somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিগত ৭২ ঘন্টায় ৩টি নৃশংস হত্যা এবং পুলিশের যুদ্ধ ঘোষনা বিষয়ক

০৮ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিগত ৭২ ঘন্টায় দেশে ৩টি নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে - চট্টগ্রামে মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তা'র স্ত্রী, নাটোরে খ্রিস্টান ব্যবসায়ী এবং ঝিনাইদহে এক হিন্দু পুরোহিত

এর মাঝে দুটি একান্তই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ট্রিটেড হচ্ছে - কিছু অজ্ঞাতপরিচয় অাততায়ীর হাতে একটা মানুষ খুন হলে যেভাবে যা হয় আর কি। তৃতীয়টি মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছে প্রচুর। কারন ভিকটিম একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। বাবুল আক্তার আমার নিজের কাছেও "হিরো কপ"। আর আমার পরিবারও এরকমই দুটি হত্যাকান্ডের শিকার।

আজ সোশ্যাল মিডিয়াতে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার Muhammad Sanwar Hossain তার স্ট্যাটাসে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। তাঁর স্ট্যাটাসটি নিম্নরূপঃ

‪#‎জঙ্গি_নিয়ে_আমি_আর_কাজ_করবো_না‬
হ্যা, আমি আর জঙ্গি-ফঙ্গিতে নাই। অনেকেই তো পুলিশের চাকুরী করে, কিন্তু সবাই কি জঙ্গি নিয়ে কাজ করে? করে না। তাহলে এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আমি কেন করবো? আমিও অন্য কোন বিভাগে চলে যাচ্ছি। কে চায় পেশাগত দায়ীত্ব পালনের দায়ে পরিবারের সদস্যদের হারাতে? কেউ না, তাই আমিও না।

ঠিক এই রকম একটি সিদ্ধান্তই দেখতে চেয়েছিল জঙ্গিরা। তাই শুনিয়ে দিলাম। তবে শুধু শুনানোর জন্য নয়, আমি আসলেই জঙ্গি নিয়ে আর কাজ করবো না। যেটা করবো সেটা হচ্ছে যুদ্ধ, যুদ্ধ করবো। আগে করতাম কাজ, এখন করবো যুদ্ধ।... কাজের পরিবেশ তো আর নেই, যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেছে। পরিবারের নিষ্পাপ সদস্যের উপর আঘাত, যুদ্ধ না তো কি? তাই এখন জঙ্গি নিয়ে কাজ মানেই যুদ্ধ।

‪#‎একটু_বিশ্লেষণে_যাচ্ছি‬:
পুলিশ আর অপরাধীর মধ্যে সাপে-নেওলে সম্পর্ক সব দেশেই আছে। দেশে দেশে কুখ্যাত মাফিয়াচক্রের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈরিতা সবথেকে চরম। এই মাফিয়ারাও একে অপরকে বলে থাকে:

‪#‎Never_Ever_Touch_A_Cop‬
(কখনও পুলিশের গায়ে হাত দিও না)

পুলিশের গায়ে হাত দিলে কি বিপর্যয় হয়, আর পুলিশের আইনগত দায়ীত্ব মেনে নিলে কি ক্ষতি হয়, তার তুলনামূলক হিসাব তাদের আছে। তাই সচরাচর কোন দেশেই পুলিশের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কেউ জড়ায় না। তারপরও কখনও কখনও তারা পুলিশের উপর হামালা চালায়। কিন্তু পরিবারের কোন ক্ষতি করে না। এটা তাদের ‪#‎থাম্ভ_রোল‬।

এদেশের জঙ্গিরা এখন সেই 'থাম্ভ রোল'-এর অনেক নীচে নেমে গেছে। পুলিশসহ অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর উপর হামলা তো করছেই, বরং তাদের পরিবারের সদস্যদের উপরও হামলা শুরু করে দিয়েছে। তা না হলে আর জঙ্গি/জংলি বলা হয় কেন।

অথচ, বিভিন্ন সময় জঙ্গি পরিবারের অন্যান্য নিষ্ক্রিয় সদস্যরা সনাক্ত হলেও তাদের ইজ্জত করা হয়। তাদের পরিবারের পর্দানশীল নারী, ছোট ছোট বাচ্চা এবং বয়োবৃদ্ধদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।.... তাহলে ওরা কেন এমন করছে?

