
আমি জানি আমাদের সমাজে 'বদ' লোক দিয়ে ভরা।
একজন আরেকজনের চেয়ে বেশি 'বদ'। বিরাট বদ। এই বদ লোক গুলোকে ভালো করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের'ই। তারা কেন এবং কিভাবে বদ হলো একবার ভেবে দেখুন। সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো- আমাদের দেশের বেশীর ভাগ লোকই ভালো। বিশ্বাস করুন একজন সহজ সরল ভালো মানুষ। তারা একে অন্যের বিপদে এগিয়ে যায়। এই যে কিছু দিন আগে করোনায় অভাবে পড়ে যাওয়া লোকদের যে যা পেরেছে ত্রান নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। তাদের সাধ্যমত করতে চেষ্টা করেছে। বহুলোক কারো রক্তের প্রয়োজন হলে- গভীর রাতে ছুটে যায় হাসপাতালে। তবে বেশ কিছু বদ লোকের কাজকর্মে আমি প্রচন্ড হতাশ। খবরের কাগজ থেকে কিছু বিষয় আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। পড়ুন। এবং মানূষের মানসিকতা বুঝুন। এবং এর থেকে পরিত্রানের উপায় বের করুন।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৫০ শতাংশ জমিতে লাগানো আমন ধান কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নারায়ণগঞ্জে গভীর রাতে জমির ৫০০ লাউগাছ কেটে নষ্ট করেছে। বরগুনায় দুর্বৃত্তরা মাছের খামারের ছয়টি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। ২৮ লাখ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা মারা গেছে। লক্ষ্মীপুরে চাচার ওপর হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে বাগানের অর্ধশতাধিক বিভিন্ন ফলজ ও বনজ চারা গাছ কেটে ফেলেছে ভাতিজা। কচুয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে রহমান পোল্ট্রি ফার্মের ভিতরে কৌশলে প্রবেশ করে প্রায় তিনশ মুরগী পা দিয়ে চেপে চেপে মেরে ফেলেছে কে বা কারা। রাতের অন্ধকারে মধুখালী উপজেলার হাটঘাটা গ্রামে কলাবাগানের ১০০টি কলাগাছের কাঁধি কেটে ফেলা হয়েছে। টিয়াখালী ইউনিয়নের মধ্য বাদুড়তলী বাঁধসংলগ্ন এলাকায় অর্ধলাখ টাকার খিরাই ও কুমড়া ক্ষেত শত্রুতা করে নষ্ট করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ব্যক্তি মালিকানাধীন তিনটি সেগুন ও ফলজ বাগান প্রায় ১০ হাজারের অধিক সেগুন ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেছে। রাজশাহীর তানোরে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বন বিভাগের রাস্তার ১৫টি আম গাছ কেটে ফেলেছে। নারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামে বেগুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগে করে সাড়ে তিনশত মন বেগুন গাছ নিধন করা হয়েছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছোট নারায়ণপুর গ্রামে একটি নার্সারীর বিভিন্ন জাতের প্রায় তিন শাতাধিক আম গাছের চারা কেটে নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
আমি অনেকদিন আগে বেশ কিছু দিন পুরান ঢাকায় ছিলাম (কলতাবাজার)। তখন দেখতাম-গলির মাথায় ল্যাম্প পোষ্টের সামনে দাঁড়িয়ে- মধ্যেরাত্রে একলোক মদ খেয়ে অকথ্য ভাষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে গালাগালি করত। তারপর বউটা এসে কাঁদতে কাঁদতে তার স্বামীকে বাসায় নিয়ে যেত। আমি সারারাত জেগে বই পড়তাম। ওই লোকের গালাগালি শুনে ব্যলকনিতে এসে দাঁড়াতাম। একদিন ওই মাতালটার সাথে খুব সাহস করে আলাপ করে ফেললাম। প্রথমে লোকটা ভাব করতে চায়নি। পরে একটু একটু করে ভাব হয়েই গেল। আমি লোকটার কাছে অনেকবার জানতে চেয়েছি- সে মদ খেয়ে মধ্যরাত্রে কেন গালাগালি করে। লোকটা জবাব দিতে পারেনি। তখন বুঝতে পারলাম, ওর রাগটা বিশেষ কারো ওপর নয়। ওর মনটাই বিগড়ে গেছে। মদ খেলেই ভিতরের নানা রকম জমে থাকা বিষ গালাগাল হয়ে বেরিয়ে আসে। তখন আরাম লাগে। এখন সে আমার বন্ধু।
প্রত্যেকটা মানুষই আলাদা আলাদা গল্প।
