
১। রোজার ঈদে বেতন বোনাস সব মিলিয়ে ৩৯ হাজার টাকা পেয়েছি। এই মুহূর্তে আমার পকেটে আছে মাত্র দুই হাজার টাকা। বাকি সব টাকা খরচ হয়ে গেছে। একটা ময়লা কাপড় দিয়ে ঢাকা চায়ের দোকানে বসে আছি। রমজান মাস চলছে। রোযা রাখিনি। ভাবলাম এক কাপ চা খাই। রেললাইনের পাশেই চায়ের দোকান। চা খাচ্ছি, ঠিক এওমন সময় এক ভিক্ষুক আসলো। শরীর স্বাস্থ্য বেশ ভালো। সে ভিক্ষা চাচ্ছে। চায়ের দোকানদার বলল- ওই মিয়া তোমার শরীর স্বাস্থ্য সব ঠিক আছে আমার দোকানে কাজ করো, ডেইলি তোমাকে তিন শ' টাকা দিব। ভিক্ষুক রেগে গিয়ে বলল- রোজার মাসে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা ইনকাম করবো। আপনার দোকানে থাকলে পাবো- বড়জোর দশ হাজার টাকা।
২। ২৭ রোযা। একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। তখন আমার বাসার বাজার সদাই শেষ। পরিবারের সবাইকে যাকে যা দেওয়ার দিয়ে আমার ম্যানিব্যাগে আছে ৩২ শ' টাকা। বাকি দিন গুলো কিভাবে চলবে সেই চিন্তা করছি। ঠিক এই রকম সময় দাড়োয়ান গোছের একজন আমার পাশে চা খাচ্ছিল। দেখি তার কাছে একগাধা টাকা। কম করে হলেও ৩০/৩৫ হাজার টাকা হবে। লোকটি আমাকে বলল- ঘর সংসারের সব খরচ সেরে আমার কাছে এই কয়টা টাকা আছে ভাইজান। আপনি'ই বলেন কেমনে চলি? এখনও সারা মাস পড়ে আছে।
৩। এই রমজানে যে ক'দিন হোটেল থেকে গ্রীল চিকেন কিনেছি। একদিনও খেতে পারিনি। প্রচন্ড ভীড়। এক ঘন্টা লাইন এ থেকে গ্রিল চিকেন কিনতে হয়েছে। লোকজন পাগলের মতো কিনছে, বিক্রেতারাও পাগলের মতো বিক্রী করছে। বাসায় এনে দেখি কাঁচা। মাসংহলুদ মরিচও ঠিকভাবে মেশানো হয়নি। একটা আস্ত মুরগী গ্রিল দাম নিয়েছে ৪০০ টাকা। অন্য সময় ৩২০ টাকা রাখে। নান রুটি গুলোও একই অবস্থা। রুটি গুলো ঠিক মতো হওয়ার আগেই চুলা থেকে নামিয়ে ফেলে। বাসায় এনে দেখি কাঁচা। হোটেল থেকে যুদ্ধ করে খাবার টাকা দিয়ে কিনে এনে ফেলে দিতে হয়েছে। আমার মতও অন্য যাতা কিনেছে তাদেরও নিশ্চয় ফেলে দিতে হয়েছে। হোটেলওয়ালারা কি একবারও চিন্তা করে না- মানুষ তাদের কষ্টের টাকা দিয়ে খাবার কিনছে, খাবার টা সঠিকভাবে রান্না না করলে খাওয়া যাবে না। কাস্টমারের কাছ থেকে ভালো খাবার দিয়ে টাকা নিই। অথবা সরকার কেন ব্যবস্থা নেয় নারা
৪। মানুষ গুলো এমন হয় কেন? বিশেষ করে রিকশাওয়ালা আর সিএনজি ওয়ালারা- আজ রাস্তায় খুব জ্যাম ভাড়া বেশি দেন। আজ খুব রোদ ভাড়া বেশি দেন। আজ খুব বৃষ্টি ভারা বেশি দেন। এখন ঈদের সিজন ভাড়া বেশি দেন। সব সময় কোনো না কোনো ইস্যুতে তাদের ভাড়া বেশি দিতে হবে। আরে বাবা আমাদের কে বেশি দেয়। সারা মাস পরিশ্রম করার পর অফিস মাস শেষে তো বেতন একটা টাকা বেশি দেয় না। তাহলে ভাড়া কিভাবে বাড়িয়ে দেই।
৫। ঈদের বকশিস নেওয়ার জন্য মানুষ হুমরি খেয়ে পড়ে। দাড়োয়ান, সেলুনের দোকানদার, হোটেল বয়, অফিসের পিয়ন, মাংসের দোকানের লোক, এলাকার পোলাপান, নাইটগার্ড, ভিক্ষুক, পরিচিত অপরিত সবাই। এমন না যে তারা সারা বছর আমাকে চমৎকার সার্ভিস দিয়েছে। কাজেই তাদের একটা দাবী আছে। চক্ষু লজ্জার কারনে দুনিয়ার লোকজনকে বখশিস দিয়ে এখন আমার পকেট খালি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ৯:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




