somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কেমন আছে বাংলাদেশের মানুষ?

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা বাংলাদেশের মানুষগুলো অত্যন্ত বোকা টাইপের।
বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে যে এক ধরনের ফারাক তৈরি হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে যে কোন মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কেমন আছেন? অধিকাংশ মানুষ উত্তর দেবে, ভালো আছি। এ ভালো মানে আসল ভালো নয়। এটা হচ্ছে সামাজিকভাবে কথা বলার একটি ধরণ। মানুষ সাধারণত নিজের নেতিবাচক বিষয়গুলো সবার সাথে শেয়ার করতে চায় না। সে নিজেকে ইতিবাচক-ভাবে তুলে ধরতে চায়। সেজন্য সবাই বলে, ভালো আছি। আসলে কেউ ভালো নেই। এই দেশে ভালো থাকা সম্ভব না। অবশ্য এজন্য এদেশের মানুষ গুলোই দায়ী।

পুরো পৃথিবীর সভ্যতা এগিয়ে গিয়েছে।
এখন সময় এসেছে আমাদেরও সম্মুখে এগিয়ে যাবার। মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের চর্চা থাকলে তার পক্ষে কুসংস্কারে বিশ্বাসী হওয়া সম্ভব নয়। কুসংস্কার তারাই বিশ্বাস করে যাদের মধ্যে বিজ্ঞানের কোনো চর্চা নেই। যে ব্যক্তি বিজ্ঞানের চর্চা করে, বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে সে সর্বদাই সত্যের সন্ধান করে। বিজ্ঞান চর্চা মানুষকে সত্যের সন্ধান করতে শেখায় এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখে। ফলে বিজ্ঞানের চর্চা সব সময়ই কুসংস্কার বিরোধী হয়। অজ্ঞতা ও অশিক্ষা থেকে সৃষ্টি হয় যাবতীয় কুসংস্কারের। ভারতের লোকনাথ এবং সাঁই বাবা। এরা দুজনেই সমাজের কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস দূর করায় ব্রতী ছিলেন, কিন্তু তাদের মৃত্যুর পরে তাদের বাণীকে ধর্মব্যবসায় পরিণত করা হয়। যীশু সম্পর্কে কিছু অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে যেমন অন্ধকে চোখ ফিরিয়ে দেওয়া, খোঁড়ামো ঠিক করা ইত্যাদি। মজার ব্যাপার- গৌতম বুদ্ধের নামেও এমন গল্প আছে!

ধর্ম মানুষকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেয়।
ধর্মহীন বিশ্বের উপকার বলে শেষ করা যাবে না। গৌতম বুদ্ধ, লোকনাথ, সাঁই বাবা -এরা কেউ ধর্মের স্রষ্টা নন, এদের মৃত্যুর পরে এদের মতবাদকে সম্পাদিত করে ধর্মের আকার দেওয়া হয়েছে। ধর্ম না থাকলে- দেশভাগ হতো না। এত এত যুদ্ধ হতো না। মানুষকে ধর্মের নামে হত্যা করা হতো না। আপনি খেলে শক্তি পাবেন, কি কতোটা খেলে শক্তি পাবেন তা জানা হলো জ্ঞান বা বিজ্ঞান। তেমনই যখন আপনি জানতে পারেন যে কি করলে আপনার সাথে কি হবে, কিন্তু তাও আপনি হয় তা মান্য করেন বা অবহেলা করেন, তা আপনার ধর্ম। বুদ্ধের জীবনী থেকে জানা যায় যে তিনি ভগবানের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি এবং সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করার পক্ষে ছিলেন। তার মৃত্যুর পরে তার শিষ্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। পৃথিবীর সচেতন মানুষ, আধুনিক মানুষ, শিক্ষিত মানুষ মানবধর্মে বিশ্বাসী। তারা বলেন এখন যেমন আছি, ধর্ম না থাকলেও তাই থাকতাম। যেই লোক ধর্ম না থাকলে পশুর মত হয়ে যাবে এমন চিন্তা করে সে কি কোন দিন মানুষ ছিল নাকি তা নিয়ে প্রশ্ন আছে! ভাল কাজ করতে ধর্ম লাগে না লাগে মনুষ্যত্ব।

'ও মাই গড' হিন্দি মুভিতে একটা ডায়লগ আছে।
প্রশ্ন করা হয়- ধর্ম মানুষের কি কাজে আসে? উত্তরে বলা হলো- 'মেরে হিসাব সে তো ধর্ম একহি কাম করতা হে, ই তো ওহ ইনসান কো বেবাস বানতা হে ইয়া তো আতঙ্কওয়াদী।' অর্থ্যাৎ আপনি স্বভাব বা অভাবের তাড়নায় নাস্তিক চোর-ডাকাত দেখতে পারেন, কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে নাস্তিকরা অন্তত জঙ্গি হয় না। অনেকে বলেন, পৃ‌থিবীর সব‌কিছুই য‌দি সৃ‌ষ্টিকর্তার সৃ‌ষ্টি হয়, তাহ‌লে অসংখ্য ধর্মও তাঁর সৃ‌ষ্টি। ধর্ম কিছু লোককে কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত রাখার দারুণ একটা মাধ্যম বলে অনেক জায়গায় বেশ শান্তি পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে জ্ঞানী লোকেরা ভাবেন, সবাই যদি ধর্মহীন হয়ে যায়, তাহলে আমাদের কী যে হবে! আধুনিক মানুষেরা মনে করেন- মানব জীবনে ধর্মের তেমন একটা গুরুত্ব নেই, তবে ধর্মের সাথে আধুনিক মানুষের কোনো বিরোধও নেই। মানুষ হয়ে জন্মেছি, মানুষ হয়ে বাচতে চাই এবং এই মানুষ হয়েই মরতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৪৭
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×