তাহলে ওরাই বা কারা?

প্রশ্নের জবাব খুব তাড়াতাড়ি আসছে.... ইনশাল্লাহ। দাত ভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে সে যে-ই হোক। শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই '৭১ থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে পুলিশের যতটুকু গেছে তা আর অন্য কোন পেশায় যায়নি। এই ত্যাগটুকুই পুলিশের অনেক সীমাবদ্ধতা আর ভুল-ত্রুটিগুলোকে লেভেল করে দিচ্ছে। সামনে উদ্বৃত্ত কিছু রাখার জন্য কাজ হচ্ছে।

আশা করি জঙ্গিবাদ (আমি বলি উগ্রবাদ) সমূলে উৎপাটনে আমাদের নিষ্পাপ 'ভাবী'র এই মূল্যবান রক্ত আমাদের কাজের গতি, ক্ষিপ্রতা এবং অনুপ্রেরণা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। দেশের নিরাপত্তামূলক কাজের জন্য ভাবীকে হারালাম, ভাবী ‪#‎শহিদের_মর্যাদা‬ পাবেন।

তাই প্রতিশোধ নয়, উৎপাটন হোক আমাদের অঙ্গীকার। ঠান্ডা মাথায় কিভাবে যুদ্ধ করতে হয় তা শুধু পুলিশই জানে, তাই এখনই শুরু করার পালা।



আমার কষ্ট এখানে, সহকর্মীর স্ত্রী নৃশংস ভাবে খুন হবার পরেই পুলিশ নড়ে চড়ে বসেছে, অথচ ২০১৩ থেকে বাংলাদেশের ওপর ইসলামিস্ট জংগীদের যে খুনের মহোৎসব চলছে সে বিষয়ে এর আগে পর্যন্ত পুলিশের কেউ এভাবে ভাবেননি। সেই সময়, শুরুর দিকে শক্তভাবে ব্যাবস্থা নিলে আজ অনেকেই এভাবে অকালে এই নৃশংস হত্যার শিকার হতেন না।


বিগত ৭২ ঘন্টায় ৩টি নৃশংস হত্যা এবং পুলিশের যুদ্ধ ঘোষনা বিষয়ক

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:২২
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১৭



পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষঃ
পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরবাসী ঈদ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:২৩

আমার বাচ্চারা সকাল থেকেই আনন্দে আত্মহারা। আজ "ঈদ!" ঈদের আনন্দের চাইতে বড় আনন্দ হচ্ছে ওদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে না। সপ্তাহের মাঝে ঈদ হলে এই একটা সুবিধা ওরা পায়, বাড়তি ছুটি!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের হামলায় ইসরায়েল কি ধ্বংস হয়ে গেছে আসলেই?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ২:৪৯


ইসরায়েলে ইরানের মিসাইল হামলার একটি ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন অনলাইনে। যাতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মিসাইল ইসরায়েলের আকাশে উড়ছে আর সাইরেন বেজেই চলেছে! ভিডিওটি দেখে আপনি ভাবতে পারেন, হাজার কোটি ডলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিসের সনদের মান নির্ধারণ করা শয়তানী কাজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৬:৪০



সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়ানটের ‘বটমূল’ নামকরণ নিয়ে মৌলবাদীদের ব্যঙ্গোক্তি

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩



পহেলা বৈশাখ পালনের বিরোধীতাকারী কূপমণ্ডুক মৌলবাদীগোষ্ঠী তাদের ফেইসবুক পেইজগুলোতে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ব্যঙ্গোক্তি, হাসাহাসি করছে। কেন করছে? এতদিনে তারা উদঘাটন করতে পেরেছে রমনার যে বৃক্ষতলায় ছায়ানটের বর্ষবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×