
জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো।
চমৎকার একটা গান। ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথের গান আমার ভালো লাগতো না। মা যখন রবীন্দ সংগীত শুনতো আমার যথেষ্ট বিরক্ত লাগতো। আর এখন রবীন্দ্রনাথের গান আমায় মুগ্ধ করে! আনন্দ দেয়। ব্যথিত করে। ভাবায়। ভীষন্ন করে। আজ সকালে ঘুম থেকে ''আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতে'' এই গানটা দশবার শুনলাম। যত শুনি ততই ভালো লাগে। গানের কথা গুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। গান দুটা আপনারা শুনে দেখুন, ভালো লাগবে। একদম বুকের গভীরে নাড়া দিবে। আজ আমি গান নিয়ে লিখবো না। মানুষ গান শুনিবে তার নিজ পছন্দ অনুযায়ী।
একদিন অনেক ভোরে ঘুম ভেঙ্গেছে।
আমি ছাদে গেলাম। চারিদকে কুয়াশা। কলকাতার রাস্তা দেখছি। হলুদ ট্যাক্সি ক্যাব দুই একটা চলছে। হাতে চলা রিকশাও দেখলাম। সুরভিকে রুমে রেখে আমি নিচে নামলাম। উদ্দেশ্য কলকাতার রাস্তায় একাএকা হাটবো। আমি হাঁটতে হাঁটতে মেট্রো রেলের কাছে চলে গেলাম। ফুটপাতে এক লোক পত্রিকা বিক্রি করছে। আমি আনন্দবাজার পত্রিকা কিনলাম। চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। চা খাবো, পত্রিকা পড়বো। চায়ে চুমুক আর পত্রিকা পড়া। দারুন আনন্দের ব্যাপার। যাইহোক, কলকাতার মেট্রোরেল দেখে খুশি হলাম। তখন আমাদের দেশে মেট্রোরেল হয়নি। সুরভি সাথে নেই বলে, আমার মেট্রোরেলে উঠা হলো না।
আমি দেখলাম অনেক ছেলেমেয়ে সুন্দর জামা কাপড় পরে অফিসের দিকে ছুটছেন।
দৃশ্যটা দেখে ভালো লাগলো। সবার মধ্যে তাড়াহুড়ো। ব্যস্ততা। এখন আমাদের দেশে মেট্রোরেল আছে। আমাদের দেশেও ছেলেমেয়েরা অফিসের যাওয়ার জন্য মেট্রোরেলে যাতায়াত করে। তাদের দারুন ব্যস্ততা। কিন্তু কলকাতার মেট্রোরেলে সেই অফিসগামী ছেলেমেয়েদের ছুটে চলার দৃশ্য গুলো আজও আমার মনে আছে। যাইহোক, ভায়ে চুমুক দিতে দিতে আনন্দবাজার পত্রিকায় একটা নিউজ আমার চোখে পড়লো। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে ছোট গ্রাম! গ্রামের নাম পটলপুর। সেই গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ১৭ জন। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, পটলপুর গ্রামে যাবো। নিজ চোখে দেখে আসিবো। পটলপুর যাওয়ার পথে একটা নদীর দেখা পাওয়া যায়। নদীর নাম ময়ূরাক্ষী।
সুরভিকে চমকে দেওয়ার জন্য নিয়ে গেলাম- পটলপুর গ্রামে।
প্রথমে যেতে হয়েছিলো বীরভূম। তারপর বাস, অটো, রিকশা, মাটির রাস্তা। ভাঙ্গা রাস্তা। জঙ্গল এবং অনেক গুলো গ্রাম পার হতে হয়েছিলো। পথ আর শেষ হয় না। আমি আর সুরভি ক্লান্ত। বিধ্বস্ত। আসলে না চিনলে যা হয়। পটলপুর গ্রামের পাশের গ্রামে গিয়ে একজনের কাছে জানতে চাইলাম- পটলপুর গ্রাম কোথায়? সেই লোক অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল, পটলপুর? এ নামে গ্রাম তো পুরো পশ্চিমবঙ্গে নাই। মনে মনে বললাম, গাধা কয় কি? যাইহোক, ভরসন্ধ্যায় আমি আর সুরভি পটলপুর গ্রামে পৌছাই। কোনো পাকা বাড়ি নাই। হাতে গোনা ৪/৫ টাক বাড়ি আছে। সেগুলো মাটির বাড়ি। অগোছালো একটা গ্রাম। তবে গ্রামে অনেক গাছপালা আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় জঙ্গল।
জুলাই আন্দোলনের সময় জুলাই যোদ্ধারা অনেক পুলিশ হত্যা করেছে।
এদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ছাড় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এরকম অন্যায় আরো ঘটবে। এখন বিএনপির উচিৎ কথিত জুলাই যোদ্ধাদের ধরে ধরে সাইজ করা। যে কাজ করা উচিৎ ছিলো ইউনুস সাহেবের। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারেক সাহেব ৩২ নম্বর যারা ভেঙ্গেছে তাদের বিচার করবেন। মেট্রোরেল যারা ভেঙ্গেছে, তাদেরও বিচার করবেন। থানায় যারা আগুন দিয়েছে, তাদের বিচার করবেন। পুলিশের অস্ত্র লুটকারীদের বিচার করবেন। নইলে তারেক জিয়া জনগনের সমর্থন পাবেন না। ইউনুসের আমলে অনেক অন্যায় হয়েছে, এই সমস্ত অন্যায়কারীদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। এবং আওয়ামীলীগের দোসর নাম দিয়ে অনেক সাধারণ মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, এদের মুক্ত করা প্রয়োজন। বিনা কারণে মানুষ কেন জেলে থাকবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




