somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৬৬

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ সকাল থেকে মনটা খারাপ হয়ে আছে।
গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখলাম- আমি একটা অন্ধকার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি। আর চারজন লোক এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। তারা সবাই কালো পোশাক পরা। চোখ মুখ ঢাকা। তাঁদের আমি চিনি না। চারজন আমার সামনে এসে বললেন, হে হে- সময় হয়ে গেছে, তুমি কলিংবেল বাজিয়ে দিয়েছো। তাই আমরা এসে গেছি তোমাকে নিতে। চলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম- আপনারা কে? তারা জবাব দিল না। তাঁরা আমাকে জোর করে হাত পা বাধতে লাগলেন, কালো কাপড় দিয়ে চোখ মুখ ডেকে দিলেন। তারপর একটা খাটে করে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে।

মন ভালো করার জন্য পুরান ঢাকা গেলাম।
শুক্রবার বলে রাস্তা পুরা খালি। যাবো নাজিরাবাজার, রিকশাচালক ভুলে নিয়ে গেলো নাজিম উদ্দিন রোড। এখানে তেমন ভালো কোনো বিরানীর দোকান নেই। আছে শুধু মামুন বিরানী। কিন্তু আজ আমার মামুন বিরানী খেতে ইচ্ছা করছে না। আজ খেতে ইচ্ছা করছে হানিফ বিরানী। কি করবো বুঝতে পারছি না। নাজিরা বাজার কি চলে যাবো? দশ পনের মিনিট হয়তো সময় লাগবে। মসজিদ থেকে জুম্মার নামাজ পড়ে লোকজন বের হতে শুরু করেছে। আমি একটা সিগারেট ধরালাম।

আমার সামনে একজন এসে দাড়ালো।
পাঞ্জাবী পরা, মূখ ভর্তি দাড়ি। মাথায় নামজের টুপি। বুঝা যাচ্ছে, মাত্রই মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হয়েছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, বন্ধু কেমন আছো? আমি একটুও চিনতে পারলাম না। মনে মনে ভাবছি ছিনতাইকারী কিনা! তখন সে পরিচয় দিলো। আমি চিনতে পারলাম। আমরা একসাথে কলেজে পড়েছি। বহু বছর পর দেখা হয়নি আমাদের। তখন অবশ্য বন্ধুর মুখে এরকম চাপদাড়ি ছিলো না। দাড়ির কারনেই আমি চিনতে পারি নি। বন্ধু জোর করে মধ্যদুপুরে তার বাসায় নিয়ে গেল। নাজিমউদ্দিন রোডেই তার বাসা। খুব সুন্দর বাসা। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন।

বন্ধুর বাসায় দুপুরে খেতে বসলাম।
খেতে বসে দেখি বিরাট আয়োজন। একদম বিয়ে বাড়ির খানা। ঝরঝরে সুন্দর পোলাউ। রোষ্ট আর গরুর মাংস। সাথে ডিমের একটা আইটেম এবং ইলিশ মাছ ভাজা। রান্না করেছে বন্ধুর মা। বন্ধুর শ্বশুর বাড়ির তিন চারজন লোক এসেছে। তাই এত আয়োজন এবং আমি ভালো দিনেই এসেছি বন্ধুর বাসায়। আমি বললাম, আমাকে খাবার বেড়ে দিতে হবে না, আমাকে আমার মতো করে খেতে দিন। প্লীজ। কোনো দিকে না তাকিয়ে টানা বিশ মিনিট পাগলের মতো খেলাম। অনেক ক্ষুধা পেয়েছিলো। রান্নাটা খুব ভালো হয়েছে। রোষ্ট দুই পিস খেয়ে নিলাম। আরেকটা নিতাম কিন্তু লজ্জা লাগছিলো। তবে গরুর মাংস এক বাটি উড়িয়ে দিয়েছি। ইলিশ মাছ খাইনি তবে ইলিশ মাছের ডিম খেয়েছি।

খাওয়া শেষ করলাম।
আমার হাতে কোক। চুক চুক করে খাচ্ছি। কোক খাওয়া শেষ করার আগেই দেখলাম, আরো খাবার অপেক্ষা করছে আমার জন্য। দই, ছানা, সন্দেশ এবং চার পদের মিষ্টি। একটা মানুষ কত খেতে পারে! আমার বেশ রাগ'ই লাগলো। যাই হোক, সোফায় না বসে বিছানায় বসলাম, বালিশে মাথা রাখলাম এবং সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙ্গল আছরের আযান শুনে। হাত মুখ ধুয়ে নিলাম। তখন বন্ধুর বৌ চা নাস্তা নিয়ে এলো। লক্ষ্মী ছেলের মতো চা নাস্তা খেয়ে বের হলাম। খুব আলসেমি লাগছে। বাসার জন্য দুই কেজি বাকরখানি কিনলাম। একটা নুনতা, একটা চিনির। তারপর বাসায় ফিরলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×