঁক গাংচিল উড়ে যায় তার রাতের আশ্রয়ের দিকে।



এবার আমাদেরও ফেরার পালা। ফেরী ঘাটের কাছেই বাসষ্ট্যান্ড থেকে যেকোন বাসের টিকিট কেটে চড়ে বসুন বাসে। ঘন্টা খানেক পরে পৌছে যাবেন ঢাকা যাত্রাবাড়ি বা গুলিস্থান।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:২২
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হন্টেড হোটেল : বেনফ স্প্রিংস হোটেল,কানাডা

লিখেছেন নাফি ইমতি, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৪৫

ব্যানফ স্প্রিংস হোটেল, কানাডার আলবার্টাতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক হোটেল। অনেকেই বিশ্বাস করেন ১৮৮৮ সালে নির্মিত এই হোটেলটি ভুতুড়ে। বছরের পর বছর ধরে, কর্মচারী এবং অতিথিরা অস্বাভাবিক ভৌতিক ঘটনার কথা জানিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মকিম গাজী ভাই

লিখেছেন কুশন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ২:০৪



আমি এখন বাফেলো শহরে থাকি।
আমেরিকার সেরা দশ শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাফেলো। এখানে হালাল মার্কেট, হালাল রেস্তোরাঁ আর অনেক মসজিদ। এই শহরে বাঙ্গালীদের অভাব নেই। অনেক বাঙ্গালীকে লুঙ্গি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:০৫

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

“আমি ৭০ বছরের একলা মানুষ। তবে এখনো সক্ষম, নিজের সব কাজ, বাজার হাট, রান্নাবান্না ও নিজের দেখাশোনাটাও নিজেই করতে পারি। তেমন কোন রোগব্যাধিও নেই। অবসরপ্রাপ্ত, মাসিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুচরো ব্লগিং চারঃ এ চাইল্ডস লজিক

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫৮



কয়েক দিন আগে অনলাইনে দেখা একটা একটা ফানি ভিডিওর কথা মনে পড়লো । সেখানে দেখা যায় একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে জানতে চাইছে, আচ্ছা হানি, যদি আমি মোটা হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষ্টেশন ভাগাভাগি' র গল্প

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০৯


শৈশব থেকে পথ হারিয়েছি বহুবার, তবুও আশ্চর্য এক কারনে নতুন পথের সন্ধানে নামতে হয় বারংবার। খেলার সাথী বন্ধুমহল কিংবা অগ্রজ অনেকেই বেশ নির্ভার থাকেন আমার দেখানো পথে। তাদের ভাবনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×