somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই শহরের মানুষ গুলো!!!

২২ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



''যাহারা তোমার বিষায়েছে বায়ু, নিভায়েছে তব আলো, তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো।''

ঢাকা শহরের মানুষ গুলো খুব বেশি অমানবিক। এই শহরের মানুষের মন থেকে মায়া দয়া উঠেই গেছে। এক যুগ আগেও এই শহরের মানুষের মধ্যে মায়া মমতা ছিল। কিন্তু এখন কেউ কারো বিপদে এগিয়ে আসে না। কেউ রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেও সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। সবাই নিজের ইয়া নফসি নিয়ে ব্যস্ত। সত্য কথা বলতে কি- এই শহরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। রাস্তা ঘাট যেমন নোংরা, তার চেয়ে হাজার গুন বেশি নোংরা মানুষের মন মানসিকতা। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, তারা এমন কেন হবে? মনুষ্যত্ববোধ কারো মধ্যে দেখি না। যদিও অনেকে ভাব দেখায়- তার মধ্যে অনেক মনুষ্যত্ব আছে। আসলে এটা ফেক। সবাই মুখোশ পড়ে ঘুরছে। মুখোশ গুলো দেখতে দেখতে আমি বড্ড ক্লান্ত।

আমি বেকার। কোনো কাম কাজ নাই। তাই সারাদিন রাস্তায়- রাস্তায় থেকে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা। আমি এখন দশ মিনিট কারো সাথে কথা বললে তাদের মন মানসিকতা বেশ বুঝতে পারি। বাসে উঠে অনেক ভদ্রলোক ভাড়া না দিয়ে নেমে যায়। মাত্র পাঁচ বা দশ টাকা ভাড়া। চিন্তা করে দেখুন! নিজের চোখে দেখলাম আমার আগের অফিসের এক লোক বাসে উঠলো এবং তার গন্তব্যে ভাড়া না দিয়ে নেমে গেল। এর মধ্যে কন্টাকটর ভাড়া চাইলে- উনি বললেন, ভাড়া দিয়েছি। অথচ আমি তার পেছনের সিটে বসে দেখলাম উনি ভাড়া দেন নি। অথচ এই ভদ্রলোককে দেখেছি অফিসে বিরাট ভাব দেখাতো। বলতো তার নিজের বাড়ি আছে। লোকাল বাসে উঠেন না। ব্যাংকে অনেক টাকা আছে। খুব নামাজওয়ালা লোক।

আজ সন্ধ্যা সাত টায় মৌচাক মার্কেট এলাকায় দেখলাম- দুইজন ছেলেকে কমপক্ষে পনের জন লোক মিলে মারছে। খুব নিষ্ঠুরভাবে মারছে। দুইজন ছেলে বিকটভাবে চিৎকার দিচ্ছে, তাদের চিৎকারে কারো কোনো মায়া লাগছে না। সমানে মেরেই যাচ্ছে। কি অপরাধ করেছে ছেলে দু'টো? হয়তো চুরী করেছে, অথবা মোবাইল নিয়ে দৌড় দিয়েছে। তার জন্য এইভাবে মারতে হবে? দেশে কোনো আইন নাই? যারা মারছে তারা যদি এই ছেলে দু'টাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়- আমি নিশ্চিত ছেলে দু'টো চুরী করবে না। চাকরি দেবার মতো ক্ষমতা কারো নাই অথচ মাইর দেওয়ার বেলায় সবাই আছে। এই শহরের মানুষ একটি বার কেন ভাবে না- ছেলে দু'টো কেন চুরী করেছে? কি করলে তারা চুরী করবে না। তাদের সহযোগীতা করার জন্য কেউ নাই।

