somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এক গোছা রজনীগন্ধা হাতে দিয়ে বললাম, চললাম।

১২ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি- আমার তোলা।

বিয়ের অনুষ্টান শেষ। ‘অতঃপর তাহারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো’- গল্পের মতোন জীবনের কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে না।

কেউ আমাকে একটু কষ্ট করে বোঝাবেন, জীবনের উদ্দেশ্য কি?
সত্যি বলছি, এই ব্যাপারে বিশেষ অজ্ঞ আমি। বিশেষ সন্দিহান। আদিম সমাজে মানুষ সারাদিন মাইলের পর মাইল চষে বেড়িয়েছে খাবারের সন্ধানে, সারা জীবনই থেকেছে আধপেটা খেয়ে। যা খেয়েছে তাপ কাঁচা। অধিকাংশ সময়ই কেটেছে হিংস্র প্রাণীদের মোকাবেলায়। জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজার মত অবসর ও মস্তিষ্কের বিকাশ তাদের ছিল না। বিবর্তনীয় দৃষ্টিতে যদি দেখি তবে আমাদের জীবনের আসলে উদ্দেশ্য একটিই, তা হচ্ছে নিজের জিনকে রক্ষা করা এবং এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

ধর্ম বলে মানুষকে বিভিন্ন কাজ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে!
কারো জীবনের উদ্দেশ্য রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করা। কারো জীবনের উদ্দেশ্য সারাজীবন মাছ মেরে অন্যদের খাওয়ানো। কারো জীবনের উদ্দেশ্য স্বামীর সেবা করা ইত্যাদি। জীবনের কোন অর্থ বা যৌক্তিকতা নাই? তাই বলে জীবন উপভোগ না করারও কোন কারণ নাই। যারা জীবনের অর্থ পেয়েছে বলে দাবী করে তারা হয় মিথ্যে বলছে অথবা কোন মিথ্যা ভূয়া বিষয়ে বিশ্বাস করছে। দুটো ক্ষেত্রেই তারা মানব জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে বিফল হয়।

আপনি রাস্তার উপর দেখতে পেলেন একটা কুকুর গভীর নিদ্রায় মগ্ন, তার পেটটা স্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য উঠছে আর নামছে। এই দৃশ্যটি আপনি গভীর মনোযোগের সাথে দেখ্তে দেখতে যদি প্রশ্ন করেন এই কুকুরটার পৃথিবীতে কি উদ্দেশ্য আছে? এর উত্তর আপনি কি দেবেন আমি জানিনা, কিন্তু আমি বলব ওই সময়ের জন্য কুকুরটির উদ্দেশ্য ঘুমানো এবং সেটাই তার ওই সময়ের পরম উদ্দেশ্য। ঘুম ভাঙ্গলে সে আরেকটি কাজে নিয়জিত হবে এবং সেটাই হবে তার ওই সময়ের পরম উদ্দেশ্য।

আইনস্টাইন মরে গিয়েও তার চিন্তার মাধ্যমে জীবন্ত থাকেন আমাদের কাছে, মানে, জীবিতদের কাছে। বস্তুত এই যে আইনস্টাইনকে নিয়ে আমরা এত মাতামাতি করছি, রবীন্দ্রনাথ বা শেখ মুজিনকে নিয়ে মাতামাতি করছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এতে ঐ মহামানবদের আসলেই কিছু এসে যায় না, কারণ তারা এই সন্মান দেখতেও পাচ্ছেন না, ভোগ করতেও পারছেন না! তাই আইনস্টাইনের বা রবীন্দ্রনাথের বেঁচে থাকা বলতে তাদের নিজেদের বেঁচে থাকা বোঝায় বলে মনে হয় না, বরং জীবিত মানুষের নিকট তাদের চিন্তার বেঁচে থাকা বোঝায় সম্ভবত! এখন একটা মানুষ বেঁচে আছেন কিনা, আমরা কিভাবে বুঝব? সে যদি চিন্তা করতে পারে, কথা বলতে পারে, তাহলে তাকে জীবিত বলা যায়! আইনস্টাইন বা রবীন্দ্রনাথ কি প্রত্যহ আমাদের সাথে কথা বলছেন না, বা তাদের চিন্তা গুলো কি আমাদের ভাবনার সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে না? এই জন্যই তারা জীবিত, এইজন্যই তারা সচল!

