somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রবীন্দ্রনাথের গল্প 'মধ্যবর্তিনী'র রিভিউ

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্বামী স্ত্রী একই খাটে শুয়ে আছে।
মাঝখানে অনেকখানি জায়গা খালি পড়ে আছে। অর্থ্যাত দূরত্ব! দুজন মানুষ পাশাপাশি শুয়ে আছে। তাদের মধ্যে ভালোবাসা নেই। এরকমই একটা গল্প 'মধ্যবর্তিনী'। লিখেছেন গ্রেট রবীন্দ্রনাথ। যখন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দুরত্ব বেড়ে যায় তখন দুজন একই খাটের দুপাশে ঘুমায়। দিনের পর দিন একই অবস্থা। কেউ কাউকে ডাকে না। ফলাফল দূরত্ব বাড়তেই থাকে। নাকি স্বামী স্ত্রীর দুজনের মাঝে একটি অদৃশ্য এক শিশু শুয়ে আছে! যে শিশু দুনিয়াতে এসেই মারা গেছে! ধৈর্য ও ভালোবাসা রবীন্দ্রনাথের নারী চরিত্রের এক অনন্য নিদর্শন। 'মধ্যবর্তিনী' গল্পে রবীন্দ্রনাথ বুঝাতে চেয়েছেন, অতি আবেগ ভালো নয়। এবং স্বামী স্ত্রীর মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যাক্তি প্রবেশ করলেই ক্যাচাল বাঁধে।

স্বামী রোমান্টিক না হলে সমস্যা।
আসলে স্বামী স্ত্রী দুজনকেই রোমান্টিক হতে হয়। রবীন্দ্রনাথের নারীরা সমাজের অন্তর্ভুক্ত যেকোনো অন্যায়ের শিকার হয়। কোনোভাবেই সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ তারা করতে পারে না। মুখ বুঝে সহ্য করে নেয় সব। রবীন্দ্রনাথ যে যুগে জন্মেছিলেন সেই যুগটা নারীদের পক্ষে ছিলো না। আজও কি নারীদের পক্ষে সমাজ? আফগানিস্তানে নারীদের হাড় না ভাঙ্গা পর্যন্ত মারতে বলা হয়েছে। হয়তো মুসলমানদের ধর্ম এরকম'ই। কোনো ধর্মই নারীদের যথাযথ স্বাধীনতা দেয়নি। এক মহিলা বিজনেস করতেন। নবীজি তাকে বিয়ে করে ঘরে বন্ধী রাখলেন। সেই নারীর ব্যবসা করা বন্ধ হয়ে গেলো। যাইহোক, রবীন্দ্রনাথ এই গল্পে বলতে চেয়েছেন, নারী-পুরুষের ভালোবাসায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তি (এখানে শৈলবালা) এসে কীভাবে 'মধ্যবর্তিনী' বা ব্যবধান তৈরি করে।

যাইহোক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'মধ্যবর্তিনী'তে ফিরে যাই।
গল্পটা মনস্তাত্ত্বিক। গল্পের তিনটা চরিত্র হচ্ছে, নিবারণ (স্বামী), হরসুন্দরী (স্ত্রী) ও শৈলবালা (দ্বিতীয় স্ত্রী)। হরসুন্দরী'র বিয়ে হয়েছে। স্বামী স্ত্রী সুন্দর সংসার করছে। একদিন তাদের ইচ্ছা হলো সংসারে সন্তান দরকার। সন্তান ছাড়া সংসারে পরিপূর্নতা আসে না। হরসুন্দরীর সন্তান হয় না। বিয়ের পর সন্তান না থাকার জ্বালা অনেক। পুরুষের চেয়ে নারীর জ্বালা বেশী। এদিকে স্বামী বেচারা সংসারে সন্তান নেই বলে, মন খারাপ করে থাকে। তখন তার স্ত্রী বলে, তুমি আরেকটা বিয়ে করো।

