somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আসুন ফিনল্যান্ড দেশটি সম্পর্কে জানি

১৯ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একবার ইন্টারভিউতে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- পৃথিবীর বয়স কত? আয়তন কত? ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। পানি নি। পরে জেনেছি। পৃথিবীর বয়স আনুমানিক ৪,৫০০ মিলিয়ন। এবং আয়তন- ৫১,০১,০০,৫০০ বর্গ কিমি। এরপর থেকে আমি বিভিন্ন ইতিহাস জানতে শুরু করি। যাই হোক, আসুন আজ একটি ফিনল্যান্ড দেশ সম্পর্কে জানি।

ফিনল্যান্ডে একটি শব্দ রয়েছে, 'সিসু'। যার অর্থ হচ্ছে, আপনার চলার পথে যাই আসুক না কেন দৃঢ় উদ্যম ও মনের জোর ধরে রাখুন। ফিনল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত দেশগুলির একটি। হেলসিঙ্কি ফিনল্যান্ডের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেশ। দেশের জনগন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ রাস্তার মোড়ে ময়লা ফেলে না। রংসাইড দিয়ে গাড়ি চালায় না। ফুটপাতে কেউ বাইক চালায় না। বাসেও ধাক্কাধাক্কি করে উঠতে হয় না।

ফিনল্যান্ডের মেরু অঞ্চলে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় সবসময় দিন থাকে। আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে এ দেশের অবস্থান ৬৫তম। ফিনল্যান্ডের পশ্চিমে সুইডেন, পূর্বে রাশিয়া, উত্তরে নরওয়ে এবং দক্ষিণে রাশিয়া। ফিনল্যান্ড খুবই সুন্দর সমৃদ্ধ দেশ। বিশ্বের সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাথাপিছু আয় ৩৪,৮১৯ মার্কিন ডলার। প্রতিটি পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। ওদের দেশে হাসপাতাল গুলোতে দালাল নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তারদের কোন ফি দিতে হয় না।

ফিনল্যান্ড হচ্ছে ‘হ্রদ’ আর ‘দ্বীপ’-এর দেশ- হ্রদের সংখ্যা ৬০ হাজার আর দ্বীপের সংখ্যা সাড় ৬ হাজার। সবচেয়ে বড় হ্রদের নাম ‘সায়মা’। সায়মার আয়তন ৪ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার। ফিনল্যান্ডের উলু নামে একটি শহর আছে, যেখানকার বাসিন্দাদের ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৬০ লক্ষ। গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৭ জন বসবাস করে। ১৯৯৫ সালে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। ফিনল্যান্ডে প্রায় এক লক্ষ মুসলমানের বাস। দেশটির কোথাও কোনো মাদরাসা নেই। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যে কোনো দেশেরই ২৫ ভাগ এলাকায় বনভূমি থাকা দরকার। সেখানে ফিনল্যান্ডের ৭২ শতাংশই হচ্ছে বনভূমি।

১৮৬০ সালে ফিনল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়; এতে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ মানুষ মারা যায়। ফিনল্যান্ড ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষা লাভ করে। ফিনল্যান্ডে বেকার, অসুস্থ, অক্ষম এবং বৃদ্ধদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। এদেশের মোট জমির মাত্র ৭ শতাংশে চাষাবাদ হয়ে থাকে। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল বার্লি, যব ও গম হলেও সারাদেশে আলু ও সুগার বিট জন্মে। আর রয়েছে হাঁস-মুরগি, গরু-বাছুর, ভেড়া ও শূকরের খামার। তাছাড়া দেশে প্রায় ৪ লক্ষ ১৪ হাজার পোষা বলগা হরিণ রয়েছে।

দেশটিতে আত্মহত্যার হার অত্যন্ত বেশি। সুখী দেশের লোকজন আত্মহত্যা করে কেন আমাকে বুঝে আসে না। বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রবণতায় ২২তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এ সমস্যারও সমাধানের পথে এগিয়ে চলেছে দেশটি। ১৯১৭ সালে স্বাধীনতার আগে রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল দেশটি। দেশটিতে ভদকা তৈরি একটি প্রাচীন প্রথা। ফিনিশ ভদকা তৈরি হয় বার্লি দিয়ে। একসময় ফিনল্যান্ড ছিল সুইডেনের অংশ। ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রভাষা দুটো- ফিনিশ আর সুইডিশ। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনিশ ভাষায় পড়াশোনা করতে হয়।

দেশটির জনগন প্রচুর পড়াশোনা করে। অসংখ্য লাইব্রেরী আছে। প্রতিদিন ৫৫টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এবং ম্যাগাজিন ৭৫টি প্রকাশিত হয়। ১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হেলসিংকি লাইব্রেরিতে প্রায় ২১ লক্ষ বই রয়েছে। হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি হচ্ছে জাতীয় লাইব্রেরী। এখানে বইয়ের সংখ্যা ২৬ লক্ষ। জাতি হিসেবে তারা অনেক উন্নত। উন্নত তাদের মন মানসিকতা। মানবিক দিক তাদের প্রবল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে কথা বলতে খুব কমই দেখা যায়। বরং অনলাইন হোক বা অফলাইন, সবখানেই তারা নিজেদের সাফল্যের ব্যাপারে বিনয় প্রদর্শন করে। অনেকেই এমন বিনয়কে লজ্জার বহিঃপ্রকাশ মনে করে, কিন্তু এটিই তাদেরকে সুখী হতে সাহায্য করেছে হয়তো। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফিনল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম একটা সবল দেশ।

বাংলাদেশে লোকজন এদেশে এসে খবরের কাগজ বিক্রি করে। রেস্টুরেন্টে কাজ করে। এদেশে বেশির ভাগ বাঙ্গালী, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী সমুদ্র পথে অবৈধ ভাবে আসে। বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের কোন দূতাবাস না থাকায় বাংলাদেশী নাগরিকদের ফিনল্যান্ড যেতে হলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে অবস্থিত ফিনল্যান্ডের দূতাবাসে আবেদন করতে হয়। ঢাকা থেকে দালাল ধরে গেলে ইন্ডিয়া গিয়ে বেগ পেতে হয় না। পড়াশুনার জন্য ইউরোপের যে দেশগুলোতে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় তাদের মধ্যে একটি ফিনল্যান্ড।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:১৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের কিছু ফেসবুক ছবি

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৭


হাজী জুম্মুন আলি ব্যাপারী
:P

জাহিদ অনিক
এখানে কেউ খোঁজে না কাউকে কেউ যায়নি হারিয়ে।

গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই।

শাহিন বিন রফিক
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×