বাড়ীটা আমার আসা যাওয়ার পথেই পড়ে। দোতলা, একহারা গড়নের হলুদ বাড়ী। সামনে ফুলের বাগান থাকলেও থাকতে পারে; যেতে আসতে সেভাবে ল করি নি কখনও। তবে প্রায়ই রবীন্দ্র সংঙ্গীত শুনতাম, দোতলার একটা জানালা দিয়ে। একদিন কি মনে হতে জানালার দিকে তাকিয়ে দেখি, একটি মেয়ে, চোখে তার বোবা দৃষ্টি; তাকিয়ে বহু দুরে। যেন কারো প্রতীার প্রহর গুনছে। এরপর প্রাই দেখতাম তাকে; একই দৃষ্টিতে, একই ভঙ্গীতে।
এভাবে এক সময় আবিষ্কার করলাম মেয়েটি আমাকে অদ্ভুত রকমের টানতে শুরু করেছে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারিনি আর্কষণের কারন। হয়তো সেটা তার নিস্পাপ মুখ; কিংবা বোবা দৃষ্টি। কখনও-সখনও ইচ্ছে হয়েছে ছুটে গিয়ে বলি-"ওমন প্রতীা কোন সে মানুষের তরে; দৃষ্টি মেলে খুজে ফেরো কার ছায়া?" কিন্তু সাহসে কুলোই নি।
সময়ে ব্যস্ততা বাড়লো আমার। প্রায়ই কাজের তাগিদে শহরের বাইরে যেতে হতো আমাকে। প্রতিবার কাজ শেষে বাড়ী ফিরে ভাবতাম, এবার মুখো মুখি হবো। ইচ্ছে ইচ্ছেই থেকে গেল। এরপর হঠাৎ একদিন দেখা বন্ধ; বাজে না গান; নেই সেই বোবা দৃষ্টি। পরে খবর নিয়ে জানলাম, ওরা বাড়ী বদল করেছে। খোজার চেষ্টা করেছি বহু; ব্যর্থ হয়েছি বারবার।
এরপর পৃথিবী সূর্যকে কতবার প্রদণি করছে তার খবর রাখিনি। কাজের তোড়ে ভেসে গেছে জীবনের ুদ্র মূল্য বোধ গুলো। আর হৃদয়ের আনেক রক্তরনের মত তাকেও তুলে রেখেছিলাম স্মৃতির চিলেকোঠায়। অবরে-সবরে সময় নষ্টালজিয়া খুব ভোগালে স্মৃতির ডাস্টবিন ঘাটি।নিজের অজান্তে নাড়াচাড়া করি তাকে নিয়ে। সাজাই গদ্যে-পদ্যে; ছন্দে-সুরে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


