somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহ! শৈশব! তুমি অন্যরকম হলে পারতে।

০৫ ই জুন, ২০২৩ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





ছোটবেলা হতেই আমি স্কুল পছন্দ করতাম না। যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন সবাইকে বলেছিলাম, আমি পড়ালেখা পছন্দ করিনা। অষ্টম শ্রেণীর বছরটা খুব মনে পড়ে। প্রথম চশমা ওই বছরেই লেগেছিল নাকের ডগায়। প্রথমবার বুঝতে পেরেছিলাম আমি পড়ালেখা পছন্দ করিনা। কেবল তিনগোয়েন্দায় মুখ গুঁজে বসে থাকতে ভালো লাগতো। মানুষ ব্যতিক্রম কে ভয় পায়। ভয় থেকে ঘৃণা করা শুরু করে। আমি সবার মতো মিশুক ছিলাম না।বন্ধু বানাতে আমাকে খুব বেগ পেতে হয়েছিল। আমি যতোটুকু জানতাম কোন বন্ধু আরেক বন্ধুকে শিক্ষকের হাতে মার খেতে দেবে না। কিন্তু আমার ক্লাসের পরিবেশ ছিলো উল্টো। কিছু সংকীর্ণমনা সহপাঠীর কারণে ওই সময়টা মনে হলে নিজেকে দুর্ভাগা লাগে। যেহেতু মেধার সাথে বিনয়ের কোন সম্পর্ক নেই। ওই সময়টায় আমার মেধাবী সহপাঠী ছিল কিন্তু বিন্দুমাত্র বন্ধুত্ব ছিল না কারো সাথে। হিউম্যান নেচারের ক্ষুদ্রতম দিকের সাথে আমার পরিচয় ঘটে ঐ সময়েই।

সংগত কারনেই আমি স্কুলে যেতে চাইতাম না। নিজ গৃহে ও আমার সময় ভালো কাটতো না। কাজের লোকের হাতে মার খেতে হত। তিনি আমাকে পছন্দ করতেন না। কারন আমার প্রাইভেট টিউটরের সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। একদিন দুপুরে আমি তা দেখে ফেলেছিলাম। এ আদিম ঋপুর ব্যাপারে ঐ বয়েসেও আমি ওয়াকিবহাল ছিলাম না। কিন্তু তিনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। এখনকার যুগে হলে ভয়াবহ কি ঘটতে পারতো তা ভাবতেই আমি শিউরে উঠি । যতদিন ছিলেন আমার উপর উনার আক্রোশ সবসময়ের মতোই বহাল ছিল। বাবা-মা যার যার কর্মস্থল থেকে ফিরে এলেও আমার অবস্থার পরিবর্তন হত না। বদমেজাজি বাবা কারণ ছাড়াই ধমক দিতেন এবং মারধোর করতেন। অফিস থেকে ফিরে মায়ের আমার ভালো রেজাল্ট ছাড়া অন্য কিছু শোনার সময় হতো না।

আমি ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। সংখ্যালঘুর সংখ্যালঘু। আমার এলাকার হিন্দুপাড়ার ছেলেরা আমাকে খেলায় নিত না। কারণ ওই পাড়াতে আমরা একটি ব্রাহ্মণ পরিবার ছিলাম। হিন্দু ধর্মে জাতভেদ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখনো নিম্নবর্ণের হিন্দুরা অত্যাচারিত হচ্ছে। বহু আগে থেকেই এই বর্বর প্রথা চালু ছিল। উচ্চবর্ণের হিন্দুরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার করতো। এই ব্যাপারটা অনেক নিম্নবর্ণের হিন্দুদের অনেকের মনে গেথে আছে এখনো। আমি তা কখনই মানতাম না। সবার সাথেই বসতে চাইতাম। কিন্তু কোন অনুষ্ঠানে খেতে গেলে আমাকে আলাদা বসতে হতো। যার ফলে অন্যান্যরা কিছুটা ঘৃণার চোখেই আমাকে দেখতো।সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আমি আমার জুনিয়র দের হাতে বুলিংয়ের স্বীকার হয়েছি। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুখে বলতে পারতাম না বিধায় খেলা হতো না। যদি কেউ ভুল ক্রমে জিজ্ঞেস করতেন খেলব কিনা তখন মাথা নেড়ে সায় দিয়ে খেলতে যেতাম। না-হয় বসে খেলা দেখতে হতো। আবার বাজি ধরা পছন্দ ছিল না বিধায় খেলতে দেয়া হতো না। কারণ আমার কাছে টাকা থাকতো না।কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার সত্য কথা বড়রা পছন্দ করতেন না। ঘরে ফিরে আসাটাই আমার জন্য যুক্তিযুক্ত মনে হতো।

