
১৫ আগষ্ট। শুক্রবার। মেজর ফারুকের জন্মবার। তার জন্মের পরপরই আজান হয়েছিল। কাজেই এই দিনটি তার জন্য শুভ। ফারুকের স্ত্রী ফরিদা কোরান শরীফ নিয়ে জায়নামাজে বসেছেন। শুভ সংবাদ (?) না-পাওয়া তিনি কোরান পাঠ করেই যাবেন।
মসজিদে আজান হচ্ছে। শেখ মজিব বললেন, তোমরা কি চাও? শেখ মুজিবের কঠিন ব্যক্তিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব। শেখ মুজিব আবার বললেন, তোমরা কী চাও?
মেজর মহিউদ্দিন বলল, স্যার একটু বাইরে আসুন।
কোথায় আসবো?
মেজর আবারও আমতা আমতা করে বলল, স্যার, একটু আসুন।
শেখ মুজিব বললেন, তোমরা কি আমাকে খুন করতে চাও? পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে কাজ করতে পারেনি, সে কাজ তোমরা করবে?
এই সময় স্বংয়ক্রিয় অস্ত্র হাতে ছুটে এলো মেজন নূর। শেখ মুজিব তার দিকে ফিরে তাকানোর আগেই সে ব্রাশফায়ার করল। সময় ভোর পাঁচটা চল্লিশ। বঙ্গপিতা মহামানব শেখ মুজিব সিড়িতে লুটিয়ে পড়লেন।
বত্রিশ নম্বরের বাড়িটিতে কিছুক্ষনের জন্য নরকের দরজা খুলে গেল। একের পর এক রক্তভেজা মানুষ মেঝেতে লুটিয়ে পড়তে লাগল।
দেয়াল, পৃঃ ১০২, হুমায়ূন আহমেদ।
রাসেল একটা ঘরের এক কোনায় ভীত হয়ে বসেছিল, তার চোখে পানি। সে কেঁদে বলে, আমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে চলো- একজন উন্মাদ বন্ধুকধারী বলে ওঠে – চল তোকে তোর মায়ের কাছে পৌঁছে দিবো ।
সেইদিন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা আর শেখ রেহেনা ছিলেন বিদেশে। আর সে কারণেই বেঁচে গেছেন তারা।
মেজর জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শুনে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, প্রেসিডেন্ট নিহত, তাতে কী হয়েছে? ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে। জিয়াউর রহমান তার শক্তি দেখাতে শুরু করলেন- মাত্র দুই মাসে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ১১৪৩ জন সৈনিক ও অফিসারকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হয়। পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনলেন যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে। নাগরিত্ব দিলেন এবং বিশেষ ক্ষমতায় বসালেন।
১৫ই আগষ্ট আমি চুপচাপ'ই পালন করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তো আমার বুকে।
আমার হিরো মারা যায় নি। কোটি বাঙালীর অন্তরে সে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


