
পুকুরের পাড় ঘেঁষা কৃষ্ণচূড়ার গাছের
ঝাঁকরা ফুলের অস্ফুট মৃদু সুরভিত
একটা সৌরভ মাতিয়ে তুলেছে... তার
ডালেই আবার বাঁধা একটা ছোট্ট
দোলনা।
তার উপরে নীল জামা পরা একটা
মিষ্টি বাচ্চা মেয়ে। ঠোঁটে তার আনন্দ
হাসি। ভেসে আসা দমকা অশান্ত
বাতাসে ছোট্ট দোলনার দোলনী সাথে
গাছের ডালে নব পল্লবের পাশে পাখির
কিচির মিচির ডাক। তার একটু পরেই
আবার দেখা যাচ্ছে সোনালী শস্যক্ষেত।
সারা সময় যেন আনন্দ আর আনন্দের
ছোঁয়া! সতেজতা এবং একটুকু ভাললাগার
ছোঁয়া!
সন্ধ্যা নামার মুখে রাখাল তার মোষের
পাল নিয়ে, কৃষক লাঙল ও তার ঠোঁটের
কোণে মৃদুহাস্য নিয়ে ঘরে ফিরছে। মনোরম
গোধূলি বেলা...
কিন্তু জানো? সবটাই না অতীত! সেই
গ্রামটা ঠিক কয়েক দণ্ডের মাঝেই হয়ে
পড়লো মৃত্যুপুরী। দানব নরপিশাচ গুলো
যুদ্ধের হুইসেল বাজাতে শুরু করলো
রাইফেলের খৈ ফোটার শব্দের মধ্য দিয়ে...!
যুদ্ধের দামামা, হামলা! হামলা! পালাও
পালাও! লক্ষ্যহীন পদে দৌড়তে শুরু
করলো সবাই লক্ষ্যহীন ভাবে জীবন
বাঁচানর শেষ চেষ্টায়! কিন্তু, তাদের
সবটাই বৃথা!
ওদের গুলির প্রথম শিকার হয়ে দোলনায়
দোলা সেই মিষ্টি মেয়েটি দোলনা থেকে
মুখ থুবড়ে পড়লো পুকুরের মাঝে!
স্বচ্ছ জল রক্তে রক্তিমা রূপ ধারণ করলো
অগণিত গুলিবিদ্ধ লাশের রক্তে! তাণ্ডব
চলতে থাকলো আমার মায়ের সাথে, এক
সময় তারা রেহাই দেয়নি আমার আদুরে
ছোট বোনটাকে... রেহাই দেয়নি ওরা
কাউকে, রেহাই পায়নি কেউ! জীবনে
বেঁচে গেলেও রোজ মরছি আমি! আমার
বুকের দামামা থামেনি আজও! আজও
প্রতি মুহূর্তে আমার চোখের পলকে পলকে
আমার চোখে অজ্ঞাতসারে ভেসে উঠে
৭১'র খণ্ড চিত্র!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




