
''যাহারা তোমার বিষায়েছে বায়ু, নিভায়েছে তব আলো, তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো।''
ঢাকা শহরের মানুষ গুলো খুব বেশি অমানবিক। এই শহরের মানুষের মন থেকে মায়া দয়া উঠেই গেছে। এক যুগ আগেও এই শহরের মানুষের মধ্যে মায়া মমতা ছিল। কিন্তু এখন কেউ কারো বিপদে এগিয়ে আসে না। কেউ রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেও সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। সবাই নিজের ইয়া নফসি নিয়ে ব্যস্ত। সত্য কথা বলতে কি- এই শহরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। রাস্তা ঘাট যেমন নোংরা, তার চেয়ে হাজার গুন বেশি নোংরা মানুষের মন মানসিকতা। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, তারা এমন কেন হবে? মনুষ্যত্ববোধ কারো মধ্যে দেখি না। যদিও অনেকে ভাব দেখায়- তার মধ্যে অনেক মনুষ্যত্ব আছে। আসলে এটা ফেক। সবাই মুখোশ পড়ে ঘুরছে। মুখোশ গুলো দেখতে দেখতে আমি বড্ড ক্লান্ত।
আমি বেকার। কোনো কাম কাজ নাই। তাই সারাদিন রাস্তায়- রাস্তায় থেকে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা। আমি এখন দশ মিনিট কারো সাথে কথা বললে তাদের মন মানসিকতা বেশ বুঝতে পারি। বাসে উঠে অনেক ভদ্রলোক ভাড়া না দিয়ে নেমে যায়। মাত্র পাঁচ বা দশ টাকা ভাড়া। চিন্তা করে দেখুন! নিজের চোখে দেখলাম আমার আগের অফিসের এক লোক বাসে উঠলো এবং তার গন্তব্যে ভাড়া না দিয়ে নেমে গেল। এর মধ্যে কন্টাকটর ভাড়া চাইলে- উনি বললেন, ভাড়া দিয়েছি। অথচ আমি তার পেছনের সিটে বসে দেখলাম উনি ভাড়া দেন নি। অথচ এই ভদ্রলোককে দেখেছি অফিসে বিরাট ভাব দেখাতো। বলতো তার নিজের বাড়ি আছে। লোকাল বাসে উঠেন না। ব্যাংকে অনেক টাকা আছে। খুব নামাজওয়ালা লোক।
আজ সন্ধ্যা সাত টায় মৌচাক মার্কেট এলাকায় দেখলাম- দুইজন ছেলেকে কমপক্ষে পনের জন লোক মিলে মারছে। খুব নিষ্ঠুরভাবে মারছে। দুইজন ছেলে বিকটভাবে চিৎকার দিচ্ছে, তাদের চিৎকারে কারো কোনো মায়া লাগছে না। সমানে মেরেই যাচ্ছে। কি অপরাধ করেছে ছেলে দু'টো? হয়তো চুরী করেছে, অথবা মোবাইল নিয়ে দৌড় দিয়েছে। তার জন্য এইভাবে মারতে হবে? দেশে কোনো আইন নাই? যারা মারছে তারা যদি এই ছেলে দু'টাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়- আমি নিশ্চিত ছেলে দু'টো চুরী করবে না। চাকরি দেবার মতো ক্ষমতা কারো নাই অথচ মাইর দেওয়ার বেলায় সবাই আছে। এই শহরের মানুষ একটি বার কেন ভাবে না- ছেলে দু'টো কেন চুরী করেছে? কি করলে তারা চুরী করবে না। তাদের সহযোগীতা করার জন্য কেউ নাই।
গতকালের রাতের ঘটনা। মহাখালী বাস স্ট্যান্ডে। এক পিক-আপ আর সিএনজি চালকের মধ্যে তুমুল লেগে গেছে। দুইজন দু'জনের কলার চেপে ধরে একজন আরেকজনকে খুব মারছে। একজনের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে, একজনের ঠোট কেটে রক্ত পড়ছে। ভয়াবহ অবস্থা। দশ মিনিট হয়ে গেছে। রাস্তার সব লোকজন তাদের মারামারি দেখছে। মনে হচ্ছে সবাই দুইজনের মারামারি খুব এঞ্জয় করছে। কিন্তু কেউ তাদের মারামারি বন্ধ করার চেষ্টা করছে না। ঢাকা শহরের প্রতিটা জায়গায় এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে, রোজ ঘটছে। শেষে আমি নিজে গেলাম তাদের মারামারি ছুটাতে। অনেকক্ষন চেষ্টা চালানোর পর আমি তাদের মারামারি বন্ধ করতে সক্ষম হলাম। এই কাজটা আমি নিয়মিত করি। অন্য সবার মতো এড়িয়ে যেতে পারি না।
দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অথচ দেশের মানুষজনের মন মানসিকতার কোনো উন্নতি হলো না। একটা মেয়ে রাস্তায় দেখলেই কেন তার দিকে কুৎসিত ভাবে তাকাতে হবে? এই কুৎসিতভাবে তাকানোর শিক্ষা তাকে কে দিল? তার মা? তার বাবা? তার স্কুল? তাদের যদি মেয়ে দেখতে এত'ই ভালো লাগে- তাহলে তারা নেটে সার্চ দিয়ে মেয়ে দেখুক। কুৎসিতভাবে তাকানোর সময় কি তাদের একটিবার মনে হয় না(?)- আমারও তো মা আছে, বোন আছে, স্ত্রী আছে, কন্যা আছে? আর এভাবে তাকানোর কি আছে? তারা তো রক্ত মাংসের মানুষ। ভীন গ্রহের কোনো প্রানী না। আর যদি তাকাতেই হয়, তাহলে নিজের মা, বোনের দিকে যে চোখে তাকান সেভাবে তাকান। সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