নিবারণ দ্বিতীয় বিয়ে করে শৈলবালাকে।
নিবারণ ছোট বউয়ের সাথে খুবই রংঢং করে। এটা দেখে আড়ালে কাদে বড় বউ হরসুন্দরী। সেই সময় কলকাতায় বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিলো। শৈলবালার চাহিদা অনেক। সে গহনা চায়। শাড়ি চায়। গহনা না পেলে স্বামী তার স্ত্রীর মন পায় না। গহনার টাকা ম্যানেজ করতে গিয়ে নিবারণ অফিসের টাকায় হাত দেয়। অফিস বিষয়টা জেনে যায়। নিবারণ চাকরি হারায়। শেষমেষ নিবারনকে বাড়ি পর্যন্ত ছাড়তে হয়। 'মধ্যবর্তিনী' গল্পটি সাতটি পরিচ্ছদে শেষ হয়। শৈবালা মারা যায়।

স্বামী চাকরি ফিরে পাবার জন্য দ্বিতীয় স্ত্রীকে বলে-
গহনা দাও। বিক্রি করে অফিসের টাকা দিয়ে দেই। তাহলে হয়তো চাকরিটা ফিরে পেতে পারি। এবং পরে তোমাকে ঘহনা আবার গড়াইয়া দিবো। শৈলবালা গহনা দিবে না। নো নেভার। সে সিন্দুকের চাবি পুকুরে ফেলে দেয়। যাইহোক, নিবারণ ম্যাকমোরন কোম্পানিতে চাকরি করতো। শৈলবালা হলো হরসুন্দরীর ছোট বোন, যাকে হরসুন্দরী নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতির চাপে শৈলবালা নিবারণের দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে (সতীন হিসেবে) ঘরে আসে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউনুসনামা-১

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১১

কী করার কথা ছিল তার, আর কী করেছেন তিনি!



প্রফেসর মুঃ ইউনুস!

জুলাই গণঅভ্যূত্থানে হাসিনার পতনের পর ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তির ভিতর ঐক্য ধরে রাখা এবং তাদের সবাইকে নিয়ে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি বন্ধ হোক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৩


এই দেশে বিপ্লব করা খুবই কঠিন । কিন্তু বিপ্লব করার পর শান্তিতে থাকা আরোও কঠিন। কারণ রাষ্ট্র বিপ্লবীদের কদর বোঝে না। তাই আমরা আজকে দাবি জানাতে এসেছি :... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানের বেপারী খালকেটে নৌকা আনলে ধান লুট হতে পারে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৬



জুলাই যোদ্ধা নৌকা ডুবিয়ে ভেলায় চড়িয়ে ধান ভাসিয়েছে।এখন ধানের মালিক খালকেটে নৌকা আনলে নৌকার মাঝি নৌকায় করে ধান লুট করে নিয়ে যেতে পারে।প্রসঙ্গঃ সজিব ওয়াজেদ জয় একত্রিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী মরমী সাধনা সুফীবাদ নিয়ে একটি ধারাবাহিক লেখা***** ১ম পর্ব : এক মহিয়সি সুফী সাধিকা নারী রাবিয়া বসরী (রহ.)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩


রাবিয়া বসরী (রহ,) কে নিয়ে আলোচনার পুর্বে সুফিবাদ কী এবং সুফিবাদের ইতিহাস নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করে নেয়া হল। (এখানে উল্লেখ্য এ পোস্টে দেয়া রাবিয়া বসরী(র,) সম্পৃক্ত সবগুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ সরল জীবনযাপন করা ভীষণ জরুরী

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



কমনসেন্স বাড়ানো কিচ্ছু নেই।
এটা বয়সের সাথে সাথে অটোমেটিক বাড়তে থাকবে। জন্মের পর থেকেই মানুষ শিখতে থাকে। আমি এটুকু বয়সে এসে বুঝতে পেরেছি, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×