somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একাত্তরের গণহত্যা । ছাতক, সুনামগঞ্জ ।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুনামগজ জেলার ছাতক উপজেলা মুক্তিযুদ্ধে এক গৌরবময় ভূমিকা পালন করে । এ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধাদের সাথে পাকবাহিনীর মুখোমুখি যুদ্ধ হয়েছে অনেকগুলো । শহীদ হয়েছেন বাংলার অনেক দামাল ছেলে। সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ' বিন্দু বিন্দু রক্ত ' - এর ১ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা ( ২ ফ্রেব্রুয়ারি, ১৯৭২ ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুধু ছাতকের একটি অপারেশনেই শহীদ হয়েছেন ৪০জন মুক্তিযুদ্ধা । এঁরা হলেন - একরাম আলী, মো় মোস্তফা তালুকদার, সফিকুর রহমান, পীযূষ কান্তি সরকার, হুসেন আলী, আবু সিদ্দিক, ফিরোজ মিয়া, আবদুল মজিদ আলী, আবদুন নুর, মফিজ উদ্দিন, আবদুল বাছিত, আবিদ আলী, শমন আলী, সুরুজ আলী, নুরুল ইসলাম, আবদূর রশিদ, আবদুল আহাদ, এনামুল হক, আকবর হুসেইন, শমসের আলী, মুসলিম আলী, আবদূর রশিদ ও আলী আহাদ ।
২৮শে এপ্রিল পাকবাহিনী প্রবেশ করে ছাতক শহরে । শহরে ঢুকেই তারা নির্বিচারে চালাতে থাকে হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণ । প্রথমে ছাতক বাজার লুট করা হয়, তারপর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাজার ।
ওইদিন ছাতক বাজারে যাঁদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের কয়েকজন হলেন - সিলেট কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র দিলীপ কুমার তড়াত, মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র জ্যোতির্ময় দত্ত নানু, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কেরানি কলিম উদ্দিন, ছাতকের ব্যবসায়ী যোগেন্দ্র দত্ত ও রুনু দাস । ছাতক যাওয়ার পথে গোবিন্দগঞ্জে তারা হত্যা করে জিতেন্দ্র দাস সহ আরো দু'জন গ্রামবাসীকে ।
পাকবাহিনীর অপরাধের সহায়তার জন্য গঠন করা হয় রাজাকার বাহিনী । এই বাহিনী গঠনে এগিয়ে আসে তোতা মিয়া, আশক আলী, ইছাক আলী প্রমুখ । এরাই স্থানীয় যুব সমাজের একটি অংশকে প্রলোভন দেখিয়ে হানাদার বাহিনীর সহযোগীতে পরিণত করে এবং পাক পশুদের যাবতীয় কুকর্মে সহায়তা করে । রাজাকার ইছাক আলীর পরামর্শে একদিন পাকবাহিনী হাজির হয় গণেশপুর গ্রামে । গুলি করে হত্যা করে ছাত্র ইউনিয়নের বিশিষ্ট কর্মী মখলিছুর রহমানকে । তিনি বিমান বাহিনীতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেও ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু হলে তার প্রতিবাদে বিমান বাহিনী ছেড়ে চলে আসেন । সুযোগ বুঝে ভারত গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন । তার সে আশা আর পূর্ণ হয়নি তার আগেই শত্রুর গুলিতে শহীদ হয়ে মাতৃভূমির জন্য রেখে গেলেন অবিস্মরণীয় অবদান ।
২৬শে মে, ১৮ জন যুবক ছাতকের বেতুরা গ্রামের পাশ দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছিলেন । বেতুরার কুখ্যাত রাজাকার মতছির আলী ওরফে ফকির চেয়ারম্যান নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে তাদেরকে সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় । বিশ্বাস ঘাতক এই বেঈমান গোপনে পাকি ক্যাম্পে খবর দিয়ে নাম না জানা এই যুবকদের পাকসেনাদের হাতে তুলে দেয় । আদের আর্ত চীৎকারে সেদিন বেতুরার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে । ভঁয়ে মানুষ দিকবিদিক পালাতে থাকে । সতের জনকে গুলি করে হত্যা করে পশুরা । বিরাট গর্ত করে তাতে মাটি চাপা দেয় সবাইকে । জীবন্ত অবস্তায়ই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল অনেককে । সেই সতের জন বাঙলার বীর দামাল শহীদ যুবকদের নাম পরিচয় কিছুই জানা জায়নি ।

ছাতক - সিলেট সড়কের পাশে মাধবপুর নামক স্থানে নাম না জানা সতের জন বীর শহীদের স্মৃতির উদ্দ্যেশে নির্মিত ' শিখা সতের ' ।



৬ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের হঠিয়ে ছাতক মুক্ত করেন বীর মুক্তিযুদ্ধারা । ৫ ডিসেম্বর রাতে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় অবস্থান নেয় মুক্তিযুদ্ধারা । পরদিন সকালে সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে শহরে এসে অবস্থান নিলে পিছু হঠতে থাকে পাক হায়েনারা এবং বিনা যুদ্ধে ছাতক মুক্ত হয় ।

তথ্য সুত্রঃ সিলেটে গণহত্যা, তাজুল মোহাম্মদ ।




সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৬:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×