somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরি - ১৪১

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

রাতের ঘুমটা আমার জন্য আনন্দদায়ক।
আমি করি কি, এসি ছেড়ে দেই। সেই সাথে ফ্যান ছেড়ে দেই। পুরো ঘর মুহূর্তের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে যায়। এই ঠান্ডাটা আমি উপভোগ করি। ঘরে সারারাত নীল একটা আলো জ্বলে। মায়াবী একটা পরিবেশ। রাত একটায় আমি বিছানায় যাই। বালিশে মাথা রাখা মাত্রই গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই। অদ্ভুত এবং ফালতু সব স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন গুলো অতি সাধারণ হলেও, চ্যালেঞ্জ থাকে। আমি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করি। তাতে ঘুম আরো গাঢ় হয়। ভোরের দিকে আসে সবচেয়ে সুন্দর ঘুম। বিছানা থেকে উঠতে মন চায় না। কিন্তু আমাকে ভোর সাড়ে ছ' টায় ঘুম থেকে উঠতে হয়। কারণ আমার কন্যার স্কুল আছে। কন্যাকে স্কুলে আমি নিয়ে যাই না। কন্যার মা কন্যাকে স্কুলে নিয়ে যায়। কিন্তু কন্যার ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ হচ্ছে, আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা।

আজ ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে।
আমি সকাল সাত টায় বাসা থেকে বের হয়েই দেখি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ কালো হয়ে আছে। আমাকে কাজে বের হতে হবে। আমার একটা অভ্যাস হলো, যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া। ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক। তাতে আমার কি? আমি সঠিক সময়ে অফিসে যাবোই। সকাল সাত টায় দেখি রাস্তায় লম্বা জ্যাম। এরমধ্যে বিভিন্ন রাস্তায় হাটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। গাড়ি বাস সিএনজি, রিকশা সব মিলিয়ে গজব অবস্থা। বলা হয়ে থাকে, বৃষ্টি হলো রহমতের পানি। রহমতের পানির কারণে ঢাকায় গজব অবস্থা। বেশ কিছু বাস, গাড়ি, সিএনজি উল্টো পথ দিয়ে এসে একদম গিট্রু লাগিয়ে দিয়েছে। আমি হাটু পানি মাড়িয়ে হাটছি। পানির মধ্যে হাটা বেশ কষ্টকর। সামনের দিকে যেতে আমার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। উল্টো দিক থেকে আসা এক বাস ড্রাইভার কে গালি দিয়ে বসলাম।

বাস ড্রাইভারের সাথে ঝগড়া করে মেজাজ খুব খারাপ হয়েছে।
এদিকে অফিস টাইম পেরিয়ে গেছে। গত এক বছরের মধ্যে আজই আমি প্রথম সময় মতো অফিস যেতে পারলাম না। দেরী যখন হয়েছে, কিছু আর করার নেই। নোংরা পানি মাড়িয়ে টানা এক ঘন্টা হাটছি। জামা কাপড় বৃষ্টিতে ভেজা। মেজাজ অত্যাধিক খারাপ। এক দোকানে চা বিক্রি করছে। মনে পড়লো সকাল থেকে কিছুই খাইনি। সুরভি চা নাস্তা দিয়েছে, অফিসে দেরী হয়ে যাবে তাই নাস্তা খেলাম না। এক কাপ চা-ও খেলাম না। দোকানদার চা দিলো। চা নয়, যেন চিনির সিরাপ। এক কাপ গরম গরম চিনির সিরাপ খেয়ে নিলুম। মনে মনে কয়েকটি গালি দিল্যম। ভয়াবহ গালি। সভ্য সমাজে এরকম গালি কাউকে দেওয়া যায় না। আমি গালি শিখেছি রাস্তাঘাটে মানুষের মুখে শুনে শুনে। রাস্তায় বের হলেই, শোনা যায় কেউ কাউকে কুৎসিত গালি দিচ্ছে।

আজকাল সময়ের বড্ড অভাব।
কত কিছু লেখার জমে আছে। লিখতে পারছি না। খুব ক্লান্ত থাকি। রাতে বাসায় ফিরে খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝে মাঝে তো কন্যার সাথে কথা পর্যন্ত হয় না। ফ্রিজ খালি। সামান্য ডিম পর্যন্ত ফ্রিজে নেই। বাজারে যাওয়া হচ্ছে না। বাসার সদস্যদের জন্য বাজার করা আমার খুবই পছন্দের কাজ। শুনেছি বাজারে এখন প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিওতে দেখলাম ফেনী-নোয়াখালি বন্যা হয়েছে। লোকজন মাছ ধরছে। জাল ফেললেই নানা রকম মাছ জালে ধরা পড়ছে। আমার ইচ্ছে করছে, নিজের হাতে মাছ ধরি। একটা বড় মাছ ধরে বাসায় নিয়ে যাই। সুরভি মাছ দেখে বলবে, এত বড়!! যাও যাও বাজার থেকে কেটে আনো। আমার কন্যা ভীষণ অবাক হয়ে বলবে, বাবা তুমি এত্ত বড় মাছ কিভাবে ধরলে!! তখন আমি ভাব নিবো। কঠিন ভাব।

বহু বছর ধরে ডাক্তারের কাছে যাই না।
ইদানিং মনে হচ্ছে ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী। চোখে দিন দিন ঝাপসা দেখছি। রাত শুরু হলেই শুরু হয় পা চাবানো। অবশ্য পা চাবানো আমাদের বংশগত রোগ। দাদাকে দেখতাম, সারাক্ষণ কেউ না কেউ পা টিপে দিচ্ছে। আব্বাকে দেখতাম আমার কোনো চাচাতো ফুপাতো ভাইরা পা টিপে দিচ্ছে। আমাকে কে পা টিপে দিবে? যখন পা চাবায় তখন কেউ পা টিপে দিলে আরাম হয়। আরাম দেবে কে আমায়? সবাই শুধু দুখ দিতে ব্যস্ত। দুখ কষ্ট পেতে পেতে বুকটা ঝাঝরা হয়ে গেছে। আমার শিক্ষক বলেছিলেন, স্বর্ন যত পুড়ে তত খাটি হয়। ঠিক তেমনি মানুষ যত কষ্ট পায় তত খাটি হয়। খাটি মানুষের আমাদের বড় অভাব। আমাদের আছে শুধু ইতর মানুষ। চারিদিকে প্রচুর ইতর। এত এত ইতরের মাঝে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৯
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কট করে নাই কারণ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩


সেখানে একজন আসিফ নজরুল ছিলেন না, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন না! পুরো বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবলের উন্মাদনা। যে সব দেশ মাঠে লড়ছে আর যারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি উত্তেজনা সবখানেই সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×