
ছবিঃ আমার তোলা।
গতকালের দুটি ঘটনা বলব।
এক কাজে গুলিস্তান গিয়েছি। ভেবেছিলাম কাজ শেষ হতে এক ঘন্টা লাগবে। অথচ পাঁচ মিনিটেই কাজ শেষ। হাতে সময় আছে। তাই ভাবলাম এখন আরাম করে এক কাপ চা আর একটা সিগারেট খাওয়া যেতে পারে। রাস্তার মাঝখানে গোলাপ শাহ মাজার। রাস্তা পার হলে একটা মসজিদ। খুব ব্যস্ত রাস্তা। সারাদিন জ্যাম লেগেই থাকে। ফুটপাত গুলোর অবস্থাও ভালো না। হাঁটার জায়গা পর্যন্ত নেই। মসজিদের পাশে একটা চায়ের দোকানে বসলাম। চা খাচ্ছি। আর চারপাশের মানুষের ব্যস্ততা দেখছি।
গোলাপ শাহ মাজারে দেখলাম-
এক মহিলা তেহারি রান্না করে নিয়ে এসেছেন। পলিথিনে করে দরিদ্র লোকদের বিলিয় দিচ্ছেন। মুহুর্তের মধ্যে সবাই কাড়াকাড়ি করে নিয়ে গেলো। গোলাপ শাহ মাজারে সব সময় একদল পাগল নারী-পুরুষ থাকেই। তাদের পোশাক বড় অদ্ভুত। চুলে জট, গলায় নানান রকম মালা। সাধারণ মানুষ থেকে সহজেই এদের আলাদা করা যায়। যাই হোক, আসল ঘটনা বলি- গোলাপ শাহ মাজারের এক পাগল রাস্তার পাশে ভ্যান গাড়িতে বসে আছে। তার মাথা ভর্তি চুল, লাল রঙ্গের লুঙ্গি পরা। একটু আগে সে পলিথিনে তেহারি পেয়েছে।
ছোট ছোট চারটা কুকুর।
লাল লুঙ্গি পরা পাগল লোকটা চারটা বাচ্চা কুকুর কে চুই চুই করে ডাকল। চার বাচ্চা কুকুর ছুটে এলো। একটা পরিস্কার কাগজ বিছিয়ে পাগলটা বাচ্চা চারটা কুকুরকে তেহারি খেতে দিলো। বাচ্চা চারটা কুকুর খূশিতে নাচতে নাচতে তেহারি খেয়ে নিলো। লাল লুঙ্গি পরা পাগলটা কুকুর গুলোকে এত আন্তরিক এবং যত্ন নিয়ে খাওয়ালো তা দেখে ভালো লাগলো। আমি মুগ্ধ হয়ে দৃশ্যটা দেখলাম। আমার খুবই ভালো লাগলো। কুকুরের খাওয়া শেষ হলো। কুকুর গুলোকে দেখলাম খুশিতে লাফাচ্ছে। বুঝা যাচ্ছে তাঁরা তেহারি খেয়ে বেশ মজা পেয়েছে। আমি পাগলকে বললাম, এখন আপনি কি খাবেন? পাগল বলল, আল্লাহ ঠিকই ব্যবস্থা করে দিবেন। আমি পাগলকে এক শ' টাকা দিলাম। সে টাকা নিলো না।
দ্বিতীয় ঘটনা টা বলি।
রাত ৯ টা। রাজউক এর সামনে দাঁড়িয়ে আছি অনেকক্ষন। কোনো রিকশা খিলগাও যেতে চাচ্ছে না। শরীর ক্লান্ত লাগছে বেশ। খিলগাও পর্যন্ত হেঁটে যেতে ইচ্ছা করছে না। রাস্তা বেশ নিরিবিলি। ফুটপাতে অলরেডি পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ঘরে লোকজন ঘুমাতে শুরু করেছে। একটা পরিবারকে দেখলাম- তাঁরা খেতে বসেছে। ভদ্রমহিলা ভাত মাখাচ্ছেন খুব যত্ন নিয়ে। তার ডান পাশে অসুস্থ স্বামী এবং বাম পাশে একটা কুকুর বসে আছে। তাঁরা অবাক চোখে ভাতের দিকে তাকিয়ে আছে। ভদ্রমহিলা ভাত মেখে তার স্বামীকে খাইয়ে দিচ্ছেন। তারপর কুকুরটাকেও ভাত মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন। একবার স্বামীকে একবার কুকুরটাকে। দৃশ্যটা দেখে ভালো লাগল। হতে পারে অতি তুচ্ছ দৃশ্য কিন্তু আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


