কবিতা 1998 ।। নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ : আ জার্নি বাই বোট (6)
[ইটালিক]
ভূতপূর্ব ভক্তগণ
ভূতরূপে আগমন
গুরুর বিহনে দিবা...
কাটিতে চাহে না
[/ইটালিক]
এরই মধ্যে এক ফাঁকে
সম্ভবত দিবাভাগে
গুরু হাততালি দিয়েছিলো।
--তালি থেকে জন্ম নিলো ভূতের তালিকা--
বাতাসে ভূতের বাসা, ঘুরিতে ঘুরিতে আসা
তা থেকে ভে-ভেসে আসা--ধুপধাপ ভূতভাষা
ভূতেরাও ভাসা ভাসা; তারই মধ্যে গুরুকর্ণ
নিজগুণে অকস্মাৎ, অকস্মাৎ নিজগুণে--বন্ধ হয়ে গেলো।
তালি শুনে দিলো তালি
বাচ্চা ভূতেরাগুলি
শুনে নারীবাদীরা ভয়ে ফিট্।
ভূতেরা বললো শিট্--
তারপরে খিট্ খিট্
খা খা রবে ভূতবৃন্দ খাসিতে লাগিল।
ভূতের সে খাসি শুনে, ভক্তে হাসে অকারণে
গুরু দেখেন পাটাতনে, কেহ চীৎ কেহ কাশে
কিন্তু কোনো শব্দহীন। গুরু ভাবেন হাস্যকর!
ভেবে গুরু নিজেও হাস্লেন--
গুরুর নিজের কান অফ হইয়া ঝুইলা আছে
গুরু নিজে সে কাশির রহস্য বুঝলেন না!
'--গুরুর কানের কাজ,
বন্ধ হলো তবে আজ?'
ভক্তে খায় খায় ভাঁজ
পারে যদি নৌকা ছেড়ে দৌড়ায় রাস্তায়
আপনার জানখানি চাচাও বাঁচায়।
কিন্তু বাঁচাবাঁচি পরে,
পড়েছি ভূতের ঘোরে
গুরু ছাড়া মুসিবতে কে দিব আশ্রয়?
শিষ্যগণ একযোগে গুরুপদে ধায়--
পায়ে সুড়সুড়ি লাগে, গুরুকর্ণ জাগে-জাগে...
কী হইতেছে নৌ-অধ্যক্ষ ল্যাপটপে বিনাইয়া জানায়।
'কী এক দিয়েছি তালি, তাতেই হাবড়াগুলি
এ কী কাণ্ড শুরু করি দিলা!
এদের দিয়ে কি এবে, নদীযাত্রা আদু হবে
কেন যে এসিনু ভবে?
এসেছি সেহেতু ফিরে যাবো না!'
গুরুর প্রলাপ শুনে, ভক্তেরা প্রমাদ গোনে--
কী গোনে তা শুনতে চাইয়া গুরু পাতলেন কান
তাতেই কাটিল ফাঁড়া, ভাগিল ভূতের দল
বাঁচিল নৌকাখানি, বাঁচে বাঁচে ভক্তের পরান
[ইটালিক]
ভক্তগণ অবশেষে
গুরুপদপাদদেশে...
ভূতেরাও খেলাশেষে...
পার্লামেন্টে বসিয়া রহিলা
[/ইটালিক]
(1998-1/10/2002)
(30/12/2005 প্রথম আলো)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



