somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কুকুর হইতে সাবধান

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ মানুষকে কুকুর কামড় দেয়।
অর্থ্যাত বছরে প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ কুকুরের কামড় খায়। কুকুর কামড় দেয় শিশু কিশোরদের সবচেয়ে বেশি। যাদের বয়স ১৫ বছরের নীচে। প্রতি বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ হাসপালাতে যায় কুকুরের কামড় খেয়ে, চিকিৎসা নিতে। সত্য কথা বলি- আমি কুকুর ভয় পাই। ছোটবেলায় একবার আমাকে কুকুর তাড়া করেছিলো। আমি স্কুলে যাচ্ছিলাম। আমি দৌড়ে ভালো বলে কুকুর আমাকে সেদিন কামড় দিতে পারেনি। যাইহোক, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুকুর আছে আমেরিকাতে। আমেরিকার লোকজন কুকুর ভালোবাসে। পৃথিবীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভারতে। সব ধরনের কুকুরই মূলত নেকড়ের বংশধর। ৪০ হাজার বছর আগে ইউরোপে নেকড়ে থেকে কুকুরের বিবর্তন ঘটে।

গত কয়েক বছরে ঢাকায় কুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
এটা খুবই চিন্তার বিষয়। সম্ভবত সিটি করপোরেশন কুকুর নিধন বন্ধ রেখেছে। আগে দেখতাম, সিটি করপোরেশনের লোকজন কুকুর ধরে ইনজেকশন দিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতো। কুকুর লাভাররা আপত্তি করাতে এখন কুকুর নিধন হয় না। তাছাড়া কুকুর ধরতে গেলেই একদল লোক আন্দোলন শুরু করে। মানব বন্ধন করে। যারা কুকুরের জন্য আন্দোলন করে, তারা রাস্তার কুকুর গুলোকে কেন নিজেদের বাসায় নিয়ে যায় না? ঢাকা শহরের প্রতিটা অলিতে গলিতে অসংখ্য কুকুর। কুকুর অনেক গুলো করে বাচ্চা দেয়। ঢাকা শহরের যে কোনো এলাতেই যান না কেন, অনেক গুলো কুকুর দেখতে পাবেন। কিছু কুকুর অতি হিংস্র হয়। কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক হয়। জলাতঙ্ক খুবই ভয়াবহ রোগ। জলাতঙ্ক রোগী আমি দেখেছি।

ঢাকা শহরের কুকুর গুলোর জন্য আমার মায়া হয়।
এরা ফুটপাতে চায়ের দোকানের আশেপাশে ঘুরঘুর করে। কেউ কেউ তাদের রুটি বা বিস্কুট খেতে দেয়। রাস্তার কুকুর গুলোর খুব করুন দশা। কেউ হয়তো গায়ে গরম পানি ঢেলে দিয়েছে, আবার কেউ হয়তো লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। ক্ষত বিক্ষত শরীর। ঘা হয়ে গেছে। ঢাকায় ল্যাংড়া কুকুরের সংখ্যা অনেক। অনেক সময় রাস্তায় কুকুর শুয়ে থাকে। গাড়ি যাওয়ার সময় কুকুর পায়ের উপরে চাকা উঠিয়ে দিয়েছে, কুকুরের বিকট চিৎকার। চিৎকার ড্রাইভারের কানে পৌছায় না। তাছাড়া রাস্তার কুকুর নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। রাস্তার কুকুর গুলোর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অনেককে দেখেছি আগ্রহ নিয়ে কুকুর মারে। যদিও পশুদের জন্য বাংলাদেশে একটা আইন আছে। মানুষ আইনের ধারধারে না। মানুষ আইন মানলে কারাগারে এত এত লোক থাকতো না। খুন, ধর্ষন, চুরী-ডাকাতি হতো না।

আমাদের গলিতে অনেক গুলো কুকুর।
এক বছর আগেও এত কুকুর ছিলো না। দিনের বেলা সব গুলো কুকুরকে একসাথে দেখা যায় না। কিন্তু রাতের বেলা কুকুর গুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। আমি বাসায় ফিরি অনেক রাতে। কুকুর গুলো শুয়ে বসে থাকে। আমি ভয়ে ভয়ে গলিতে পা রাখি। একটা কুকুর যদি ঘেউ ঘেউ করে, তাহলে সব গুলো কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠবে। এবং এদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী কুকুরটা সবার আগে আমাকে কামড় দেবে! আমি সিনজি থেকে নামা মাত্রই আমাকে দেখে কুকুর গুলো নড়ে চড়ে উঠে। লেজ নাড়ে। তখন আমি বলি, আমি অন্য এলাকার না। এই গলিতেই আমার বাসা। দয়া করে আমাকে কামড় দিও না। আমি মন্দ লোক নই। তোমরা তোমাদের মতো থাকো। আমি তোমাদের বিরক্ত করিব না। আল্লাহর কসম।

মাঝে মাঝে ভিডিওতে দেখি একজন কুকুরপ্রেমী-
এক লোক বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে অসুস্থ কুকুর খুজে বেড়ায়। তারপর অসুস্থ কুকুরদের চিকিৎসা করে। এটা অবশ্যই ভালো কাজ। মহৎ কাজ। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ''জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"। কিন্তু কুকুর অনেক দূর্ঘটনা ঘটায়। কুকুরের লালায় থাকে মারাত্মক সব জীবানু। নানান রকম রোগ ছড়ায়। অনেক বাচ্চা কুকুরের জন্য রাস্তায় বের হতে ভয় পায়। স্কুলে যেতে ভয় পায়। সিটি করপোরেশনের উচিৎ কুকুর নিধন করা। এমন কিছু করা যেন কুকুরদের সংখ্যা আর না বাড়ে। রাস্তার কুকুর গুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। বেওয়ারিশ কুকুর গুলোকে ইনজেকশন দেওয়া জরুরী। কুকুরের সবচেয়ে খারাপ দিক এরা দিনের বেলা সবার সামনে মিলিত হয়। রাস্তা দিয়ে ছোট বড় কত রকম মানুষ যাতায়াত করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×