
ব্লগে অনেকের লেখাই আমার ভালো লাগে।
তাদের মধ্যে আজ কয়েকজনের কথা বলব। যদিও তারা অল্প লিখেন কিন্তু খুব ভালো লিখেন। আমি মুগ্ধ হয়ে তাদের লেখা পড়ি। তারা যেরকম বিষয় নিয়ে পোস্ট দেন কিন্তু সেই পোষ্ট তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। কারন অনেক পড়তে হয়। তাদের পোষ্ট পড়লেই বুঝা যায়, একটা পোষ্টের জন্য তারা অনেক খাটাখাটনি করেন। ডঃ এম এ আলী লেখা ভালো লাগে। তিনি অনেক বড় পোষ্ট দেন কিন্তু পড়তে বিরক্ত লাগে না। তার লেখা থেকে কিছু শেখা যায়, কিছু জানা যায়। তারা কম পোষ্ট দেন কিন্তু সস্তা লেখা পোষ্ট করেন না। সামুতে বহু ব্লগার আছেন। কিন্তু সবাই ভালো লিখেন না। তা সম্ভবও না। আমার নিজের লেখাই অতি নিম্মমানের। তবু অনেকে পড়েন এবং মন্তব্য করেন সেটা আমার ভাগ্য।
শাহ আজিজ সাহেবের লেখা গুলো আমার ভালো লাগে।
সস্তা প্রেম ভালোবাসার গল্প কবিতা নিয়ে তিনি পড়ে থাকেন না। তার পোষ্ট পড়লেই বুঝা যায়, তিনি দেশ নিয়ে ভাবেন। দেশের সমস্যা নিয়ে ভাবেন। দেশের মানুষের কথা ভাবেন। যা বেশির ভাগ ব্লগাররা করেন না। আমি মনে করি, ভালো ব্লগাররা শুধু ব্লগের সম্পদ না। এই দেশের সম্পদ। ব্লগে এদের ধরে রাখা দরকার আছে। আমি বিশ্বাস করি- লিখে লিখে দেশটা বদলে ফেলা সম্ভব। একজ সাংবাদিকের চেয়ে একজন ব্লগার কম গুরুত্বপূর্ন নয়। সাংবাদিকরা ইচ্ছা মতো লিখতে পারেন না। সম্পাদকের ইচ্ছায় তাদের লেখা কাটছাট করা হয়। কিন্তু ব্লগে মন ভরে লেখা যায়। লেখালেখি অনেক বড় হাতিয়ার। এই হাতিয়ারকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো দরকার।
অনল চৌধুরী ভালো লিখেন।
তার লেখা আমার ভালো লাগে। তার পোষ্ট বেশ ভারী। আজাইরা পোষ্ট লিখেন না। তার প্রতিটা পোষ্ট দরকারী। দেশকে ভালোবাসেন বলেই, খুব সাহসীকতার সাথে সত্য উচ্চারন করেন। উনি খুব কম লিখেন। কিন্তু দরকারী বিষয় নিয়ে লিখেন। সামুতে বহু ব্লগার এসেছে। আবার চলে গেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ টিকে গেছেন। অদৃশ্য ঝড় তুফান তাদের থামাতে পারে নি। আমি অন্যসব ব্লগারদের বলতে চাই- আপনারা প্রচুর পড়ুন। ভালো লেখার প্রধান শর্তই হচ্ছে প্রচুর পড়া। সস্তা লেখা না লিখে এমন কিছু লিখু যাতে মানুষের উপকার হবে। জাতির উপকার হবে। খারাপ স্টুডেন্টের মতো হলে হবে না। এলাম ক্লাশ করলাম আরা চলে গেলাম। কিন্তু কিচ্ছু বুঝলাম না। কিচ্ছু জানলাম না। কিচ্ছু শিখলাম না।
কিছু কিছু ব্লগার খুব সাহসী হয়।
অন্যায় তারা কিছুতেই মেনে নেয় না। এবং তারা প্রচুর পড়ুয়া লোক হয়। তাদের জ্ঞানের পরিধি ব্যাপক। তাদের পোষ্ট এবং মন্তব্য গুলো পড়লেই বুঝা যায়। তারা সত্যিকারভাবেই ব্লগিং ভালোবাসেন। হাসান কালবৈশাখীকে আমার ভালো লাগে। তারা লেখা পড়ে মুগ্ধ হই। কাকে ভালো লাগে, কাকে ভালো লাগে না তা আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই। সহজ সরল স্বীকারোক্তি করতে চাই। কোনদিন হুট করে মরে যাবো তাই মরার আগে নিজের ভালো লাগা মন্দ লাগার কথা জানিয়ে দিতে চাই। ব্লগে যাদের লেখা আমার ভালো লাগে না সেটাও আমি বলে দিতে চাই। আমি নিজে যে ভালো লিখি না তা আমি জানি। এবং এটা আমি স্বীকার করি। তবে আমি ভালো ভালো লেখা লিখতে চাই। সেই চেষ্টা আমার অব্যহত আছে।
সাজিদ উল হক আবির একজন ভালো ব্লগার।
প্রচন্ড প্রানশক্তি তার। তার লেখা ভালো লাগে। একজন প্রচন্ড আশাবাদী মানুষ তিনি। এরকম আত্মবিশ্বাসে ভরা ব্লগার সামু ব্লগে খুব কম আছে। তার লেখা, তার মন্তব্য একটু বাঁকা মনে হলেও- অতি চমৎকার। আমার আফসোস হয় আমি তার মতো লিখতে পারি না। প্রিয় ব্লগারদের লেখা পড়ে আমি প্রতিনিয়ত শিখি। তাদের পোষ্টে যতক্ষন থাকি, একবারও মনে হয় না সময়টা অপচয় করা হলো। আমি চাই ভালো ব্লগাররা নিয়মিত লিখুক। প্রচুর লিখুক। আমরা পড়ি। নিজেকে সমৃদ্ধ করি। অবশ্যই লিখে লিখে সমাজ, দেশ বদলে ফেলা সম্ভব। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামুর ব্লগারদের লেখা চলবেই।
ব্লগার চাঁদগাজী সর্বকালের সেরা ব্লগার।
তার মতো ব্লগার আমি আমার জীবনে দেখি নাই। উনি সামু ব্লগের প্রান। আমার চোখে উনি ব্লগের হিরো। তার পোস্ট, তার মন্তব্য গুলো যেন এটম বোমা। তিনি প্রচন্ড সাহসী মানুষ। উনি সত্যটা বলার জন্য কারো ধারধারেন না। আমি তার বহু মন্তব্য আমার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জমিয়ে রাখি। উনি বিদেশ থাকলেও দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি উনার সীমাহীন ভালোবাসা রয়েছে। উনার প্রতিটা পোষ্টে, উনার মন্তব্য সত্য উচ্চারিত হয়। উনার মন্তব্যের ভার বহু ব্লগার সহ্য করতে পারেন না। কিছু ব্লগার তো উনাকে রীতিমতো হিংসা করেন। বছরের পর আমি দেখেছি, সামুতে সবচেয়ে বেশি উনাকে আক্রমন করা হয়। অবশ্য উনার লজিকের কাছে কেউ দাড়াতে পারে না। যাই হোক, সামুর সমস্ত ব্লগাররা ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক এটাই কামনা করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