যত পড়বেন তত মজা। রুপসী বাংলা হোটের সামনে দেখবেন- যখন ট্র্যাফিকে গাড়ি থামে তখন, ভিক্ষুক ভিক্ষা চায়, কেউ নকল বই বিক্রি করে আবার কেউ ফুল বিক্রি করে। আমাদের দেশে যার যা আছে বা নেই সবাই সেই আছে বা নেইকে একটা ব্যাপারেই পুঁজি করতে চায়। সেটা হলো- ভিক্ষা। যার একটা হাত নেই- সে সেই নেইটাকে ভিক্ষের কাজে লাগায়। ভিক্ষে করতে শেখায়- আমাদের সরকার। সরকার নিজেই পৃথিবীতে সবচেয়ে নির্লজ্জ ভিখিরি। এ দেশে কত সম্পদ আছে, কোথায় কী পাওয়া যায়, আমাদের সত্যিকারের অভাব কতখানি তা কেউ খুঁজে দেখেনি আজ পর্যন্ত। খুঁজলে দেখা যবে, আমাদের দেশে রিসোর্সের অভাব নেই। শুধু খুঁজে দেখা হয়নি এই যা। সমাজে নানান রকম দুষণ বাড়ছে তো বাড়ছেই। দেশ নিয়ে ভাবলে আমার জীবনে একটুও শান্তি থাকে না। মাথা এত গরম হয়ে যায় যে, রাতে ঘুম আসতে চায় না। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আছে।
মানুষের উচিত (পৃথিবীতে যেহেতু সে এসেছে) তাই পৃথিবীর জন্য কিছু করা।
শুধু চাকরি বা ব্যবসা করে একটা জীবন পার করে দিলে হবে না। পৃথিবীকে ভালোবাসতে হবে। ভেবে দেখুন মার্কিনীরা পারমানবিক বোমা বানাচ্ছে। এন্টার্কটিকায় বরফ গলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত মানুষের লোভের জন্য পৃথিবীর ওজন বাড়ছে। বন জঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। কাজেই পৃথিবীর যত্ন না নিলে, পৃথিবী কঠিন প্রতিশোধ নিবে আমাদের ওপর। অলরেডি করোনা ভাইরাস এটাক করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোথায় রেখে যাবেন? আপনার আদরের ছেলেমেয়েকে কোন পৃথিবীকে রেখে যাবেন? তারা কিভাবে বাঁচবে? কাজেই আমাদের অনেক দায়দায়িত্ব আছে। আর দায়িত্ব অবহেলা করা মানে নিজের ভবিষ্যৎ প্রন্মের ক্ষতি করা।
সারাদিন চাকরি আর ব্যবসা। টাকা-টাকা করলে হবে?
যদি পৃথিবীই না টিকে থাকে তাহলে টাকা দিয়ে কি হবে? আপনার একর-একর জায়গা জমি দিয়ে কি হবে? ভেবে ভেবে বের করুন কারা পৃথিবীর ক্ষতি করছে। পৃথিবী ক্ষয় করছে। তাদেরকে বাঁধা দিতে হবে। বুঝাতে হবে। আমরা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের এমন এক পর্যায়ে আছি যা আরেকটু বেশি হলে সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিপদ। এই নিয়ে কাউকে কোনোদিন ভাবতে দেখলাম না। অথচ তার জ্ঞান বুদ্ধি আছে। যদি মানুষ সাবধান না হয়- তাহলে ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস সব শেষ করে দিবে একদিন। সেই সময় খুব কাছেই। সামনে আমাদের ভয়াবহ দুঃসময়।
যদি এমন হতো, ভেবে দেখুন-
পৃথিবীতে কোনো দুষ্টলোক নেই। কোনো অস্ত্র নেই। সবাই সবাইকে ভালোবাসে। হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই, লোভ নেই। একজনের সমস্যায় অন্যজন ঝাঁপিয়ে পড়ছে তাকে সাহায্য করার জন্য। দেশে কোনো খাদ্যাভাব নেই। কৃষক ফসল ফলাচ্ছে। মানুষ গাছ লাগিয়ে লাগিয়ে পুরো পৃথিবীটা সবুজ বানিয়ে ফেলেছে। নদী ভর্তি মাছ। জেলেরা ঝাল ফেললেই মাছ আর মাছ। দেশে কোনো চোর নেই, ছিনতাইকারী নেই। কেউ ঘুষ খায় না। দুর্নীতিবাজ লোকরা সবাই সৎ হয়ে গেছে। এই দেশে কিছু লোকের এত পরিমান টাকা আছে যে, তারা ইচ্ছা করলে দশটা গ্রামের রাস্তা পাকা করে দিতে পারে। প্রাইমারী স্কুল গুলো আধুনিক বিল্ডিং করে দিতে পারে। কালভার্ট করে দিতে পারে। আর্সেনিক মুক্ত পানির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। তাদের টাকা আছে কিন্তু তারা কেন এই কাজ গুলো করে না? মৃত্যুর পর তো তারা টাকা কবরে নিয়ে যাবে না। এই জন্য'ই বলেছি সবার আগে পৃথিবীকে ভালোবাসতে হবে। পৃথিবীর মানুষকে ভালোবাসতে হবে। একটা বিশ্ব সম্মেলন করে সারা পৃথিবীর সব মানুষ মিলে এই পৃথিবী নামক গ্রহটাকে সুন্দর করে সাজানো সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