গতকালের রাতের ঘটনা। মহাখালী বাস স্ট্যান্ডে। এক পিক-আপ আর সিএনজি চালকের মধ্যে তুমুল লেগে গেছে। দুইজন দু'জনের কলার চেপে ধরে একজন আরেকজনকে খুব মারছে। একজনের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে, একজনের ঠোট কেটে রক্ত পড়ছে। ভয়াবহ অবস্থা। দশ মিনিট হয়ে গেছে। রাস্তার সব লোকজন তাদের মারামারি দেখছে। মনে হচ্ছে সবাই দুইজনের মারামারি খুব এঞ্জয় করছে। কিন্তু কেউ তাদের মারামারি বন্ধ করার চেষ্টা করছে না। ঢাকা শহরের প্রতিটা জায়গায় এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে, রোজ ঘটছে। শেষে আমি নিজে গেলাম তাদের মারামারি ছুটাতে। অনেকক্ষন চেষ্টা চালানোর পর আমি তাদের মারামারি বন্ধ করতে সক্ষম হলাম। এই কাজটা আমি নিয়মিত করি। অন্য সবার মতো এড়িয়ে যেতে পারি না।

দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অথচ দেশের মানুষজনের মন মানসিকতার কোনো উন্নতি হলো না। একটা মেয়ে রাস্তায় দেখলেই কেন তার দিকে কুৎসিত ভাবে তাকাতে হবে? এই কুৎসিতভাবে তাকানোর শিক্ষা তাকে কে দিল? তার মা? তার বাবা? তার স্কুল? তাদের যদি মেয়ে দেখতে এত'ই ভালো লাগে- তাহলে তারা নেটে সার্চ দিয়ে মেয়ে দেখুক। কুৎসিতভাবে তাকানোর সময় কি তাদের একটিবার মনে হয় না(?)- আমারও তো মা আছে, বোন আছে, স্ত্রী আছে, কন্যা আছে? আর এভাবে তাকানোর কি আছে? তারা তো রক্ত মাংসের মানুষ। ভীন গ্রহের কোনো প্রানী না। আর যদি তাকাতেই হয়, তাহলে নিজের মা, বোনের দিকে যে চোখে তাকান সেভাবে তাকান। সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪১
৩৫টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিচ্ছিন্ন ঘটনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪



বিচ্ছিন্ন ঘটনা (রম্য রচনা)

বহু বছর পর এক প্রবাসী ভদ্রলোক দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই এক পুরোনো পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা।

ভদ্রলোক: কিরে, দেশের খবর কী? সব ভালো তো?

লোক: আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই অভ্যুত্থান ফিরে দেখা: কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২২


জুলাই ২০২৪ এর আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ের রাজনীতিকে ঘিরে বাংলাদেশে দুটি পরস্পরবিরোধী ধারণা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের লোকেরা, বিশেষ করে শেখ হাসিনার সমর্থকেরা মনে করেন, জুলাই কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না;... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায় বিশ্বকাপ!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্যানুযায়ী
এখনাবধি ১৫ জন নিহত! সংখ্যাটা নেহায়েতই কম! কি বলেন?
ফিফা রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১!
উন্মাদনাকে যদি কোনোভাবে অংশগ্রহণের মাপকাঠি হিসেবে
ট্রাম্প বাবাজিকে প্রভাবিতপূর্বক ফিফাকে গেলানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দু’বছর আগে লেখা; জুলাই নিয়ে প্রতিটি কথা সত্য হয়েছে

লিখেছেন অর্ক, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩



পুরো ব্যাপারটা আমার চোখে দেখা। আমার সামনে দিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত মাছ ব্যবসায়ী যুবকের লাশ গেছে রিক্সাভ্যানে করে। পিছনে স্বজনদের কান্না। ঢাকার সবচেয়ে গোলযোগপূর্ণ জায়গার একটিতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

¡Vamos Argentina!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৭

⚽ হ্যালো আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষী গাইস!
কেমন আছেন?
আপনাদের আজাইরা তত্ত্ব- সব কি প্রস্তুত?

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যত ভবিষ্যদ্বাণী, যত বাজি, যাদু-টোনা, কালো যাদু, আন্ধা জ্যোতিষ বিশ্লেষণ, প্রতিটি ম্যাচের আগে স্বঘোষিত ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ঐশী বাণী- "আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×