সমকামিতা (Homosexuality and Bisexuality) আসলে কেন হয়, এই প্রশ্নের অন্বেষণে বিজ্ঞান থেমে নেই। বিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় এর অন্বেষণ, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য রিসার্চ অব্যাহত রেখেছে। তবে এখনো এই সিদ্ধান্তে বিজ্ঞান সম্পূর্ণ সফল ভাবে উপনীত হতে পারেনি সমকামিতার আসল কারণ ও উপাদান সম্পর্কে।
সুইডেন বিজ্ঞানী ড. ইভাঙ্কা স্যাভিক সমকামী নারী ও পুরুষের যথাক্রমে মুত্র থেকে 'ফর্মন' নামক এক ধরনের হরমোন নির্জাস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রিসার্চে দেখা গেছে যে, সমকামী সম্পর্কের মাঝে নারী পুরুষ উভয়েই উক্ত হরমোন কারণে প্রভাবিত এবং সমলিঙ্গে আকৃষ্ট হন। তবে তর্কের সম্মুখীন হয়ে এবং অন্য ড. থ্রম্পটন'র আরেক রিসার্চের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয় যে তাতে জেনেটিক্স তেমন কোন প্রকট কারণ নেই বা কোন জটিলতা নেই। তবে পরের রিসার্চের মধ্যে এটাও সম্পূর্ণ ভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি যে, জেনেটিক্স কোন রকম প্রভাব একদম এতে নেই। তারা উভয়েই সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়নি। তবে থ্রম্পটন তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, সমকামী সম্পর্কের জন্য পরিবেশের প্রভাবটাই প্রকট। অর্থাৎ তা হচ্ছে অর্জিত আচরণ।
তবে জেনেটিক্স কোন কারণ আদৌ সেখানে প্রকট কিনা, তা নিয়ে খুব বড়সড় করে একটা রিসার্চ করে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারা প্রায় ১৪০০০ হাজার যমজদের মাঝে এক রিসার্চ চালায়। যমজদের জেনেটিক আকার বা গঠন একই রকম হওয়াতে তাদের এমন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে তাতে দেখা গেছে শতকরা ৩৪ ভাগ ছেলেদের ক্ষেত্রে তারা সমকামী হচ্ছে এবং মেয়েদের বেলায় তা ৩০ ভাগ। এতে করে তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে এতে জেনেটিক্স কোন প্রকট কারণ নেই। তবে একে বারেই নেই তাও বলা যায় না।
তবে কিছু নৃবিজ্ঞানী সেখানে সমকামিতার কারণ হিসেবে জেনেটিক্স কারণ বা জ্ঞাতি সম্পর্ককে বেশি প্রকট বলে দাবী করেন। যদিও তার যথাযথ প্রমাণ তারা প্রকাশ করতে পারেন নি।
অন্য দিকে ড. বেইলি তার এক রিসার্চে প্রমাণ করেন যে, শুধু গে জিন Xq28 (যা পরে তিনি গে জিন নয় বলে ঘোষণা করেন তার রিসার্চের মধ্য দিয়ে) ছাড়াও 8p12, 7q36 এবং 10q26 মার্কার দায়ি।
তবে সবার মতেই (সংখ্যালঘু কয়েক নৃবিজ্ঞানী ছাড়া) একথা প্রকাশিত যে, জেনেটিক্স কারণ ঠিক কতটুকু এবং পরিবেশের কতটুকু, তা ঠিক ঠাওর করে বলা যায় না। তবে তাতে পরিবেশের প্রভাবটাই বেশি। জেনেটিক্স কারণ আদৌ ঠিক কাজ করে কিনা, তা এখনো প্রশ্নের সম্মুখীন। তবে অন্বেষণ অব্যাহত রয়েছে বিজ্ঞানীদের। একদিন অবশ্যই প্রকাশিত হবে বিস্তর ভাবে।
তবে সমকামিতা বা বিপরীত লিঙ্গে আকৃষ্ট হওয়া ব্যক্তির ইচ্ছে ও রুচি সাপেক্ষ। যাদের স্বাভাবিক বলা হয় বা যারা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যারা আকৃষ্ট হন, তারা সম লিঙ্গের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যেমন কল্পনাও করতে পারেনা, সমকামীদের বেলায় তা ঘটে ঠিক উলটো।
তবে আমি আমার আগের পোস্টে বলেছিলাম, ''আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যাদেরকে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠরা স্বাভাবিক বা Normal মনে করি, আর যাদের স্বাভাবিক না বা abnormal মনে করি, তাদের মাঝে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য ছাড়া আর কোন পার্থক্য নেই। মূলত বিষয়টা হচ্ছে ভালবাসা নিয়ে। আর ভালবাসার সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা হল দুই ধরণের হরমোনাল কার্যাবলী নিয়ে। ভালবাসা মস্তিষ্কের থ্যালামাসের রাসায়নিক একটা কার্যক্রম।। ডোপামিন এবং নরেপিনেফ্রিন নামক হরমোনের কারণে মানুষের মাঝে ভালবাসা বোধ জন্মায়।
সুতরাং উক্ত হরমোনাল কারণে যেকোনো মানুষের মধ্যে ভালবাসা জন্মাতে পারে। তা একটা ছেলের প্রতি আরেকটা ছেলে, একটা ছেলের প্রতি একটা মেয়ে কিংবা একটা মেয়ের প্রতি আরেকটা মেয়ের হতে পারে। যদি একটা একটা ছেলের সাথে আরেকটা ছেলে কিংবা একটা মেয়ের সাথে আরেকটা মেয়ের সম্পর্ক একটা ছেলে ও মেয়ের মতই হয় বা সম্পূর্ণ ভালবাসা পায়, তবে কেন বাঁধা বিপত্তি? তাই এটা নিতান্তই বাস্তব যে Homosexual relationship বা Same-sex relationships কোন অশুভ বিষয় না, অশুভ হল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি!''
আমি এখনো ঠিক একই কথা বলব। জেনেটিক্স কারণে সমকামিতা হোক বা ইচ্ছে শক্তি ও রুচির কারণে, সেদিক নিয়ে আমার ঠিক কোন হিন্দোল নেই।
[তথ্য অনেক জায়গা থেকে সংগৃহীত। যাদের থেকে এতো তথ্য পেয়েছে, তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




