কবিতা 2003 ।। নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ : আ জার্নি বাই বোট (7)
গভীর জলের স্রোতে গভীর জলের মাছ কেলি করে দুপুরবেলায়
মৎস্যচাষী খেও মারে দুপুরবেলায়--
গুরু ভাবে--অর্থাৎ গুরুর তরফে ভাবে তরফিনী একাকিনী দুপুরবেলায়...
গলুইয়ের পাশ দিয়ে নিজ মাথা ছেড়ে দিয়ে
মাথার দায়িত্বভার ছেড়ে দিয়ে, মাছের দুঃখ নিয়ে ভেবে ভেবে দুপুরে পিপাসা জাগলো
তবু ভাবা বন্ধ হয় না...যতই পিপাসা তার তত ভাবা...
'জলের সঙ্গে আর জালের সঙ্গে মাছ কী সম্পর্কে সম্পর্কিত' এমন গভীর ভাব
গভীর জলের 'পরে মাথা রেখে, মানে যেন মাথা আছে গভীর উপরে
আর নিচে জল...জলতল ছুঁয়ে যাচ্ছে কালো মাথা...জলে ছবি ভেসে যাচ্ছে
খাটোকেশী মহিলা-মাথার...
'কীবা জল? কীবা জাল? কীবা মাছ? সত্যি সত্যি কারা এরা?
কী অর্থ বা প্রতিপন্ন এই সব গম্ভীর প্রতীকে, এই তিনের প্রবাহে?' এমন উচ্চভাব
ভাবার দায়িত্ব দিয়ে--একা এক সৌখিনীতে গুরুভার ন্যস্ত করে--লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে,
কসমিক ব্যস্ততাখানি আলগোছে সঁপে দিয়ে, নিজে গুরু ঘুমাইলেন
দিবাকাল শূন্য ঘটিকায়।
আর সেই মস্তিষ্কসমৃদ্ধ নারী
নিজের একটি মাথা গলুইয়ের পাশ দিয়ে ছেড়ে দিল দুপুরবেলায়
যেন মাথা, একা মাথা, গভীর জলের তলে ডুবে যাবে,
মিশে যাবে, শুষে যাবে...ক্রমশ শীতল হবে
আর সব বুঝে ফেলবে, সব ধাঁধা সব বন্ধ
জলের গভীর তলে অনূদিত হয়ে যাবে সব কিছু...সব ব্যাখ্যা অনুভূত হয়ে যাবে
মহানিদ্রাভঙ্গের আগেই।
অথচ অন্য যারা...আগডুম বাগডুম যারা...ভাবার দায়িত্ব যারা পাইল না,
যাদের মস্তিষ্ক নাই কোনোদিন...তারা ভাবে...অথচ তারাও ভাবে...
'গুরুর তরফে ভাবা!!!'--এমন কঠিন কাজ, এমন কঠিন বেলা
এমন কঠিন ভাবনা ভাবতে গিয়ে খামাখাই মাথা উইল্টা পইড়া আছে চিৎপাত
তাই তারা পানি ঢালে সক্রিয় মাথায়...আর মাথা, অভাবিত চিন্তাচক্রে আটকে যাওয়া সিদ্ধ মাথা
নিজেকে নিজেই ভাবে, ভাবে এই নিজদেহ মরদেহ যেহেতু মাথার চেয়ে সাইজে বড়
তাই মাথা দেহ ছেড়ে জল মাছ জাল ও গভীরতর গভীরতা
যাচ্ঞা করে কী রকম ব্যর্থ আর বাঁকা আর পিপাসার্ত...কিন্তু যারা পানি ঢালে
তারা ভাবে, এমন কঠিন ভাবনা যেন গুরু কাউকে না ভাবতে দেন কাউকে না ভাবতে দেন আর।
3/9/3
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



