somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের কিছু করার প্রয়োজন নেই। কিছু না করাটাই এখানে কাজ। তবে দলের নেতা-কর্মীদের নিষ্কর্ম রাখাটাই বারবার উপরের আদেশ বা "টোন এট দ্যা টপ" হওয়া চাই। দখলদারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

দয়া করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কাজে ব্যবহার করবেন না। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিন। তাদের কাজে যেসব বাধা আছে, সেগুলো অপসারণ করুন। তাদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা খুব ভালো হওয়া চাই। কর্মক্ষেত্রে তারা যেন এমন এক সংস্কৃতি তৈরি করে, যেখানে অবৈধ উপার্জন অতিঘৃণ্য - এমন নৈতিক মানদণ্ড তৈরি হয়। এটা করতে পারলে তারা জনগণের বন্ধু হবে এবং মানুষ তার জীবন ও সহায়-সম্পদের নিরাপত্তা পাবে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আপনারা ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এই সমস্যার একটা অংশ শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যা। তার উপর, ইকোনমিক হিটম্যানরা কৌশলে আপনাদের ঘাড়ে কতগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বোঝা চাপিয়ে সম্ভবত এখন কেটে পড়ার তাল করছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর দিকে কড়া নজর রাখুন। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করুন। রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং প্রবাসী আয়ের ব্যবস্থাপনা এ কাজে জরুরি। তেল-গ্যাস-এলএনজি এবং বড় বড় চুক্তির পেমেন্ট ঠিকমতো করতে না পারলে বড় বিপদ হতে পারে। এ ধরনের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হলে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে করুন। ইকোনমিক হিটম্যানদের কাজই হলো দেশের জনগণ দিনরাত পরিশ্রম করে যে ডলারগুলো উপার্জন করেছে, সেগুলো বড় দান মেরে নিয়ে যাওয়া। অতএব বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তির চেয়ে স্থানীয় কোম্পানির চুক্তি এবং দেশের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রায় ক্ষেত্রে হাজারগুণে ভালো।

অর্থনীতির সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই সমাধান করতে হবে। এর সহজ রাস্তা নেই। গার্মেন্টসসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তা করুন। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে যাতে বিনিয়োগ হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করুন। কৃষক কার্ডের ধারণাটা খুব ভালো। সুবিধাগুলো যাতে প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছায়, দলীয় ক্যাডার বাহিনীর হাতে নয়, এটা নিশ্চিত করুন।

আমাদের মতো জনবহুল দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের বড় উপায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। এটা খুব গভীর নিষ্ঠা আর বড় পরিকল্পনার কাজ। প্রযুক্তি, যোগাযোগ আর মানবসম্পদ উন্নয়নে বাইরের বিশ্বে কী ঘটছে, তার ওপর নজর দিন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার বড় কাজে হাত দিন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নতির পূর্বশর্ত। আবার অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া আমাদের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কোনো কিছুরই উন্নতি হবে না।

আপনাদের রাজনৈতিক কুশলী বা অ্যাক্টরদের মধ্যে তেমন কিছুই পাল্টায়নি। বিগত আওয়ামী সরকারের মতোই আপনাদের রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় জালিয়াত থেকে শুরু করে লুটেরা, ভূমিদস্যু ও গ্যাংস্টাররা রয়ে গেছে। জনগণের কড়া নজর সেদিকে আছে, এটা ভুলবেন না। এসব কুশলীদের নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে অচিরেই ভরাডুবির সম্ভাবনা থাকবে। সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে, সব সুবিধা এলিটেরাই পাবে। তখন সাধারণ মানুষের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৭
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা সবাইকে ❤️

লিখেছেন সামিয়া, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪০



নরম রোদের স্পর্শ পেয়ে
পুরনো দিনের ক্লান্তি ক্ষয়,
বুকের ভাঁজে জমে থাকা
অভিমানগুলো ভেসে যায়।

পহেলা বৈশাখ এল যখন,
রঙিন হাওয়ায় মেলা বসে,
বৈশাখী ঢাকের তালে তালে
মনটা নাচে হাসিমুখে।

শুভ নববর্ষ ডাকে ধীরে,
যাক পুরাতন স্মৃতি সব,
যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গুদের সমস্যা কি ইসরায়েল নিয়ে?

লিখেছেন অর্ক, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮



ফিলিস্তিন দেশ না হলেও তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো আছে। এক ধরনের ছায়া সরকারের মতো ব্যাপার আরকি। ইয়াসির আরাফাত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এখন মাহমুদ আব্বাস। সে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সন আঘাবেকিয়ান শাহিন সম্প্রতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

এহসানুল হক মিলন: টাইম মেশিনে আটকে থাকা এক শিক্ষামন্ত্রী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১০


বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সাদা-কালো টেলিভিশন আর ল্যান্ডফোনের জামানায় এহসানুল হক মিলন যখন হেলিকপ্টারে চড়ে আকাশ থেকে নকলবাজ ধরার মিশনে নামতেন, তখন লোকে তাকে ‘বাংলার জেমস বন্ড’ ভেবে হাততালি... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীলিমা, তুমি চলে যাবার পর থেকে

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

নীলিমা, তুমি চলে যাবার পর থেকে
আমার হৃদয়জুড়ে কেবলি দহন !
মেঘের ঘোমটা সরিয়ে আমি কতবার
রূপালি চাঁদের সেই মায়াবিনী মুখচ্ছবি
... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৪৯

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩





---------------------------------------------------------
সবাইকে নতুন বাংলা বর্ষের-১৪৩৩ এর শুভেচ্ছা।




বৈশাকের সকালে পাশের ফ্ল্যাটের ভাবী উপহার পাঠালেন বিন্নি চালের মিষ্টি ভাত। খেতে দারুন। চট্টগ্রামে এই দিনে বিন্নি ভাত, মধু ভাত খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।




তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×