somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাইমারির মাষ্টার - ১

০৭ ই জুন, ২০২২ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্লগের সবচেয়ে স্বাধীন জিনিস টি হলো এখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা যায়। কারো ভালো না লাগলেও। আমি এই কারণে যাচ্ছেতাই লিখি। বেশীর ভাগ সময়ই পড়ি। বলতে গেলে আমার শিক্ষকতা জীবনের এখন ভোর বেলা চলছে। হাটি হাটি পা করে শিখছি। ব্লগে হয়ত এই লেখাগুলো দেয়ার কারণ হলো কেউ যদি কোন উপায় বাতলে দেন আর আমি তা প্রয়োগ করে আমার শিক্ষকতা জীবন সহজ করতে পারি তাইই। এছাড়া লিখলে নির্ভার হয়ে পড়ি। মনে হয় যেন খুব একটা বোঝা নেমে গেলো অনেকদিনের।

যাই হোক। আমি খুব এলোমেলো লিখব। যেহেতু ভাল লেখক নই। কেউ পড়ে বিরক্ত হলে আমি খুব দুঃখিত। আজকের ঘটনা দিয়ে শুরু করার আগে বলে রাখি আমি একজন সনাতন ধর্মালম্বী। আমার কর্মস্থল একটি গহীন গ্রামের জনপ্রিয় স্কুলে। এখানে হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই বাস। সংগত কারনেই আমার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রায় কাছাকাছি সংখ্যক উভয় ধর্মেরই শিক্ষার্থী রয়েছে। আমি প্রায়ই একমাত্র হিন্দু শিক্ষক হবার কারণে একটা অভিযোগ পাই তা হলো কোন মুসলমান শিক্ষার্থী হিন্দু কোন শিক্ষার্থীকে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছে। বেচারিরা খুব মন খারাপ করে এসে আমার কাছে অভিযোগ জানায়। আমি তাদের বলে বলে ক্লান্ত হই যে, ধর্ম হচ্ছে একটি হীরার মতো তাকে যতই নোংরা জল দিয়ে ভিজিয়ে দেয়া হোক না কেন তা হীরাই থাকবে এবং তোমার ধর্ম তোমার কাছে তাইই। থাক, ওরা বুঝে বলেনি। আমি এখন পর্যন্ত কোন মুসলিম শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাইনি।

আজ একটু ব্যাতিক্রম ঘটনা ঘটে গেলো আমার জীবনে। বিভিন্ন কাজের জটিলতায় চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসের ধর্মের ক্লাসটা আমার নিতে হয়েছে। আমি প্রথমে বললাম, যেহেতু সংখ্যায় কম , তাই আগে ওদের টা পড়ে শোনাই। মুসলিম শিক্ষার্থীরা না না বলে চিৎকার করতে লাগলো। আমিও অযোগ্য শিক্ষক হিসেবে কি করব বুঝতে পারছিলাম না। তারপরেও ওদেরকে থামিয়ে একটি অধ্যায় পড়ানো শুরু করতেই একটু পর দেখলাম অন্যেরা কানে হাত দিয়ে বসে আছে। এর মধ্যে আমার প্রিয় একজন মেধাবী ছাত্রী এবং আমারই সিনিয়র শিক্ষিকার মেয়েও রয়েছে। আমার ধর্মের কথা অন্য ধর্মের মানুষ শুনতে চাচ্ছেনা তা আমায় কোনদিনই বিচলিত করেনি। আমায় যা আহত করেছে তা হলো এই কক্ষে আমার কিছু হিন্দু শিক্ষার্থীও রয়েছে। ওদের এই কোমল মনের আঘাতটার ব্যাপারে আমি কি করব বুঝতে পারছিনা। যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষায় আলাদা ধর্মের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়না। সেহেতু তা যেকোন শিক্ষককেই পড়াতে হবে। যেহেতু শিক্ষকতা আমার ধর্ম সেহেতু আমার কোন শিক্ষার্থী কোন ধর্মের তা আমার ধর্তব্যের বিষয় হতেই পারেনা। প্রায় দুদিন পর পর অভিযোগ পাচ্ছি। একমাত্র সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষক বিধায় এবং নবীন বিধায় তা নিয়ে আমি শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় আগ্রহী নই। এর আরেকটি কারণ হতে পারে আরো কিছু ঘটনা। যেমন, আমি আসসালামুয়ালাইকুম অর্থ জানি, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তাই সবাইকে অনেক আগে থেকেই সালাম দিতাম। গড ব্লেস ইউ , যেহেতু একই অর্থ বহন করে। আমার প্রধান শিক্ষিকা একদিন ডেকে আমাকে তা দিতে নিষেধ করলেন। এরপর থেকে আদাব দিতে শুরু করলাম। কিছুদিন বাদে খেয়াল করলাম, আমার আদাবের বিপরীতে আমার প্রানপ্রিয় শিক্ষক শিক্ষিকাগণ মাথাও নাড়াচ্ছেন না। এরপর থেকে কি করা উচিত বুঝতে না পেরে ,কেমন আছেন? জিজ্ঞেস করেই ক্ষান্ত হতে শুরু করি। আমি যখন ছাত্র ছিলাম আমার একজন প্রিয় শিক্ষক ছিলেন নুর হোসেন স্যার । যাকে আমি এখনো দেখা হলে পা ধরেই সালাম করি। তিনিও গর্ব করে বলেন যে আমি তার প্রিয় ছাত্র। যাকে দেখেই আমি শিক্ষক হব মাথায় ঢুকে গিয়েছিল।

আমি ঠিক জানিনা গত ১৪ বছরে এদেশে এমন কি হয়েছে যে এত বিদ্বেষের ফেনা বয়স্ক থেকে শুরু করে কচিকাচার ভেতরেও চলে এসেছে? গত ১৪ বছরে ফেসবুক ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে যা ঘৃণা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম বলে আমি মনে করি। আমি যদি নূর হোসেন স্যারের মতো একজন আদর্শ শিক্ষক হতে পারি তাহলে কি আমার মুসলিম শিক্ষার্থীরা আমার পা ছুতে চাইবে নাকি অন্য ধর্মের বলে এড়িয়ে যাবে? আমি কি আমার ধর্মের ভিন্নতার কারণে ওদের মনে জায়গা করতে পারবনা? প্রশ্নগুলো আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু আমাকে তো শিক্ষক হতে হবে, অনুসরণ করতে হবে আমার মন্ত্র খানা।

"একজন সাধারন শিক্ষক পড়ান
একজন ভাল শিক্ষক ব্যাখ্যা দেন
একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শিশুদের অনুপ্রাণিত করেন।"
- কারলাইন্স।

থ্যাংক গড। আমার শিক্ষার্থীদের ধর্ম, বর্ণ, অর্থনৈতিক অবস্থা আমাকে তিল পরিমাণ দ্বিধায় ফেলেনা।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০২২ রাত ৯:২২
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×