
আমার জীবনে আমি ফালতু মুভি বেশী দেখেছি।
এমনকি ফালতু বইও বেশী পড়েছি। ফালতু বই আর সিনেমা দেখতে গিয়ে ভালো বই আর ভালো মুভি দেখা কম হয়েছে। ফালতু মুভি দেখার কারন হলো- একজন পরিচালক কেন এই ফালতু মুভি বানালেন- এটা জানার জন্য, এটা বুঝার জন্য আমাকে ফালতু মুভি দেখতে হয়েছে। একটা মুভি বানাতে অনেক টাকা লাগে। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পরিচালক জেনে শুনে বুঝে কেন ফালতু মুভি বানান? মুভির গল্প পড়লেই তো বুঝা যায়- মুভিটা কেমন হবে? তাছাড়া কোন অভিনেতা আর অভিনেত্রী অভিনয় কেমন হবে তাও তো জানা আছে। তাহলে কেন পরিচালক এই রকম রিস্ক নেয়?
গতকাল রাতে আমি এই ফালতু মুভিটা দেখেছি।
মুভি শুরু করার আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম- মুভিটা ফালতু হবে। জেনে শুনে বুঝেই আমি মুভিটা দেখতে বসেছি। শুধু মাত্র বুঝার জন্য পরিচালক কেন এই ফালতু মুভিটা বানালেন এই আধুনিক যুগে! যাই হোক, মুভির কাহিনী আপনাদের কিছুটা বলি। নায়িকার নাম থাকে সীতা আর নায়কের নাম থাকে রাম। নায়কের বাপ আর নায়িকার বাপ বন্ধু থাকে। ছোটবেলা নায়কের বাপ মা মারা যায়। এরপর ছেলে (নায়ক) অসুস্থ হয়ে পড়ে। নায়িকার বাবা নায়ককে অনেক ডাক্তার দেখায় কিন্তু নায়ক সুস্থ হয় না। শেষে একজন সন্ধান দেয় ভূটান নামক এক জায়গার। সেখানে নায়ককে রেখে আসে ছোটবেলায় নায়িকার বাবা।
মুভিতে নায়িকা থাকে কাজল আগারওয়াল।
কাজল অনেক সুন্দরী। একদম যেন জান্নাতের হুর। মূলত কাজলের কারনেই মুভিটা দেখেছি। মুভিতে নায়িকা অনেক টাকা খরচ করে। বাপের কাছ থেকে টাকা নেয় আর পানির মতো খরচ করে। একবার নায়িকা তার বাপের কাছে গিয়ে বলে আমাকে ২৫ কোটি টাকা দাও। আমি ব্যবসা করবো। নায়িকার বাবা বলে, তুমি আমার ব্যবসাই দেখাশোনা করো। নতুন করে তোমার ব্যবসা করার দরকার নাই। একদিন নায়িকার বাবা মারা যায়। এবং সব সম্পত্তি রাম (নায়ক) এর নামে লিখে দিয়ে যান। এদিকে রাম অসুস্থ। তার চিকিৎসা চলছে ভুটান নামক একস্থানে। বৌদ্ধরা চিকিৎসা করছে। সে এখন অনেকটা ভালো হয়ে গেছে।
নায়কের দুই একটা ঘটনা বলি-
একবার নায়ক এক উকিলের চেম্বারে বসে আছে। উকিল মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় নায়ককে বলে আপনি অপেক্ষা করুন। বসে বইটই পড়ুন। নায়ক দশ মিনিটের মধ্যে অলৌকিক ভাবে আইনের মোটা মোটা বই পড়ে শেষ করে ফেলেন। আরেকবার নায়ক এক অফিসে গিয়েছে। রিসিপশনে বসে আছে। তার সময় কাটছে না। তখন একজন তাকে একবক্স তারকাটা গুনতে দেয়। নায়ক তারকাটা গুলো স্পর্শ করেই বলে দেয়, এখানে ২০৫টা তারকাটা আছে। শেষে গুনে দেখা গেল আসলেই বক্সে ২০৫ টা তারকাটা আছে। আরেকটা ঘটনা বলে নায়কের গুনগান শেষ করবো। রাস্তায় বিশাল জ্যাম লেগেছে। নায়ক গাড়িতে বসে আছে। তার পাশেই এক এম্বুলেন্স। এম্বুলেন্সে রোগী। রোগী যায় যায় অবস্থা। নায়ক গাড়ি থেকে নেমে দেখে বিশাল একটা কনটেইনার রাস্তার মাঝখানে পড়ে আছে। যার ওজন দুই হাজার কেজি। নায়ক একা সেই দুই হাজার কেজি ওজনের কনটেইনার সরিয়ে ফেলে। অবশ্য এসময় কোথা থেকে দুটা হাতীও এসে নায়ককে কনটেইনার সরাতে সাহায্য করে।
১০০% ফালতু সিনেমা।
দেখেছি আর মনে মনে মুভির পরিচালককে গালি দিয়েছি। এমনকি মুভির গল্প যে লিখেছে তাকেও গালি দিয়েছি। শুধু মাত্র কাজল আগারওয়াল এর জন্য মুভিটা দেখেছি। কাজল আগারওয়াল অনেক সুন্দরী। এই মুভিতে একটা ভিলেন আছে। সে নায়িকাকে এক রাতের জন্য হলেও কাছে পেতে চায়। এদিকে ভিলেনের বৌ আছে, এক মেয়ে আছে। ভিলেন আবার বিরাট ক্ষমতাবান মন্ত্রী। তার শ্বশুরও মন্ত্রী। মুভিতে কিছু কমেডি আছে। তবে কমেডিও গুলো অতি সস্তা কমেডি। হাসি আসে না। অথচ পরিচালক যেন জোর করে হাসাতে চায়। ভিলেন নায়ককে তিনটা গুলি করে বুকের মধ্যে। তবু নায়কের কিছু হয় না। মুভির শেষের দিকে ভিলেনকে গুলি করে হত্যা করে ভিলেনের স্ত্রী। তখন ভিলেনের শ্বশুর মেয়েকে বলে ভালো কাজ করেছো। আরো আগে মারা উচিত ছিলো হারামীটাকে।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




