
ছবিঃ গুগল।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন।
পুরো দেশের তখন অবস্থা ভবয়াবহ। সব রাস্তাঘাট ভাঙ্গা। শিল্প কারখানা ধ্বংস হয়ে আছে। মানুষের থাকার ব্যবস্থা নেই। খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। সমস্ত ঘরবাড়ি আগুনে পোড়া। এমন কি গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস। যত্রতত্র মৃত মানুষ। এক কথায় পুরো দেশ তছনছ, বিধ্বস্ত। বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার কাজে হাত দিলেন। পুরো দেশের মানুষ তার সমস্ত কথা মেনে নিয়ে দেশ গড়ায় মন দিল। একজন যোগ্য নেতার কারনে- খুব দ্রুত একটা বিধ্বস্ত দেশ বদলাতে শুরু করলো এবং বদলে গেল। বঙ্গবন্ধুর খাওয়া নেই, ঘুম নেই। তিনি এক দেশে থেকে আরেক দেশে যেতে শুরু করলেন। বাংলাদেশের অবস্থা তাদের সামনে তুলে ধরছেন। একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পরিবর্তনের জন্য বর্হীবিশ্বের বড় বড় নেতাদের সাথে আলোচনা করতে থাকলেন। এবং সফলতা পেলেন।
মোটামোটি এক বছরের মধ্যে পুরো দেশকে একটা নিয়মের মধ্যে আনলেন।
পুরোনো কলকারখানা আবার নতুন করে চালু হলো। মানুষজন কাজে যোগ দিল। কৃষক, শ্রমিক এবং শিক্ষিত সমাজসহ সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করলো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিব এক ভাষনে বলেছেন, কৃষক দুর্নীতিবাজ না, শ্রমিক দুর্নীতিবাজ না। দুর্নীতিবাজ হলো শিক্ষিত সমাজ। যারা বড় বড় পদে আছে। এরা জাতীর শত্রু। সেই ভাষনে বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, যারা তাদের দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করে না- তারাও দুর্নীতিবাজ, যারা কাজে ফাঁকি দেয় তারাও দুর্নীতিবাজ, যারা সত্যকে ডেকে রাখে তারাও দুর্নীতিবাজ। সবাই ৭ই মার্চের ভাষন নিয়ে হই চই করে। এই ভাষন আমারও অনেক প্রিয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য ভাষন গুলোও অতি চমৎকার। সবার শোনা উচিত। বুকে ধারন করা উচিত।
যারা ওই সময় খারাপ কাজ করেছে তার দায় দায়িত্ব বঙ্গবন্ধুর নয়।
ধরুন, আমাদের পরিবারের প্রধান আমার বাপ। এখন আমি যদি খারাপ কাজ করি তার দায় দায়িত্ব আমার বাপের না, আমার। আমার বাপকে দোষারোপ করলে সেটা অবিচার হবে। আমি বিশ্বাস করি, যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে আজ আমাদের দেশ মালোশিয়ার চেয়ে উন্নত হতো। পাকিস্তান যুদ্ধে হেরে গিয়েছে, কিন্তু কিছু পাকিস্তানি মানসিকতার লোক আজও আমাদের দেশে রয়ে গেছে। এরাই সুযোগ খুজে প্রতিনিয়ত দেশটার বারোটা বাজাতে। পরিবারের একজন ভালো হলে- হয় না। সবাইকেই ভালো হতে হয়। ঠিক তেমনি একটা দেশের একজনকে ভালো হলে হয় না, দেশের সবাইকে ভালো হতে হয়। তবেই তরতর করে দেশের উন্নতি হয়।
দেশ স্বাধীন হলো ৫০ বছর হয়ে গেল।
এই পঞ্চাশ বছরে যে পরিমান উন্নত হওয়ার কথা ছিল সেই পরিমান উন্নত হয়নি। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দুষ্টলোকে ভরে গেছে দেশ। তারা উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করছে। দেশ থেকে দুর্নীতিবাজদের ঝাড়ু-জুতা দিয়ে পিটিয়ে বের করে দেওয়া দরকার। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে, দেশের ৭০% সমস্যা অটোমেটিক সমাধান হয়ে যাবে। সরকারের উচিত দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারে আরও সর্তক হওয়া। দেশের সমস্ত দুর্নীতিবাজদের অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে সরকারি কোষাগারে রাখা। সেই অর্থ দিয়ে দেশের কল্যানে কাজ করা। আজকে চীন কোথায় চলে গেছে! শিল্প কলকারখানায় কত উন্নত। আর আমরা সামান্য একটা সেলাই মেশিনের সুঁই বানাতে পারি না। সামান্য সুঁই ইন্ডিয়া থেকে আনতে হয়, চায়না থেকে আনতে হয়। কেন? কেন?
বঙ্গবন্ধুর ব্যাক্তিত্ব আমার দুর্দান্ত লাগে।
তার হাঁটা, কথা বলার স্টাইল, পাইপ টানার স্টাইল- আমাকে মুগ্ধ করে। আমাকে মুগ্ধ করে তার কালো মোটা ফ্রেমের চশমা। এক কথায় তিনি অসাধারন। তার তুলনা হয় না। তিনি এই বাংলায় জন্মেছিলেন বলে আজ আমরা স্বাধীন। তিনি সারা জীবন দেশ আর দেশের মানুষকে ভালবেসে গেছেন। নিজের পরিবারকে সময় দেননি। বেশির ভাগ সময়ই তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। ত্যাগ করতে হয়েছে নিজের আনন্দ, আরাম, আয়েশ। এরকম রাজনীতিবিদ আমাদের দেশে আর একজনও নেই। আমার বাবা ছিলো বঙ্গবন্ধুর মহা ভক্ত। ছোটবেলায় দেখেছি আমাদের বসার ঘরে আব্বা বঙ্গবন্ধুর বিশাল এক ছবি টানিয়ে রেখেছে? শুধু আমার বাবার না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমার বুকেও। কোটি বাঙালীর অন্তরে সে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


