
ছবি- আমার তোলা।
বিয়ের অনুষ্টান শেষ। ‘অতঃপর তাহারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো’- গল্পের মতোন জীবনের কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে না।
কেউ আমাকে একটু কষ্ট করে বোঝাবেন, জীবনের উদ্দেশ্য কি?
সত্যি বলছি, এই ব্যাপারে বিশেষ অজ্ঞ আমি। বিশেষ সন্দিহান। আদিম সমাজে মানুষ সারাদিন মাইলের পর মাইল চষে বেড়িয়েছে খাবারের সন্ধানে, সারা জীবনই থেকেছে আধপেটা খেয়ে। যা খেয়েছে তাপ কাঁচা। অধিকাংশ সময়ই কেটেছে হিংস্র প্রাণীদের মোকাবেলায়। জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজার মত অবসর ও মস্তিষ্কের বিকাশ তাদের ছিল না। বিবর্তনীয় দৃষ্টিতে যদি দেখি তবে আমাদের জীবনের আসলে উদ্দেশ্য একটিই, তা হচ্ছে নিজের জিনকে রক্ষা করা এবং এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
ধর্ম বলে মানুষকে বিভিন্ন কাজ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে!
কারো জীবনের উদ্দেশ্য রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করা। কারো জীবনের উদ্দেশ্য সারাজীবন মাছ মেরে অন্যদের খাওয়ানো। কারো জীবনের উদ্দেশ্য স্বামীর সেবা করা ইত্যাদি। জীবনের কোন অর্থ বা যৌক্তিকতা নাই? তাই বলে জীবন উপভোগ না করারও কোন কারণ নাই। যারা জীবনের অর্থ পেয়েছে বলে দাবী করে তারা হয় মিথ্যে বলছে অথবা কোন মিথ্যা ভূয়া বিষয়ে বিশ্বাস করছে। দুটো ক্ষেত্রেই তারা মানব জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে বিফল হয়।
আপনি রাস্তার উপর দেখতে পেলেন একটা কুকুর গভীর নিদ্রায় মগ্ন, তার পেটটা স্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য উঠছে আর নামছে। এই দৃশ্যটি আপনি গভীর মনোযোগের সাথে দেখ্তে দেখতে যদি প্রশ্ন করেন এই কুকুরটার পৃথিবীতে কি উদ্দেশ্য আছে? এর উত্তর আপনি কি দেবেন আমি জানিনা, কিন্তু আমি বলব ওই সময়ের জন্য কুকুরটির উদ্দেশ্য ঘুমানো এবং সেটাই তার ওই সময়ের পরম উদ্দেশ্য। ঘুম ভাঙ্গলে সে আরেকটি কাজে নিয়জিত হবে এবং সেটাই হবে তার ওই সময়ের পরম উদ্দেশ্য।
আইনস্টাইন মরে গিয়েও তার চিন্তার মাধ্যমে জীবন্ত থাকেন আমাদের কাছে, মানে, জীবিতদের কাছে। বস্তুত এই যে আইনস্টাইনকে নিয়ে আমরা এত মাতামাতি করছি, রবীন্দ্রনাথ বা শেখ মুজিনকে নিয়ে মাতামাতি করছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এতে ঐ মহামানবদের আসলেই কিছু এসে যায় না, কারণ তারা এই সন্মান দেখতেও পাচ্ছেন না, ভোগ করতেও পারছেন না! তাই আইনস্টাইনের বা রবীন্দ্রনাথের বেঁচে থাকা বলতে তাদের নিজেদের বেঁচে থাকা বোঝায় বলে মনে হয় না, বরং জীবিত মানুষের নিকট তাদের চিন্তার বেঁচে থাকা বোঝায় সম্ভবত! এখন একটা মানুষ বেঁচে আছেন কিনা, আমরা কিভাবে বুঝব? সে যদি চিন্তা করতে পারে, কথা বলতে পারে, তাহলে তাকে জীবিত বলা যায়! আইনস্টাইন বা রবীন্দ্রনাথ কি প্রত্যহ আমাদের সাথে কথা বলছেন না, বা তাদের চিন্তা গুলো কি আমাদের ভাবনার সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে না? এই জন্যই তারা জীবিত, এইজন্যই তারা সচল!
কোনো কিছুতেই এখন আর আমার রাগ হয় না।
যে যা বলে চুপ করে শুনি। কেউ বলে- আপনি খুব খারাপ, আমি বলি আচ্ছা। আমি যখন খুব ছোট- তখন আমাকে এক বাউল বলে ছিলো- তুমি কি কখনও নিখুঁত ভালো মানূষ দেখেছো? আমি সেদিন সেই বাউলকে কোনো উত্তর দিতে পারি নি। তারপর থেকে মনে মনে নিখুঁত ভালো মানুষ খুজতে লাগলাম। ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম- বিশাল শহরে যেন আমি একটা সোনা মুখী সুই হারিয়ে ফেলেছি- এখন আমাকে সেই সুই খুঁজে বের করতে হবে। সেই ছোটবেলা থেকে অনেক ভাবলাম- নিখুঁত মানুষ দেখতে কি রকম হবে? তার দাঁত কি ধবধবে সাদা হবে? মাথার চুল গুলো কি ছোট ছোট করে কাঁটা থাকবে? সেই নিখুঁত ভালো মানুষের হাতের মাঝখানে কি একটা তিল থাকবে? তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আমি একজন নিখুঁত ভালো মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছি। আপনাদের সন্ধানে থাকলে আমাকে জানাবেন। এই নিখুঁত মানুষ খুজতে গিয়ে মনে হলো- আমি মানুষ হিসেবে কি রকম?
যখন কোনো মহিলা নিজের স্বামীর অগোচরে অন্য পুরুষের সাথে লটরপটর করে তখনও কিছু বলি না, চুপ করে থাকি। দিন দিন আমি মানুষের অন্ধকার দিক দেখে- দেখে, অন্ধকারে যা্চ্ছি। আসলে কিছু মানুষ বুঝে না বুঝেই- অনেক বড় বড় কথা বলে- মহৎ সাজতে চায়। জ্ঞানী সাজতে চায়। লেখক সাজতে চায়। ভালো ফটোগ্রাফার সাজতে চায়। পন্ডিত সাজতে চায়। অন্যকে সবার সামানে ছোট করতে চায়- অপমান করতে চায় কিন্তু বোকা মানুষ এটা বুঝতে চায় না- তার মধ্যে যদি সত্যিকারের জ্ঞান থাকে, গুন থাকে, ভালোত্ব থাকে, মহত্ব থাকে- তাহলে সে সেটা গোপন রাখতে পারবে না। কোনো না কোনো ভাবে তা প্রকাশ পাবেই। ঠিক তেমনি তার খারাপ দিক গুলোকেও গোপন রাখা সম্ভব নয়।
মেজাজ খুব খারাপ।
সন্ধ্যার পর একটা চায়ের দোকানে বসে আছি। চা দিতে বলেছি- কিন্তু চা ওয়ালা সবাই্কে চা দিচ্ছে- আমাকে দিচ্ছে না। মনে মনে ভাবলাম- যদি আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে চা না দেয়- তাহলে চা ওয়ালাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিব। আমি সব সময় এই রকম ভাবি- থাপ্পড় দিবো- লাথথি দিন। ধমক দিবো কিন্তু কখনও এমন করি না ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