কোনো কিছুতেই এখন আর আমার রাগ হয় না।
যে যা বলে চুপ করে শুনি। কেউ বলে- আপনি খুব খারাপ, আমি বলি আচ্ছা। আমি যখন খুব ছোট- তখন আমাকে এক বাউল বলে ছিলো- তুমি কি কখনও নিখুঁত ভালো মানূষ দেখেছো? আমি সেদিন সেই বাউলকে কোনো উত্তর দিতে পারি নি। তারপর থেকে মনে মনে নিখুঁত ভালো মানুষ খুজতে লাগলাম। ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম- বিশাল শহরে যেন আমি একটা সোনা মুখী সুই হারিয়ে ফেলেছি- এখন আমাকে সেই সুই খুঁজে বের করতে হবে। সেই ছোটবেলা থেকে অনেক ভাবলাম- নিখুঁত মানুষ দেখতে কি রকম হবে? তার দাঁত কি ধবধবে সাদা হবে? মাথার চুল গুলো কি ছোট ছোট করে কাঁটা থাকবে? সেই নিখুঁত ভালো মানুষের হাতের মাঝখানে কি একটা তিল থাকবে? তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আমি একজন নিখুঁত ভালো মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছি। আপনাদের সন্ধানে থাকলে আমাকে জানাবেন। এই নিখুঁত মানুষ খুজতে গিয়ে মনে হলো- আমি মানুষ হিসেবে কি রকম?

যখন কোনো মহিলা নিজের স্বামীর অগোচরে অন্য পুরুষের সাথে লটরপটর করে তখনও কিছু বলি না, চুপ করে থাকি। দিন দিন আমি মানুষের অন্ধকার দিক দেখে- দেখে, অন্ধকারে যা্চ্ছি। আসলে কিছু মানুষ বুঝে না বুঝেই- অনেক বড় বড় কথা বলে- মহৎ সাজতে চায়। জ্ঞানী সাজতে চায়। লেখক সাজতে চায়। ভালো ফটোগ্রাফার সাজতে চায়। পন্ডিত সাজতে চায়। অন্যকে সবার সামানে ছোট করতে চায়- অপমান করতে চায় কিন্তু বোকা মানুষ এটা বুঝতে চায় না- তার মধ্যে যদি সত্যিকারের জ্ঞান থাকে, গুন থাকে, ভালোত্ব থাকে, মহত্ব থাকে- তাহলে সে সেটা গোপন রাখতে পারবে না। কোনো না কোনো ভাবে তা প্রকাশ পাবেই। ঠিক তেমনি তার খারাপ দিক গুলোকেও গোপন রাখা সম্ভব নয়।

মেজাজ খুব খারাপ।
সন্ধ্যার পর একটা চায়ের দোকানে বসে আছি। চা দিতে বলেছি- কিন্তু চা ওয়ালা সবাই্কে চা দিচ্ছে- আমাকে দিচ্ছে না। মনে মনে ভাবলাম- যদি আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে চা না দেয়- তাহলে চা ওয়ালাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিব। আমি সব সময় এই রকম ভাবি- থাপ্পড় দিবো- লাথথি দিন। ধমক দিবো কিন্তু কখনও এমন করি না ।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:৫৯
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিন বুদ্ধিজীবী

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪




বুদ্ধিজীবী হওয়া এখন খুব কঠিন কিছু না- শুধু একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই হলো। মাথার ভেতর কিছু আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় না; আসল বিষয় হলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×