ঐ সময়কার একমাত্র শান্তির পরশ ছিলেন আমার দিদিমা। শর্তহীন শেষ ভালোবাসার প্রতীক। মামার বাড়িতে যখন প্রত্যেক গাছের তেতুল আমি টিপে টিপে দেখছি, মমতাময়ী দিদিমা তার নাতীকে তখন ব্যাকুল হয়ে নামতে বলতেন। একবার কামরাঙ্গা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে গিয়েছিলাম। এক খালামণি একটি গাভীকে জল খাওয়াতে এসে দেখেন জলের জায়গায় আমি ব্যাঙের মতো চিৎপটাং হয়ে পড়ে রয়েছি ওখানে। মুখে হাসি। হাত আর পায়ের মাঝখানে বাঁশের খুঁটি গুলো। দৈবক্রমে অত উঁচু থেকে পড়েও বেশি ব্যাথা পাইনি। গাভীটার অবাক মুখ এখনো মনে পড়ে। এতোটুকুই ছিলো আমার শৈশবের সুখময় স্মৃতি।

ছোটবেলা থেকেই মনুষ্য সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্রতা, নীচুতা, হীনতা,কাপুরুষতার সম্পর্কে জানতে পেরে গিয়েছিলাম। এতোটুকুন বাচ্চার ভেতরে ঘৃণার কালো মেঘ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছিল সবাই। ভালো বই যদি না থাকতো তাহলে আলো দিয়ে ওই কালো মেঘ সরাতে অনেক সময় লাগতো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৩ রাত ১১:৫০
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খুঁড়িয়ে হাঁটা সেই ছেলেটি

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৪৯




বাবা-মা কখনো ছায়াদার বটবৃক্ষ, কখনো আঘাতের বিপরীতে ঢাল, নিকষ আঁধারে আলোর মশাল, বিষাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস, বিপদে পরম আশ্রয়, আবার কখনো-বা শত্রুর বিপক্ষে মহাপ্রলয়। বাবা-মায়ের হাতে অদ্ভুত এক ক্ষমতা রয়েছে। কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঋণ/কিস্তির ফাঁদে আটকে যাচ্ছে গ্রামের অনেক মানুষ।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৫৬




মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ছেলে-মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর সালমা বেগম (৩৫) নামের এক মা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ঋনের চাপ সামলাতে না পেরে। এটা গেলো পত্রিকার খরব।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবুল বরকত সম্পর্কে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৪৬


আবুল বরকত (১৩ অথবা ১৬ জুন ১৯২৭ – ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২) ছিলেন একজন বাঙালি ভাষা আন্দোলন কর্মী যিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতির দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট বাংলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মোকিং একেবারেই ছেড়ে দিতে পারা মানুষদের চিনেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৬








আসক্তির মাঝে নিকোটিন( স্মোকিং) খুব স্লো প্রসেস;টানা ২০/২৫ বছর হাফ প্যাক করে কন্টিনিউ করললে খুবই ড্যান্জারাস রেজাল্ট শো করে। হেরোইন,কোকেইন, অ্যালকোহল,মেথের পরেই নিকোটিনের অবস্থান।পৃথিবীতে বিলিয়ন মানুষ স্মোকিং করে,প্রতিদিনই মিলিয়ন মারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার অর্থনীতি সুদের উপর নির্ভরশীল

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৫



আমেরিকার সরকার নিজের জনগণ থেকে ঋণ নেয়, মানুষকে সুদ দেয়; ইহাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসা; এই মহুর্তে এই এই ঋণের পরিমাণ হচ্ছে, ৩২,০০০,০০০,০০০,০০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×