somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Homosexuality and Bisexuality

৩০ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমকামিতা (Homosexuality and Bisexuality) আসলে কেন হয়, এই প্রশ্নের অন্বেষণে বিজ্ঞান থেমে নেই। বিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় এর অন্বেষণ, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য রিসার্চ অব্যাহত রেখেছে। তবে এখনো এই সিদ্ধান্তে বিজ্ঞান সম্পূর্ণ সফল ভাবে উপনীত হতে পারেনি সমকামিতার আসল কারণ ও উপাদান সম্পর্কে।

সুইডেন বিজ্ঞানী ড. ইভাঙ্কা স্যাভিক সমকামী নারী ও পুরুষের যথাক্রমে মুত্র থেকে 'ফর্মন' নামক এক ধরনের হরমোন নির্জাস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রিসার্চে দেখা গেছে যে, সমকামী সম্পর্কের মাঝে নারী পুরুষ উভয়েই উক্ত হরমোন কারণে প্রভাবিত এবং সমলিঙ্গে আকৃষ্ট হন। তবে তর্কের সম্মুখীন হয়ে এবং অন্য ড. থ্রম্পটন'র আরেক রিসার্চের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয় যে তাতে জেনেটিক্স তেমন কোন প্রকট কারণ নেই বা কোন জটিলতা নেই। তবে পরের রিসার্চের মধ্যে এটাও সম্পূর্ণ ভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি যে, জেনেটিক্স কোন রকম প্রভাব একদম এতে নেই। তারা উভয়েই সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়নি। তবে থ্রম্পটন তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, সমকামী সম্পর্কের জন্য পরিবেশের প্রভাবটাই প্রকট। অর্থাৎ তা হচ্ছে অর্জিত আচরণ।

তবে জেনেটিক্স কোন কারণ আদৌ সেখানে প্রকট কিনা, তা নিয়ে খুব বড়সড় করে একটা রিসার্চ করে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারা প্রায় ১৪০০০ হাজার যমজদের মাঝে এক রিসার্চ চালায়। যমজদের জেনেটিক আকার বা গঠন একই রকম হওয়াতে তাদের এমন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে তাতে দেখা গেছে শতকরা ৩৪ ভাগ ছেলেদের ক্ষেত্রে তারা সমকামী হচ্ছে এবং মেয়েদের বেলায় তা ৩০ ভাগ। এতে করে তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে এতে জেনেটিক্স কোন প্রকট কারণ নেই। তবে একে বারেই নেই তাও বলা যায় না।

তবে কিছু নৃবিজ্ঞানী সেখানে সমকামিতার কারণ হিসেবে জেনেটিক্স কারণ বা জ্ঞাতি সম্পর্ককে বেশি প্রকট বলে দাবী করেন। যদিও তার যথাযথ প্রমাণ তারা প্রকাশ করতে পারেন নি।

অন্য দিকে ড. বেইলি তার এক রিসার্চে প্রমাণ করেন যে, শুধু গে জিন Xq28 (যা পরে তিনি গে জিন নয় বলে ঘোষণা করেন তার রিসার্চের মধ্য দিয়ে) ছাড়াও 8p12, 7q36 এবং 10q26 মার্কার দায়ি।

তবে সবার মতেই (সংখ্যালঘু কয়েক নৃবিজ্ঞানী ছাড়া) একথা প্রকাশিত যে, জেনেটিক্স কারণ ঠিক কতটুকু এবং পরিবেশের কতটুকু, তা ঠিক ঠাওর করে বলা যায় না। তবে তাতে পরিবেশের প্রভাবটাই বেশি। জেনেটিক্স কারণ আদৌ ঠিক কাজ করে কিনা, তা এখনো প্রশ্নের সম্মুখীন। তবে অন্বেষণ অব্যাহত রয়েছে বিজ্ঞানীদের। একদিন অবশ্যই প্রকাশিত হবে বিস্তর ভাবে।

তবে সমকামিতা বা বিপরীত লিঙ্গে আকৃষ্ট হওয়া ব্যক্তির ইচ্ছে ও রুচি সাপেক্ষ। যাদের স্বাভাবিক বলা হয় বা যারা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যারা আকৃষ্ট হন, তারা সম লিঙ্গের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যেমন কল্পনাও করতে পারেনা, সমকামীদের বেলায় তা ঘটে ঠিক উলটো।

তবে আমি আমার আগের পোস্টে বলেছিলাম, ''আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যাদেরকে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠরা স্বাভাবিক বা Normal মনে করি, আর যাদের স্বাভাবিক না বা abnormal মনে করি, তাদের মাঝে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য ছাড়া আর কোন পার্থক্য নেই। মূলত বিষয়টা হচ্ছে ভালবাসা নিয়ে। আর ভালবাসার সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা হল দুই ধরণের হরমোনাল কার্যাবলী নিয়ে। ভালবাসা মস্তিষ্কের থ্যালামাসের রাসায়নিক একটা কার্যক্রম।। ডোপামিন এবং নরেপিনেফ্রিন নামক হরমোনের কারণে মানুষের মাঝে ভালবাসা বোধ জন্মায়।

সুতরাং উক্ত হরমোনাল কারণে যেকোনো মানুষের মধ্যে ভালবাসা জন্মাতে পারে। তা একটা ছেলের প্রতি আরেকটা ছেলে, একটা ছেলের প্রতি একটা মেয়ে কিংবা একটা মেয়ের প্রতি আরেকটা মেয়ের হতে পারে। যদি একটা একটা ছেলের সাথে আরেকটা ছেলে কিংবা একটা মেয়ের সাথে আরেকটা মেয়ের সম্পর্ক একটা ছেলে ও মেয়ের মতই হয় বা সম্পূর্ণ ভালবাসা পায়, তবে কেন বাঁধা বিপত্তি? তাই এটা নিতান্তই বাস্তব যে Homosexual relationship বা Same-sex relationships কোন অশুভ বিষয় না, অশুভ হল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি!''

আমি এখনো ঠিক একই কথা বলব। জেনেটিক্স কারণে সমকামিতা হোক বা ইচ্ছে শক্তি ও রুচির কারণে, সেদিক নিয়ে আমার ঠিক কোন হিন্দোল নেই।

[তথ্য অনেক জায়গা থেকে সংগৃহীত। যাদের থেকে এতো তথ্য পেয়েছে, তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৪৪
১৪টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×